৩ মাস ধরে নিখোঁজ মাদ্রাসা ছাত্র শহিদুল, সুন্দরগঞ্জের চাঁন মিয়াকেও পাওয়া যাচ্ছেনা

আপডেট : ১৫ মার্চ ২০১৮, ১৮:৪৫
বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার রায়েন্দা ইউনিয়নের মালিয়া রাজাপুর গ্রামের মৃত ইব্রাহিম হাওলাদারের ছেলে শহিদুল ইসলাম (১৫) ঢাকার একটি মাদরাসা থেকে নিখোঁজ হয়েছে। তিন মাস ধরে তার কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছেনা। মাদরাসা কর্তৃপক্ষ এব্যাপারে কিছুই জানেনা বলে পরিবারকে জানিয়ে দিয়েছে। এ অবস্থায় নিখোঁজ ওই ছাত্রের পরিবার চরম উৎকণ্ঠায় রয়েছে।
 
পরিবার সূত্রে জানা যায়, ঢাকার উত্তর শাহজাহানপুর এলাকায় রেলওয়ে হাফিজিয়া সুন্নীয়া আলিম মাদরাসা ও এতিমখানায় ৬ মাস আগে শহিদুল ইসলামকে হাফেজি পড়ার জন্য ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে গত ১২ জানুয়ারি সে নিখোঁজ হয়। মাদরাসা কর্তৃপক্ষ এব্যাপারে কোনো সদুত্তর দিতে পারছেনা। বহু খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে এক মাস আগে তার বোন তানিয়া বেগম বাদী হয়ে শাহজাহানপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করেছেন।
 
নিখোঁজ শহিদুলের মা নাছিমা বেগম জানান, তার ছেলে অত্যন্ত মেধাবী। তাকে প্রথমে ঢাকার অন্য একটি মাদরাসায় ভর্তি করা হয়েছিল। সেখান থেকে ফুঁসলিয়ে মাদরাসার অধ্যক্ষ মো. রফিকুল ইসলাম তার মাদরাসায় ভর্তি করান। কিন্তু ছেলে নিখোঁজ হওয়ার পর তিনি কিছুই জানেনা বলছেন। নাছিমা বেগম ও তার পরিবারের ধারণা, নিখোঁজ হওয়ার পেছনে অধ্যক্ষের হাত রয়েছে। তা না হলে এতোদিনে তাকে খুঁজে পাওয়া যেতো। ছেলেকে ফিরে পেতে প্রশাসনের সহযোগীতা দাবি করেছেন নাছিমা বেগম।
 
এ ব্যাপারে মাদরাসার অধ্যক্ষ মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, শহিদুল হেফজ বিভাগের ছাত্র। গত ১২ জানুয়ারি সকালে সে তার বোনের বাসায় যাবার কথা বলে বের হয়। পরবর্তীতে ফিরে না আসায় তার পরিবারকে জানানো হয়েছে। প্রায় দুই যুগ ধরে আমি এ মাদরাসায় অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। কিন্তু এধরণের ঘটনা এই প্রথম। আমি কেনো কেউই চায়না তার প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুন্ন করতে। আমাকে দোষারোপ করাটা তাদের ভুল। মাদরাসার পক্ষ থেকেও তাকে খোঁজা হয়েছে কিন্তু কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। 
 
এদিকে ইত্তেফাকের সুন্দরগঞ্জ(গাইবান্ধা) সংবাদদাতা রাশিদুল আলম চাঁদ জানিয়েছেন, উপজেলায় ৬ দিন ধরে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র  চাঁন মিয়ার সন্ধ্যান মিলছে না। 
 
জানা গেছে, উপজেলার কাইম চরিতাবাড়ি গ্রামের আব্দুল গণির ছেলে ও চরিতবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র চাঁন মিয়া গত ১০ মার্চ সন্ধ্যা আনুমানিক ৬ ঘটিকার সময় পার্শ্ববর্তী বিবিসির মোড় নামক বাজারে খরচ করতে গেলে আর ফিরে আসেনি। 
 
তার পিতা-মাতা ও আত্মীয় স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে অনেক খোঁজ খবর নিয়েও তার কোন সন্ধ্যান করতে পারেননি। এ নিয়ে গতকাল ১৫ই মার্চ বৃহস্পতিবার তার পিতা আব্দুল গণি মিয়া বাদী হয়ে সুন্দরগঞ্জ থানায় ৫৮৮/১৮নং জিডি করেন। ছেলেটির পড়নে ছিল কালো শার্ট ও প্রিন্টের ফুলপ্যান্ট।
 
ইত্তেফাক/রেজা