ভুল চিকিৎসায় ছাত্রীর মৃত্যুর অভিযোগ, সহপাঠীদের মানববন্ধন

আপডেট : ২০ মার্চ ২০১৮, ১৩:১২
টাঙ্গাইলের সখীপুরে ভুল চিকিৎসার শিকারে ইসরাত জাহান হ্যাপী নামের এক কলেজছাত্রীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। গতকাল সোমবার ভোরে ওই ছাত্রী মারা যান। এ ঘটনায় চিকিৎসকের বিরুদ্ধে আজ মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টায় কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে।
 
সখীপুর-মহানন্দপুর সড়কের সখীপুর আবাসিক মহিলা অনার্স কলেজ ক্যাম্পাসের সামনে তারা এ মানববন্ধন পালন করেন। নিহত ইসরাত জাহান ওই কলেজের ছাত্রী ও পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আবদুল হান্নানের মেয়ে।
 
কলেজের মেধাভিত্তিক ছাত্রীসংসদের আয়োজনে এ মানববন্ধন কর্মসূচিতে হ্যাপীর সহপাঠী, কলেজের মেধাভিত্তিক ছাত্রীসংসদ ও ওই কলেজের বিভিন্ন বিভাগের শতশত শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকরা অংশ নেয়। কর্মসূচিতে হ্যাপীর স্বজনরাও উপস্থিত ছিলেন। এ সময় মেধাবী শিক্ষার্থী হ্যাপী ভুল চিকিৎসায় মারা যাওয়ায় অভিযুক্ত ডাক্তার আবদুস সাত্তারের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করে বক্তব্য দেন কলেজের অধ্যক্ষ রেনুবর রহমান, ছাত্রীসংসদের ভিপি স্বপ্না আক্তার প্রমুখ।
 
হ্যাপীর স্বজনরা জানান, গত ৫ মার্চ পেটের ব্যথা নিয়ে সখীপুর পৌরশহরের লাইফ কেয়ার ক্লিনিক অ্যান্ড নার্সিং হোমে তারা হ্যাপীকে ভর্তি করান। সে সময় ওই ক্লিনিকের একটি অংশের মালিক ও ডাক্তার আবদুস সাত্তার রোগীর অ্যাপেন্ডিসাইটিস হয়েছে জানিয়ে ৬ মার্চ অস্ত্রোপচার করেন। পরবর্তী সময়ে রোগীর অবস্থার অবনতিতে তাকে টাঙ্গাইল সদর হাসপাতালে রেফার্ড করেন। সেখানেও রোগীর অবস্থার উন্নীত না হওয়ায় গত ১৬ মার্চ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। ১৪দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে গতকাল ভোরে হ্যাপী মারা যান। হ্যাপীর স্বজনরা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকের বরাত দিয়ে আরও জানান, গ্যাস্ট্রিকের কারণে পেটে ব্যথা হয়েছে এবং ভুল অপারেশন ও গ্যাসের কারণে পেটে পিক জমা হয়েছিল। ডাক্তার আবদুস সাত্তারের গাফিলতি ও অবহেলার কারণেই রোগীর মৃত্যু হয়েছে বলে চিকিৎসকের বিচার দাবিও করেন তারা এ প্রতিনিধির কাছে।
 
এদিকে, অভিযুক্ত চিকিৎসক আবদুস সাত্তারের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে বারবার ফোন দিলেও তা বন্ধ পাওয়া যায় এমনকি ওই ক্লিনিকে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। মেয়ের এমন মৃত্যুতে হ্যাপীর বাবা আবদুল হান্নান, মা রাশেদা বেগম বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছে।
 
হ্যাপীর চাচাত ভাই রবিন আহমেদ বলেন, 'কাকা (হ্যাপীর বাবা) একজন ক্ষুদ্র মুদি দোকানি। অভাবের সংসারে খুব কষ্ট করে আপুকে পড়াশোনা করাচ্ছেন। আপু এবার বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এইচএসসি পাশ করে নার্সিংয়ে পড়াশোনার জন্য ভর্তি পরীক্ষায়ও আবেদন করেছিল।'
 
ইত্তেফাক/এসএস