তাহিরপুরে বাঁধে ওঠায় কেটে দেয়া হলো শিশুর আঙুল

আপডেট : ১৯ মার্চ ২০১৮, ২২:২১
বাঁধে ওঠার অপরাধে তাহিরপুরের শিশু ইয়াহিন মিয়ার ডান হাতের চারটি আঙ্গুল কেটে ফেলার ঘটনায় অদুদ মিয়া ও তার সহোদর ভাই আলমকে আসামি করে তাহিরপুর থানায় মামলা হয়েছে।
 
তাহিরপুর থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নন্দন কান্তি ধর জানান, রবিবার রাত ১১টায় ইয়াহিনের বাবা শাহানুর মিয়া বাদী হয়ে অদুদ মিয়া ও তার সহোদর ভাই আলমকে আসামি করে তাহিরপুর থানায় মামলা দায়ের করেছে এবং গ্রেফতারকৃত আলম মিয়াকে সোমবার সকালে সুনামগঞ্জ জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরো জানান, শ্রীপুর দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিশ্বজিত সরকার ঘটনাটি আপোষ মীমাংসা করে দেয়ার লক্ষ্যে তাকে ফোনে অনুরোধ করেন।
 
আহত ইয়াহিন মিয়া উপজেলার সুলেমানপুর গ্রামের শাহানুর মিয়ার ছেলে। সে শাহজালাল জামেয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার প্রথম শ্রেণির ছাত্র। মা দিলরাজ বেগম আহত ইয়াহিনকে নিয়ে বর্তমানে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ডাক্তারের চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার চিকিৎসার পুরো ব্যয়ই সুনামগঞ্জ পুলিশ বহন করবে বলে পুলিশ সূত্রে জানা যায়। সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতন আহত ইয়াহিনের পরিবারকে নগদ ১০ হাজার টাকা প্রদান করেছেন।
 
জানা যায়,গত শনিবার উপজেলার শ্রীপুর দক্ষিন ইউনিয়নের সুলেমানপুর গ্রামের শিশু ইয়াহিন মহালিয়া হাওরে গরুর ঘাস কাটার জন্য গেলে হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধের উপর থেকে গড়িয়ে নীচে পড়লে বাঁধের সামান্য ক্ষতি হয়। বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্মানাধীন ২৮নং প্রকল্পের পিআইসি’র সভাপতি অদুদ মিয়া দেখতে পেলে প্রথমে ইয়াহিনকে পরপর কয়েকবার আছড়িয়ে মাটিতে ফেলে আঘাত করার পর তার হাতে থাকা কাঁচি কেড়ে নিয়ে ইয়াহিনের হাতের ৪টি আঙ্গুল কেটে ক্ষতবিক্ষত করে।
 
এদিকে মহালিয়া হাওরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্মানাধীন ২৮নং প্রকল্পের পিআইসি’র সভাপতি অদুদ মিয়া বর্তমানে মামলা জনিত কারণে বর্তমানে পলাতক থাকায় ফসলরক্ষা বাঁধটি সমাপ্ত করা নিয়ে বিপাকে পড়েছেন প্রকল্পের সাধারন সম্পাদক ও সদস্যরা। তারা প্রশাসনের নিকট দাবী করে বলেছেন কাজের সুবিধার্থে ২৮নং প্রকল্পে নতুন সভাপতি গঠন করার জন্য। প্রকল্পের সাধারণ সম্পাদক সাইদুল ইসলাম বলেন, তার প্রকল্পের সভাপতি পলাতক থাকার কারণে কাজ উঠানো নিয়ে বর্তমানে শঙ্কিত আছেন।
 
এ বিষয়ে শ্রীপুর দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বিশ্বজিত সরকারের কাছে বারবার ফোন দিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।
 
তাহিরপুর থানা অফিসার ইনচার্জ নন্দন কান্তি ধর বলেন, শিশু ইয়াহিনের আহতের ঘটনায় মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হেহের আফরোজ চুমকি তার কাছে ফোনে খোজ খরব নিচ্ছেন এবং দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
 
ইত্তেফাক/কেআই