আড়াইহাজার উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রার এছহাক আলী মণ্ডলের প্রকাশ্যে ঘুষ গ্রহণের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ঘুষের টাকা না পেলে কোন দলিলে স্বাক্ষর না করেন না এছহাক আলী মণ্ডল।
বৃহস্পতিবার বিকেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আড়াইহাজার উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রার এছহাক আলী মণ্ডলের ঘুষ নেয়ার এমন একটি ভিডিও প্রকাশ পায়। ওই ভিডিওটি এখন ফেসবুকে ভাইরাল।
ভিডিওতে দেখা যায়, সাব-রেজিস্ট্রার এছহাক আলী মণ্ডলের টেবিলের ওপর ফাইলের স্তূপ। প্রতিটি ফাইল স্বাক্ষর করার আগে তিনি ঘুষ নিচ্ছেন। পাশ থেকে একজন ফাইল এগিয়ে দিচ্ছেন। আর প্রতিটি ফাইলের সঙ্গে টাকা নিয়ে ড্রয়ারে রাখছেন তিনি।
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সামনে শতাধিক দলিল লেখকরা বিক্ষোভ মিছিল কর্মসূচি পালন করে। আর দ্রুত দুর্নীতিবাজ সাব-রেজিস্ট্রারকে প্রত্যাহার না করা হলে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি পালন করার ঘোষণা দেন দলিল লেখক সমিতি। এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ্যে সাব-রেজিস্ট্রারের ঘুষ নেয়ার ভিডিও ভাইরাল হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
আড়াইহাজার দলিল লেখক সমিতির সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন বলেন, গত তিন মাসে আগে বন্দর উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রার এছহাক আলী মণ্ডল আড়াইহাজার উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি এ উপজেলার দায়িত্ব নেয়ার পর হতে দলিল করার জন্য দলিল লেখকদের কাছ মোটা অংকের টাকা ঘুষ দাবি করেন। ঘুষের টাকা না পেলে দলিল ফেরত পাঠিয়ে দেন। সেই দলিল আর রেজিস্ট্রি হয় না। আর সাব-রেজিস্ট্রারের ঘুষের টাকা না পেয়ে জমির দলিল হওয়ার কাজ অনেকটাই কমে আসে। এতে উপজেলায় জমি কেনা বেচা কমে যায়। এমনকি দলিল লেখকদের কাজ কর্ম কমে আসে।
তিনি আরও জানান, সপ্তাহে মঙ্গল, বুধ ও বৃহস্পতিবার আড়াইহাজার সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে অফিস করার কথা থাকলেও প্রায়ই সময় সে অফিসে আসেন না। এতে করে দলিলের কাজে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। এছাড়াও সরকারি ফি এর বাহিরে অতিরিক্ত টাকা না দিল এসহাক মণ্ডল কোন দলিলই স্বাক্ষর করেন না। সরকারি টাকা ছাড়াও সর্বনিম্ন পাঁচ হাজার সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা অতিরিক্ত টাকা দিতে হয়। আর অতিরিক্ত টাকার জন্য দলিল লেখকদের সাথে গ্রাহকদের বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়।
এদিকে এসহাক আলী মণ্ডল তার রিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, সমিতির একটি অংশের অবৈধ চাপে নতি শিকার না করায় তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে জমি ক্রেতা বিক্রেতাদের ভোগান্তিতে ফেলেছে।
ইত্তেফাক/আরকেজি
