পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার গোপীনাথপুর গ্রামের আব্দুল অহাবের ছেলে পুলিশ কনস্টেবল আনোয়ারের লাশ জেলার আমিনপুর থানার কাশিনাথপুর থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। কনস্টেবল পদে লোক নিয়োগের টাকা নিয়ে বিরোধের জের ধরে নিখোঁজ ছিলেন আনোয়ার। এঘটনায় মিরপুর পশ্চিম বিভাগ পুলিশ পরিদর্শক রেজাউল করিমসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
আমিনপুর থানা ও নিহত আনোয়ারের পরিবার সূত্রে জানা যায়, ২৬ মার্চ সন্ধ্যায় কাশিনাথপুর ব্রিজের পাশে একটি মেস থেকে ডিএমপি পুলিশের প্রটেকশন বিভাগের কনস্টেবল আনোয়ার হোসেনের লাশ উদ্ধার করে আমিনপুর থানা পুলিশ। লাশ ময়না তদন্তের জন্য মঙ্গলবার সকালে পাবনা মর্গে প্রেরণ করা হয়। এদিকে লাশ উদ্ধারের সংবাদ পেয়ে আনোয়ারের পরিবারের সদস্যরা থানা ছুটে যান। নিহতের স্ত্রী খালেদা খাতুন বাদী হয়ে সুজানগর উপজেলার উদয়পুর গ্রামের মৃত শফিউদ্দিনের ছেলে ও মিরপুর পশ্চিম বিভাগের পুলিশ পরিদর্শক রেজাউল করিম, পুলিশের কনস্টেবল হৃদয় ও সোহেলসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে আমিনপুর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।
নিহত আনোয়ারের স্ত্রী খালেদা খাতুন জানান, তার স্বামী (আনোয়ার হোসেন) ডিএমপি পুলিশের প্রটেকশন বিভাগের কনস্টেবল পদে দীর্ঘ দিন কর্মরত ছিলেন। সেখানে কর্মরত থাকা অবস্থায় সুজানগর উপজেলার উদয়পুর গ্রামের মৃত শফিউদ্দিনের ছেলে ও মিরপুর পশ্চিম বিভাগের পুলিশ পরিদর্শক রেজাউল করিম ও পুলিশ কনস্টেবল হৃদয় এবং সোহেলের সাথে তার সম্পর্ক গড়ে উঠে। তারা আত্মীয়ের পুলিশের নিয়োগের জন্য আনোয়ারের নিকট ১৪ লাখ টাকা দেন। চাকরি না হওয়ায় সে ২ লাখ টাকা ফেরত দিয়ে বাকি টাকা না দিয়ে নিখোঁজ হয়ে যায়। নিখোঁজের পর মিরপুর পশ্চিম বিভাগের পুলিশ পরিদর্শক রেজাউল করিম আনোয়ারের বিরুদ্ধে পুলিশ হেড কোয়াটারে মামলা দায়ের করেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আনোয়ারকে বরখাস্ত করেন।
আনোয়ারের পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ ২৫ মার্চ রবিবার বিকেলে অভিযুক্ত পুলিশ সোহেল ও হৃদয় সাঁথিয়ার কাশিনাথপুরের সন্ত্রাসীদের নিয়ে সুজানগর উপজেলার চিনাখড়া থেকে কনস্টেবল আনোয়ারকে ধরে কাশিনাথপুর নিয়ে আসে। তারা পরিবারের সদস্যদের খবর দিলে আত্মীয়রা উপস্থিত হলে আটককারীরা ১২ লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা না পরিশোধ করায় তারা আনোয়ারকে আটকে রাখে। পরদিন ২৬ মার্চ বিকেলে আনোয়ারের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
আমিনপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সুকুমার মহান্ত বলেন, লাশ উদ্ধার করে পাবনা মর্গে প্রেরণ করেছি। তদন্ত পূর্বক আসামিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, পুলিশের চাকরি দেওয়ার বিষয়ে টাকা লেনদেনকে কেন্দ্র করে এঘটনা ঘটতে পারে।
ইত্তেফাক/এসএস
