ইয়াবা থাকার কথা বলে ব্যবসায়ীকে আটকের চেষ্টা, ২ পুলিশ সদস্য ক্লোজড

আপডেট : ২৭ মার্চ ২০১৮, ১৮:২৭
যশোরের চৌগাছায় ‘ইয়াবা থাকার’ কথা বলে এক ব্যবসায়ীকে আটকের সময় ব্যবসায়ীদের বিক্ষোভের মুখে এএসআই কামরুজ্জামানসহ দুই পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। 
 
যশোরের পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। চৌগাছা থানার ওসি খন্দকার শামীম উদ্দিন বলেছেন- ওই ব্যবসায়ী বাপ্পী সেন একজন চিহ্নিত মাদক কারবারি। তার বিরুদ্ধে চৌগাছা থানায় মাদক মামলা রয়েছে। মঙ্গলবার তাকে পুলিশ আটকের চেষ্টা করলে সে পুলিশের হাত থেকে সটকে স্বর্ণপট্টিতে দোকানে গিয়ে আশ্রয় নেয়। 
 
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে শহরের স্বর্ণপট্টিতে সেনকো জুয়েলার্সের মালিক রবিন সেনের পুত্র রাজন সেন ওরফে বাপ্পি (২৭) এর কাছে ইয়াবা ট্যাবলেট আছে বলে দোকান থেকে তুলে নেয়ার চেষ্টা করে চৌগাছা থানার এএসআই কামরুজ্জামান ও আকবর আলী এবং কনস্টেবল নাজমুল ইসলাম। এ সময় বাপ্পী ব্যবসায়ী সমিতির সেক্রেটারি ইবাদত হোসেন ও যুগ্ম সম্পাদক আজিজুর রহমানকে সংবাদ দেয়া হয়। তারা সেনকো জুয়েলার্সে থাকা অবস্থায় পুলিশের সঙ্গে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে এসআই কামরুজ্জামান নিজের পিস্তল বের করেন।  তখন উত্তেজিত ব্যবসায়ীরা দোকানের কলাপসিবল গেট বন্ধ করে এএসআই কামরুজ্জামানকে আটকে ফেলেন। এএসআই আকবর এবং কনস্টেবল নাজমুল কোনক্রমে দোকান থেকে পালিয়ে যান। 
 
ঘটনা শুনে বাজারের শত-শত ব্যবসায়ী ওই দোকান ঘিরে বিক্ষোভ করতে থাকে। প্রায় দেড় ঘণ্টা পরে চৌগাছা পৌর মেয়র নূর উদ্দিন আল মামুন হিমেলের সহায়তায় চৌগাছা থানার ওসি খন্দকার শামীম উদ্দিনের নেতৃত্বে একদল পুলিশ এসআই কামরুজ্জামানকে উদ্ধার করে চৌগাছা থানায় নিয়ে আসে। 
IMG0
এ ঘটনার প্রতিবাদে ব্যবসায়ীরা বিক্ষোভ করতে থাকেন। দুপুর দুইটার সময় চৌগাছা বাজার ব্যবসায়ী সমিতির পক্ষ থেকে বাজারে মাইকিং করে অভিযুক্তদের প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত বাজারের সকল দোকান অনির্দষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয়া হয়। 
 
চৌগাছা বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সেক্রেটারি ইবাদত হোসেন বলেন, ঘটনায় সম্পৃক্তদের প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত চৌগাছা বাজার অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে।
 
চৌগাছা থানার ওসি খন্দকার শামীম উদ্দিন বলেন, বাপ্পী সেন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে চৌগাছা থানায় মাদক মামলা রয়েছে।
 
যশোরের পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান পিপিএম বলেন, স্বর্ণপট্টির ঘটনায় এসআই কামরুজ্জামানকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলার প্রস্তুতি চলছে। ব্যবসায়ী সমিতির দাবির প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে। 
 
এর আগে ২০১৬ সালে চৌগাছা বাজারের আরেক সংখ্যালঘু ব্যবসায়ীকে দোকানের মধ্যে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর ঘটনা সিসিটিভি ফুটেজের মাধ্যমে প্রমাণিত হওয়ায় এএসআই সিরাজসহ দুই পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়। ২০১৭ সালেও উপজেলার খড়িঞ্চা বাজারে ফেনসিডিল দিয়ে এক ব্যক্তিকে ফাঁসানোর ঘটনায় স্থানীয়দের বিক্ষোভের মুখে তিন পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছিল।
 
ইত্তেফাক/ইউবি