বাঁধে ওঠার অপরাধে তাহিরপুরের শিশু ইয়াহিন মিয়ার (৭) ডান হাতের চারটি আঙ্গুল কেটে দেবার ঘটনায় অভিযুক্ত পিআইসির সভাপতি ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি অদুদ মিয়ার ছোট ভাই আলম মিয়াকে (৩০) আটক করেছে পুলিশ। এদিকে রবিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে গিয়ে সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার শিশুর মা দিলরাজ বেগম ও শিশু ইয়াহিনকে শান্তনা দিয়ে বলেন, ‘অভিযুক্ত ব্যক্তি যত শক্তিশালী হোক, তাঁকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।’
পুলিশ ইয়াহিনের পাশে রয়েছে জানিয়ে উপস্থিত গণমাধ্যম কর্মীদের পুলিশ সুপার বলেন, ‘মর্মান্তিক এ ঘটনার বিষয়ে বারবার খোঁজ নিচ্ছেন মাননীয় মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী, পুলিশ প্রধান ও ডিআইজি মহোদয়। তিনি মা দিলরাজ বেগমের হাতে ইয়াহিনের চিকিৎসার জন্য ২০ হাজার টাকা তুলে দেন এবং ইয়াহিনের চিকিৎসার পুরো ব্যয় সুনামগঞ্জ পুলিশ বহন করবে বলে জানান।
এদিকে, স্থানীয় সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন রতন রবিবার সন্ধ্যায় শিশুর গ্রামের বাড়ি সুলেমানপুরে গিয়ে স্বজনদের শান্তনা দেন এবং ইয়াহিেনর চিকিৎসার জন্য ১০ হাজার টাকা তুলে দেন।
রবিবার রাতে তাহিরপুর থানা পুরিশ পার্শ্ববর্তী বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার পলাশবাজার এলাকা থেকে আলম মিয়াকে আটক করে। আটককৃত আলম মিয়া সুলেমানপুর গ্রামের জমির উদ্দিনের ছেলে।
তাহিরপুরের মহালিয়া হাওরপাড়ে ময়নাখালি বাঁধের ওপর উঠা ও বাঁধ থেকে গড়িয়ে পড়ার সময় বাঁধের কিছু ক্ষতি হওয়ায় সুলেমানপুর গ্রামের শিশু ইয়াহিন মিয়ার ডান হাতের ৪ টি আঙ্গুল কেটে দেয় পিআইসির (প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি) সভাপতি ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সভাপতি অদুদ মিয়া। আহত ইয়াহিন মিয়া সুলেমানপুর গ্রামের শাহানুর মিয়ার ছেলে। সে শাহজালাল জামেয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার শিশু শ্রেণির ছাত্র।
তাহিরপুর উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক হাফিজ উদ্দিন এ ঘটনার বিচার দাবি করে জানিয়েছেন, অদুদ মিয়া যুবলীগের কেউ নয়।
ইত্তেফাক/নূহু
