দশম শ্রেণির এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানীর অভিযাগ পাওয়া গেছে শিক্ষকের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। ওই শিক্ষককে গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ফুঁসে উঠেছে এলাকা। প্রধান শিক্ষক ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেছেন ঘটনা তদন্তের জন্য তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার ২নং জামুর্কি ইউনিয়নের সাটিয়াচড়া শিবনাথ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনাটি ঘটেছে।
আজ শনিবার বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও যৌন হয়রানীর শিকার ঐ ছাত্রী ও পরিবারের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে।
জানা গেছে, ওই বিদ্যালয়ের মানবিক শাখার দশম শ্রেণির ছাত্রী যৌন হয়রানীর শিকার। ওই ছাত্রী ও তার পরিবারের লোকজন অভিযোগ করেন, বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. আজগার আলী (৩৬) দীর্ঘদিন ধরে তাকে যৌন হয়রানী করে আসছে। আজগর আলীর পিতার নাম মো. হানিফ মিয়া। বাড়ি একই উপজেলার গোড়ান-সাটিয়াচড়া গ্রামে।
ছাত্রী জানায়, প্রাইভেট পড়ার সময় এবং বিদ্যালয়ে বিভিন্ন সময় তাকে শারীরিকভাবে যৌন হয়রানী করে আসছেন শিক্ষক আজগর আলী। এই ঘটনা যেন কোন অবস্থায় ফাঁস করা না হয়, সে জন্য তাকে বিভিন্ন ভাবে হুমকি দেওয়া হয়। পারিবারিক চাপ এবং লোক লজ্জার ভয়ে ঐ ছাত্রী ঘটনাটি প্রথমে চেপে গিয়ে কাউকে জানায়নি। দিন দিন শিক্ষকের যৌন হয়রানীর মাত্রা বেড়ে গেলে শেষে নিরুপায় হয়ে ঘটনাটি তার মা ও পরিবারের সদস্যদের কাছে বলে দেয়। লোকলজ্জায় শেষ পর্যন্ত সে বিদ্যালয়ে আসা বন্ধ করে দেয়। ছাত্রীর অসহায় মা লাকী বেগম লম্মট ওই শিক্ষক আজগার আলীকে গ্রেফতার ও মেয়ের যৌন হয়রানীর বিচার চেয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জাকির হোসেনের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন। কিন্ত বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জাকির হোসেন ঘটনাটি উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত না করে শিক্ষকের পক্ষ নিয়ে ঘটনা ধাপাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে। বিচার না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত ঘটনাটি ফাঁস হয়ে গেলে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ আর উত্তেজনা বিরাজ করছে। হয়রানীর শিকার ওই ছাত্রী, বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী-অভিভাবক এবং এলাকাবাসী তদন্ত সাপেক্ষে শিক্ষককে গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত শিক্ষক মো. আজগার আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাকে না পাওয়ায় তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জাকির হোসেনের সঙ্গে বিস্তারিত জানার জন্য যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীকে যৌন হয়রানীর অভিযোগ আসার পর ঘটনাটি উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইসরাত সাদমীন এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. জাকির হোসেন মোল্লাকে অবহিত করা হয়েছে। এছাড়া প্রাথমিক ভাবে ঘটনা তদন্তের জন্য বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. খায়রুল ইসলাম, রঞ্জিত সরকার এবং হাসিনা বেগম এই তিনজনকে দিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা প্রতিবেদন দাখিলের পরই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও এলাকার লোকজন অভিযোগ করেছেন, ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ইতিপূর্বেও বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের যৌন হয়রানীর অভিযোগ রয়েছে। কিন্ত কঠোর কোন ন্যায় বিচার না হওয়ায় একের পর এক এ ধরনের ঘটনা করে আসছেন তিনি।
এ ব্যাপারে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. আবুল বাসারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানীর অভিযোগ উঠায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ইতিপূর্বেও তার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ রয়েছে।তবে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জাকির হোসেন অভিযুক্ত শিক্ষকের পক্ষ নেওয়ায় অসহায় ওই শিক্ষার্থী (ছাত্রী) ও তার পরিবার ন্যায় বিচার পাবে কি-না তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।
ইত্তেফাক/এমআই
