সখীপুরে বনের ভেতর ৪৮ করাতকল!

আপডেট : ১৮ মার্চ ২০১৮, ০০:৫৬

সখীপুর বন বিভাগের তিনটি রেঞ্জের ১১টি বিটের আওতায় গড়ে উঠেছে ৪৮টি করাতকল! সংরক্ষিত শাল-গজারি ও সামাজিক বনায়নের ভেতর, কোথাও বন ঘেঁষে আবার কোথাও বন কর্মকর্তার কার্যালয়ের কাছেই এসব কল স্থাপিত হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে—ওইসব করাতকলে দিন-রাত চেরাই করা হচ্ছে শাল-গজারিসহ সংরক্ষিত বনাঞ্চলের গাছ। ফলে দিন দিন উজাড় হচ্ছে বন, ধ্বংস হচ্ছে প্রকৃতি ও পরিবেশ।

বহেড়াতৈল ইউপি সাবেক চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান মঞ্জু বলেন, ‘১০ বছর আগেও এ এলাকায় কত গজারি গাছ ছিল। সন্ধ্যা হলেই শেয়ালের হাঁক-ডাক শোনা যেত। বনে অনেক পশু-পাখি দেখা যেত। এখন বনের ভেতর অবৈধ করাতকল গড়ে ওঠায় দিন দিন শাল-গজারি বন বিরান হয়ে যাচ্ছে আর পশু-পাখিও কমে গেছে।’

সখীপুর পৌরসভার বৈধ করাতকল মালিক সমিতির সভাপতি জিন্নত আলী বলেন ‘অবৈধ করাতকলগুলোয় প্রতিদিন শাল-গজারি চেরাই হচ্ছে। ফলে সখীপুরের ঐতিহ্য শাল-গজারি এখন বিরান হওয়ার পথে।’

সখীপুর পৌরসভা এলাকার করাতকল মালিক ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর খোরশেদ আলম, ওই ওয়ার্ডের আবদুস সামাদ, ৭ নম্বর ওয়ার্ডে উপজেলা কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সাধারণ সম্পাদক মীর জুলফিকার শামীম, একই ওয়ার্ডে উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মীর শামসুল আলম, ১ নম্বর ওয়ার্ডের হাফিজ উদ্দিন, ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও কালিয়া ই্উনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জামাল হোসেন বলেন, ‘পৌরসভার ভেতরে করাতকল স্থাপনের আইন রয়েছে। আমরা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লাইসেন্স চেয়ে আবেদন করেছি। আবেদন যাচাই-বাছাই চলছে।’

বহেড়াতৈল রেঞ্জের কর্মকর্তা আতাউল মজিদ বলেন, ‘এ মাসের শুরুতে টাঙ্গাইল ডিএফও কার্যালয়ের মাসিক সভায় অবৈধ করাতকলগুলো উচ্ছেদে অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।’

টাঙ্গাইল বনবিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক (দক্ষিণ) সাজ্জাদুজ্জামান বলেন, ‘অবৈধ ৪৮টি করাতকলের মধ্যে ১৯টি কলের মালিকরা তাদের করাতকলের লাইসেন্স চেয়ে ২০১৬ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর উচ্চ আদালতে আবেদন করেন। ওই আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত প্রথমে ছয় মাস ও পরে আরো এক বছর ওই করাতকলের মালিকদের হয়রানি না করার জন্য বন কর্মকর্তাদের আদেশ দেন। কিন্তু ২০১৭ সালের ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে ওই ১৯ করাতকল মালিকের আবেদন খারিজ করে দেয় আদালত। ফলে এখন ওই ১৯টিসহ মোট অবৈধ ৪৮টি করাতকল মালিকের বিরুদ্ধে মামলা করা ও উচ্ছেদ অভিযান চালানোর ক্ষেত্রে আর কোনো বাঁধা নেই। এসব অবৈধ করাতকল উচ্ছেদের দাবি জানিয়ে টাঙ্গাইল বিভাগীয় বন কর্মকর্তার (ডিএফও) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন সখীপুর পৌরসভার বৈধ করাতকল মালিক সমিতি।’

তিনি আরো বলেন, ‘সংশোধিত বন আইনে সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ১০ কিলোমিটারের মধ্যে করাতকল স্থাপন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর সর্বশেষ অভিযানে সাতটি করাতকল উচ্ছেদ করা হয়েছিল। শিগগিরই আবার অবৈধ করাতকলগুলো উচ্ছেদে ট্রাস্কফোর্স (ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ ও বন বিভাগ সমন্বিত) গঠন করে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে।’

টাঙ্গাইল বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) হুসাইন মুহম্মদ নিশাদ ছুটিতে থাকায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

ইত্তেফাক/নূহু