বরিশাল-ঢাকা নৌ-রুটে বিলাসবহুল লঞ্চগুলোর আগে পৌঁছানোর অসুস্থ প্রতিযোগিতায় মাঝে মাঝেই দুর্ঘটনা ঘটে। দু’টি লঞ্চ পাশাপাশি চলার ক্ষেত্রে একে অপরকে ধাক্কা দিয়ে আগে যাওয়ার প্রতিযোগিতায় নেমে যাত্রীদের বিপদের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত কর্তৃপক্ষ বিআইডব্লিউটিএ’র কাছে অভিযোগ দায়ের করলেও পরবর্তীতে লঞ্চ মালিকরা বৈঠক করে বিষয়টি সুরাহা করায় ব্যবস্থা নেয়া যায় না। অল্পতে পার পেয়ে যাওয়া বিলাসবহুল লঞ্চের মাস্টাররা পরবর্তীতে আরো বেপরোয়া হয়ে উঠে।
দুর্ঘটনা ঘটলে ক্ষয়ক্ষতি বিবেচনায় কয়েকদিন লোক দেখানো বৈঠক শেষে বিষয়টি ধামাচাপা দেয়া হয়। লঞ্চের মালিক, মাস্টারসহ বিআইডব্লিউটিএ’র কর্মকর্তারা দুর্ঘটনাকে সামান্য আখ্যা দিয়ে থাকেন। সামান্য ক্ষতি দেখিয়ে তা মেরামত করার মাধ্যমেই দুর্ঘটনার বিষয়গুলো মিটমাট করা হচ্ছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বরিশাল-ঢাকা নৌ-রুটে নতুন লঞ্চ যুক্ত করা মালিকরা জানান, একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সবকিছু নিয়ন্ত্রিত হয়ে থাকে। ঈদ-কোরবানিসহ বিশেষ মৌসুমে দুর্ঘটনা ঘটিয়ে পার পেয়ে যাচ্ছে প্রভাবশালী মালিকদের লঞ্চ। তারা মন্ত্রণালয়, বিআইডব্লিউটিএ এবং সংগঠনকে ম্যানেজ করে দুর্ঘটনা যত বড়ই হোক না কেন তা সামান্য আখ্যা দিয়েই বিষয়টি মিটমাট করে ফেলছে। এজন্য এ রুটে চলাচলকারী নতুন লঞ্চ মালিকরা সব সময়ই আতঙ্কে থাকে দুর্ঘটনার।
১৭ মার্চ শনিবার রাত পৌনে ৯টায় বরিশাল লঞ্চ টার্মিনাল থেকে পারাবত-১২ লঞ্চটি যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়ার পর রাত পৌনে ১১টায় সুন্দরবন-১১ লঞ্চের ধাক্কায় দুর্ঘটনা কবলিত হয়। পারাবত-১২ লঞ্চের মাস্টার ফারুক হোসেন জানান, পাশের মাঝ বরাবর এ আঘাতে লঞ্চ কাত হয়ে যায়।
এ সময় যাত্রীরা আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে এদিক সেদিক দৌঁড়াতে থাকে। পারাবত-১২ লঞ্চের যাত্রী বেসরকারি চাকরিজীবী ফজলুল করিম জানান, আকস্মিক এ আঘাতে লঞ্চটি প্রচণ্ড ঝাকি খেয়ে কাত হয়ে যায়। সুন্দরবন-১১ লঞ্চটির ঐ অংশ পারাবত-১২ তে যুক্ত হয়ে থাকায় ঝুঁকি বাড়তে থাকে এবং যাত্রীরা ছুটাছুটি শুরু করে।
বরিশাল নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের উপ-পরিচালক আজমল হুদা মিঠু সরকার জানান, ১৭ মার্চের এ ঘটনায় তাদের কাছে কেউ লিখিত কোনো অভিযোগ কিংবা মৌখিক ভাবেও জানায়নি। দুই লঞ্চের মধ্যে প্রতিযোগিতা এবং দুর্ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দুর্ঘটনার পর এক পক্ষ লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। অল্প সময়ের মধ্যে লঞ্চ মালিকরা বৈঠক করে তা সুরাহা করে ফেলে। এতে করে বিআইডব্লিউটিএ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারছে না। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ চলাচল (যাত্রী পরিবহন) সংস্থার চেয়ারম্যান মাহবুব উদ্দিন আহমেদ (বীর বিক্রম), বলেন, যাত্রীবাহী লঞ্চ দুর্ঘটনায় কবলিত হওয়ার পর তিনি কঠোর সিদ্ধান্ত দিলেও লঞ্চ মালিক ও বিআইডব্লিউটিএ’র সদিচ্ছা না থাকার কারণে তা বাস্তবায়িত হয় না। তিনি বারবার তাগিদ দেয়া সত্ত্বেও প্রত্যেক লঞ্চে মাস্টারকক্ষে সকল দুর্ঘটনার কথা লিখে রাখতে বললেও তা মানা হচ্ছে না। দুর্ঘটনার বিবরণ ও শাস্তি লিখে রাখলে মাস্টারগণ সচেতন হতো এবং নিজেরা সংযত হয়ে লঞ্চ পরিচালনা করতো।
ইত্তেফাক/নূহু
