ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম এয়ারলাইন জেট এয়ার ওয়েজের ভবিষ্যত্ নির্ধারণের জন্য সংস্থার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঋণদাতা ব্যাংকগুলোর এক জরুরি বৈঠক সোমবার অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রবল সংকটের মুখে পড়া এই এয়ারলাইনটিকে বাঁচানোর জন্য জেটের পাইলটরা সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হস্তক্ষেপ চাইছেন। প্রধান ঋণদাতা স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার কাছে তারা ১৫০০ কোটি রুপি জরুরি তহবিলের জন্যও আবেদন জানিয়েছেন।
মাত্র কিছুদিন আগেও এই এয়ারলাইনটি সপ্তাহে প্রায় এক হাজার অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট চালাত। কিন্তু তাদের যাবতীয় অপারেশন এখন প্রায় স্তব্ধ, জেটের কর্মীরা বেতনের দাবিতে রাস্তাতেও নেমে এসেছেন। এভিয়েশন খাতের বিশেষজ্ঞ হেমন্ত বাটরা বলেছেন, গত কয়েক মাস ধরেই জেট এয়ারক্র্যাফট লিজিং কোম্পানি, তেল সংস্থা বা অন্য ভেন্ডরদের কিস্তির টাকা মেটাতে ব্যর্থ হচ্ছিল। বাটরার কথায়, ‘কারণ তাদের নগদের টানাটানি তুঙ্গে উঠেছিল, ঋণের পরিমাণ ছাড়িয়ে গেছে ১০০ কোটি ডলার।’ খবর বিবিসি বাংলার।
একদিন এমিরেটসের সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার স্বপ্ন দেখত, সেই জেটের এই দশা হওয়ার পেছনে আসলে একাধিক কারণ আছে। ভারতে লো-কস্ট এয়ারলাইনগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় পেরে উঠতে পারেনি জেট। এয়ার ইন্ডিয়ার সাবেক প্রধান জিতেন্দ্র ভার্গব বিবিসিকে বলেন, ‘যখন থেকে ভারতের বাজারে ইন্ডিগো বা স্পাইসজেটের মতো লো-কস্ট এয়ারলাইনগুলো এসেছে এবং তারা অনেক কম খরচে প্রায় জেটের মতোই ভালো পরিষেবা দিতে শুরু করেছে তখন থেকেই তাদের এই সংকটের শুরু।’
প্রতিদ্বন্দ্বী এয়ারলাইনগুলো এর মধ্যেই ৪০ বা ৫০ শতাংশ কম বেতনে জেটের পাইলটদের তাদের সংস্থায় যোগ দেওয়ার অফার দিতে শুরু করেছে। বাজার থেকে জেটের বিদায়ে ভারতে বিমান ভাড়াও বেড়ে চলেছে হু হু করে। অতএব ভারতে এভিয়েশনের একটি দারুণ সফল উদ্যোগের মৃত্যু সংবাদও এখন লিখে ফেলতে হবে কি-না, সেটাও জানা যাবে খুব শিগগিরই।
