ক্রসড্যাম স্থাপনে বিলম্ব, পলি জমে ভরাট হচ্ছে কপোতাক্ষের তলদেশ

আপডেট : ২৭ মার্চ ২০১৮, ১৬:৪৬
কপোতাক্ষের নাব্যতা বৃদ্ধি ও জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধানে ২০১১ সালে শুরু হওয়া সরকারের প্রায় ২৬২ কোটি টাকা ব্যয়ে কপোতাক্ষ খনন প্রকল্প ও ক্রসড্যাম স্থাপন মন্থর গতির কারণে ভেস্তে যেতে বসেছে। 
 
নদীর নাব্যতা ধরে রাখতে দ্রুত ক্রাসড্যাম স্থাপন, টিআরএম বিল ব্যবস্থাপনা ও পেরিফেরিয়াল বাঁধ সংস্কারের দাবি জানাচ্ছেন এলাকাবাসী। ইতিমধ্যে একটি বেসরকারি সংস্থা ও উপজেলা পানি কমিটির ব্যানারে সংবাদ সম্মেলন করলেও টনক নড়েনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। 
 
কপোতাক্ষ নদের নাব্যতা বৃদ্ধি ও জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধানকল্পে সরকার গত ২০১১ সালে কপোতাক্ষ নদের জলাবদ্ধতা দূরীকরণ প্রকল্পে (১ম পর্যায়) পাখিমারা বিলে টিআরএম স্থাপন ও প্রায় ৯০ কি.মি. নদী খনন করে। টিআরএম চলাকালে মূল নদের উপর ক্রসড্যাম দিয়ে শুষ্ক মৌসুমে জোয়ারবাহিত পলি উপরাংশে না ঢুকিয়ে টিআরএম প্রকল্পের বিলে প্রবেশ করানো হয়। এরপর বর্ষা মৌসুমের শুরুতে বিস্তীর্ণ জনপদের পানি নিষ্কাশনে তুলে দেয়া হয় ক্রসড্যাম। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ২০১৬-১৭ সালে জলাবদ্ধতার হাত থেকে মুক্তি পায় কপোতাক্ষ অববাহিকার প্রায় ২০ লাখ মানুষ। তবে সর্বশেষ ড্যামটি অপসারণ হলেও নতুন করে স্থাপন না হওয়ায় প্রতিদিন জোয়ারবাহিত প্রচুর পরিমাণে পলি দ্রুত টিআরএম বিলের উজান অংশে ঢুকে নতুন করে ভরাট হচ্ছে নদীর তলদেশ। গত বছরের ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত শুষ্ক মৌসুমে নদীতে ক্রসড্যাম না দেয়ায় মূলত ভেস্তে যেতে বসেছে মূল প্রকল্প এমন অভিযোগ এলাকাবাসীর। 
 
সূত্র জানায়, গত ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়ে ক্রসড্যামটি ১৬ জুন পর্যন্ত স্থায়ী থাকতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশসহ নির্দেশনা দেয় পাউবো। তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ড্যামটির নির্মাণ শুরু করলেও শম্ভুক গতিতে মার্চের শেষ ভাগেও তা শেষ করতে পারেনি। কাজের এমন মন্থর গতির বিষয়টিকে ভাল চোখে দেখছেন না এলাকাবাসী। 
 
এদিকে উত্তরণ ও পানি কমিটির দাবি, ক্রসড্যাম না থাকায় পলিযুক্ত জোয়ারবাহিত প্রতি লিটার পানিতে প্রায় ৫০ গ্রাম পলি নদীতে অনুপ্রবেশ করছে। তারা এ অঞ্চলের সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে জরুরি ভিত্তিতে ক্রসড্যাম স্থাপনের তাগিদ দিয়ে গত ২০ মার্চ একটি সংবাদ সম্মেলনও করেছে। 
 
অন্যদিকে বর্ষা মৌসুমের পূর্বেই পাখিমারা টিআরএম বিলের চারিধারের পেরিফেরিয়াল বাঁধের জরুরি সংস্কার দাবি করেছেন বিল অধিবাসীরা। এরআগে পেরিফেরিয়াল বাঁধ ভেঙ্গে পার্শ্ববর্তী কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়ে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সর্বশেষ টিআরএম প্রকল্পের নিকটবর্তী ক্রসড্যাম স্থাপনে বিলম্ব হওয়ায় মূল প্রকল্পটিকে হুমকির মধ্যে ফেলে দিয়েছে বলে ধারণা সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের। 
 
যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কর্তৃপক্ষ জানায়, অনুন্নয়ন রাজস্ব খাতের আওতায় পাখিমারা টিআরএম লিংক ক্যানেলের উজানে কপোতাক্ষ নদের ১৫৭.৫০ কি.মিঃ ক্লোজার নির্মাণ ও অপসারণ কাজের প্যাকেজ নং-জেএনবিডিআর। গত ৮ ফে্রুয়ারি পাউবো যশোরের পুরাতন কসবার মিশন রোডের ঠিকাদার মো. নুর হোসাইনকে ৪৩ লাখ ৯৯ হাজার ৬২৩ টাকার কাজটি প্রাপ্ত হন।
 
এ ব্যাপারে পাউবোর কেশবপুর পওর শাখার এসও ফিরোজ আহম্মেদ বলেন, আগামী ২-১ দিনের মধ্যে ক্রসড্যামটি নির্মিত হবে। তবে যদি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজে গাফিলাতি করে তবে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে শামীম চাকলাদার বাবু দাবি করেন, স্থানীয়দের কারণেই কাজটি বিলম্বিত হচ্ছে।
 
ইত্তেফাক/ইউবি