সাভারে নিখোঁজের ১৫ দিন পর এক কলেজছাত্রের মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ব্যবসায়ীক দ্বন্দ্বের জের ধরে কৌশলে অপহরণ করে মুক্তিপণ না পেয়ে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে নিহতের পরিবার। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত জিজ্ঞাবাদের জন্য চারজনকে আটক করা হলেও দুই জনকে আটকের কথা জানিয়েছে পুলিশ।
মঙ্গলবার বিকেলে সাভারের জয়ানাবাড়ি এলাকার বৈদ্যনাথের ইটভাটার পাশে হোসেন আলীর বালুর টেক থেকে বালু চাপা অবস্থায় নিহত ফয়সালের অর্ধগলিত মৃতদেহটি উদ্ধার করা হয়। সে সাভারের হেমায়েতপুর জয়নাবাড়ি এলাকার মাসুদ রানা ওরওফ ফকির চাঁনের ছেলে। ফয়সাল সাভারের পৌর এলাকার ব্যাংক কলোনি মহল্লায় অবস্থিত ল্যাবরেটরি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়াশুনার পাশাপাশি বাবার মটর পার্টস এর দোকানে কাজ করতো।
নিহতের পরিবার ও থানা পুলিশ সুত্রে জানা যায়, ব্যবসায়ীক দ্বন্দ্বের জের ধরে ফয়সালকে কৌশলে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যায় প্রতিবেশী আকাশ ও রাজু। পরে তাকে আটকে রেখে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয় ফয়সালের বাবা ফকির চাঁনের কাছে। এ ঘটনায় গত ৬ মার্চ ফকির চাঁন বিষয়টি জানিয়ে সাভার মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়রি দায়ের করেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সাভার মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আজগর হোসেন জানান, ফয়সাল নিখোঁজের ঘটনায় একটি সাধারণ ডায়রি দায়ের হওয়ার পর বিষয়টি সম্পর্কে খোজ খবর নেয়া শুরু করি। পরে তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার করে অভিযুক্ত রাজু ও আকাশের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ট্র্যাকিং করে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাদের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হই। পরে মঙ্গলবার ভোরে দিনাজপুরের বিরামপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে আকাশ ও রাজুকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে তাদের দেয়া তথ্য মতে সাভারের জোরপুল এলাকার বৈদ্যনাথের ইটভাটার পাশে হোসেন আলীর বালুর টেক থেকে বালু চাপা অবস্থায় নিহত ফয়সালের অর্ধগলিত মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।
ইত্তেফাক/ইউবি
