মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় অতি সম্প্রতি ভূমিহীন ও গৃহহীন বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বাসস্থানের জন্য প্রতিটি উপজেলা সদরে পাঁচতলাবিশিষ্ট ভবণ নির্মানের প্রকল্প গ্রহণ করেছে। প্রকল্পটি ইতিমধ্যেই একনেকের সভায় অনুমোদিত হয়েছে।
কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার মুক্তিযোদ্ধারা ওই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জোর দাবি তুলেছে। পাঁচতলা ভবণের পরিবর্তে স্ব স্ব এলাকায় আগের মতই গৃহহীন মুক্তিযোদ্ধাদের পৃথক বাড়ি নির্মানের পক্ষে মত দিয়েছেন তাঁরা।
মিরপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক কমান্ডার নজরুল করীম ও আফতাব উদ্দিন খান অভিন্ন সুরে জানান, ইতিপূর্বে প্রতি গৃহ ও ভুমিহীন মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ৮ লাখ টাকা ব্যয়ে যে বাড়ি নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে সেটাই ছিল যুক্তিযুক্ত। বর্তমানে উপজেলা সদরে ৫তলা বিশিষ্ট ভবণ নির্মানের সিদ্ধান্ত গৃহিত হওয়ায় মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও হতাশার জন্ম দিয়েছে। মুক্তিযোদ্ধারা একনেকে পাশ হওয়া সিদ্ধান্তটি পুনঃর্বিবেচনা করতে ৪টি দাবি তুলে ধরেছেন।
দাবিগুলো হলোঃ
(১) দুরদুরান্তের ভুমিহীন মুক্তিযোদ্ধারা উপজেলা সদরে এসে ফ্লাটে থাকতে আগ্রহী নয়।
(২) লিফট ছাড়া পাঁচতলা ভবনে একজন বয়স্ক মুক্তিযোদ্ধার জন্য সিঁড়ি বেয়ে ওঠা-নামা খুব কষ্টকর।
৩)গ্রামের প্রত্যন্ত এলাকায় বাস করা মুক্তিযোদ্ধাটি তাঁর এলাকায় বিভিন্ন ধরনের সাধারণ কাজ করে জীবন নির্বাহ করতো, উপজেলা সদরে নতুনভাবে জীবন গড়া তাদের জন্য সম্ভব নয়।
৪) বাড়িতে হাঁস, মুরগী, গরু ও ছাগল পালন করা যেত কিন্তু ফ্লাটে তা সম্ভব হবে না।
তাই মুক্তিযোদ্ধাদের দাবী যাদের জমির অভাবে ইতিপুর্বে বাড়ির অনুমোদন দেয়া যায়নি, তাদের নামে স্ব স্ব এলাকায় ৩/৪ শতক জমি কিনে বাড়ি তৈরি করে দেবার জোর দাবি জানিয়েছেন।
ইত্তেফাক/নূহু
