শঙ্খ নদের ড্রেজিংয়ের কাজ এপ্রিলে শুরু

আপডেট : ২০ মার্চ ২০১৮, ১৬:২১
দক্ষিণ চট্টগ্রামের চন্দনাইশ ও সাতকানিয়া উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত শঙ্খ নদের ড্রেজিং ও তীর সংরক্ষণ কাজ আগামী মাসের মধ্যে শুরু করা হচ্ছে। ফলে নাব্যতা হারিয়ে মরতে বসা শঙ্খ তার হারানো যৌবন ফিরে পাবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা। অব্যবস্থাপনার কারণে জেগে উঠেছে ছোট বড় অসংখ্য চর। এতে মৎস্য সম্পদ ও জৈববৈচিত্র সংকটাপন্ন হয়ে পড়েছে।
 
দখল আর জেগে ওঠা চরে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে বর্ষার শঙ্খ। কোথাও দৃশ্যমান চর আর হাঁটু পরিমাণ পানিতে এখন চলাচল করতে পারছে না ইঞ্জিনচালিত নৌকা। বান্দরবানের দুর্গম পাহাড় থেকে উৎপত্তি হওয়া প্রায় আড়াইশত কি.মি. এ প্রমক্তা শঙ্খ এখন নব্যতা হারিয়ে মরতে বসলেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কোন সংরক্ষণ ও সংস্কারের উদ্যোগ নেই। চট্টগ্রামের বহুল আলোচিত শঙ্খ তার দুইতীরে বসবাসরত বাসিন্দাকে বুক উজাড় করে একদিকে সম্পদ দিলেও অন্যদিকে বর্ষায় তার বুক বাসিয়ে পানিতে কেড়ে নিচ্ছে মানুষের নানা রকম সহায় সম্বল। বর্ষাকালে শঙ্খ নদ ভয়ঙ্কর রূপ নেয়। পাহাড়ে প্রবল বর্ষণে নেমে আসা ঢলে নদের পানি বুকে ধারণ করতে না পেরে তখন তার স্রোতধারা তীব্র থেকে তীব্রতর ধারল করে দুইতীর ভাসিয়ে দিয়ে মানুষের ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে। সেই সময় পাহাড় থেকে আসা পলিমাটিতে ক্রমে ক্রমে জেগে ওঠকে শুরু করেছে ছোট বড় অসংখ্য চর। ফলে গ্রীষ্ম মৌসুমে  হ্রাস পায় শঙ্খ নদের গভীরতা। এতে মৎস্য ও জৈববৈচিত্র পড়ে সংকটাবস্থায়। অথচ এক সময় প্রমক্তা শঙ্খ নদের কলকল রবে মুখরিত হয়ে উঠেছিল দক্ষিণ চট্টগ্রামের আনোয়ারা, সাতকানিয়া,চন্দনাইশ ও বাশঁখালী এলাকা। তখনকার দিনে শঙ্খ নদ দিয়ে নৌকা যোগে করা হতো এসব এলাকার ব্যবসা বাণিজ্য। কয়েক দশক ধরে প্রমক্তা শঙ্খ নদ যেমন তার রূপ পাল্টাচ্ছে তেমনি করে আমূল পরিবর্তন ঘটতে শুরু করছে চারপাশের পরিবেশ এবং জনজীবন।
 
জেগে ওটা চরের কারণে বর্ষাকালে খর স্রোতা শঙ্খ নদ তার পানিগতি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে দুইতীর প্লাবিত হয়ে পড়ে। ক্ষতিগ্রস্ত হয় হাজার হাজার মানুষ। অভিজ্ঞ মহলের মতে অবৈধভাবে মাটি কাটা ও বন উজাড়ের কারণে বর্ষাকালে দুয়ে মুচে পলিমাটি শঙ্খে নদে পড়ে নব্যতা হারিয়ে যেতে বসায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ও জৈববৈচিত্র স্বাভাবিক বিকাশের ক্ষেত্রে দেখা দিয়েছে মারাত্মক বিপর্যয়।  সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের তেমন কোন খবরদারি নেই বলেই চলে। শঙ্খের তীরবর্তী বাসিন্দারা জানান, মরতে বসা শঙ্খ নদ বাঁচলে বাঁচবে দক্ষিণ চট্টগ্রামের মানুষ। আর এই শঙ্খ নদকে বাঁচাতে হলে ড্রেজিং করা প্রয়োজন। এতে শঙ্খ তার হারানো যৌবন ফিরে পাবে। বাঁচবে তীরবর্তী মানুষ।
 
২০১৬ সালে শেষ নাগাদ পানি উন্নয়ন বোর্ড চট্টগ্রাম বিভাগের ব্যবস্থাপনায় শঙ্খ নদের ২৫ কি.মি. ও সাতকানিয়া ডলু খালে  ড্রেজিং করার বিষয়ে একনেকে প্রস্তাব উত্থাপন করা হলেও তা যে কোন কারণ বশত: সেই প্রস্তাব গৃহীত হয়নি। বর্তমান প্রধান মন্ত্রীর প্রচেষ্টায় চলতি বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি শঙ্খ নদের ড্রেজিং ২১.৮৩ কি.মি. ও নদের তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের আওতায় ১১ কি.মি. কাজের প্রস্তাব গ্রহণ করেছেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়। যার জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ শ. ৩৩ কোটি টাকা। এ প্রকল্পের কাজ আগামী এপ্রিল মাসে শুরু করার কথা রয়েছে বলে পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে।
 
এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের চট্টগ্রাম উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (অতিরিক্ত) শওকত ইবনে শাহীদ মুঠো ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ইত্তেফাককে  বর্তমান সরকার শঙ্খ নদের ড্রেজিং (২১.৮৩) ও তীর সংরক্ষণের জন্য (১১)কি.মি. কাজের জন্য উক্ত বরাদ্দকৃত টাকার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন আগামী এপ্রিল মাসের দিকে এ প্রকল্পের কাজ শুরু করা হবে।
 
চন্দনাইশ উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল জব্বার চৌধুরী বলেন, শঙ্খ নদের ড্রেসিং ও তীর সংরক্ষণের জন্য টাকা বরাদ্দের কথা শুনেছি। ড্রেজিং হলে বর্ষাকালে পানি নিষ্কাশনে কোন প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হবে না এবং ভাঙন ও বন্যার ক্ষতি থেকে রক্ষা পাবে নদের তীরবর্তী বাসিন্দারা।
 
ইত্তেফাক/এসএস