২৬ মার্চে স্কুলড্রেস পরে বিনোদন কেন্দ্রে ঘুরতে যাওয়ায় ৪ ছাত্রকে বেধড়ক পিটিয়েছে প্রধান শিক্ষকসহ অন্যরা। শুধু তাই নয়, তাদের স্কুল থেকে বহিষ্কার (টিসি) করা হয়েছে।
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার মাগুড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে গত সোমবার দুপুরে এ ঘটনাটি ঘটে। গুরুতর আহত ২ শিক্ষার্থীকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী, আহত শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত সোমবার দুপুরে কিশোরগঞ্জ উপজেলার মাগুড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের নির্ধারিত অনুষ্ঠান শেষে স্কুল ড্রেস পরে ৭ম শ্রেণির ছাত্র মো. সজিব হোসেন (১৩), নুর মোহাম্মাদ (১৩) ও তোকছেরুল ইসলাম (১৩) গাড়াগ্রাম ইউনিয়নের দলিরাম গ্রামের ‘অন্য জগত’ নামের একটি বিনোদন কেন্দ্রে ঘুরতে যায়। সেখানে আগেই ঘুরতে গিয়েছিল একই বিদ্যালয়ের তিন ছাত্রী। দুপুর ২টার দিকে সেখান গিয়ে উপস্থিত হন প্রধান শিক্ষক আব্দুল কুদ্দুছ, সহকারী শিক্ষক রতন চন্দ্র, অফিস সহকারী আনিছুর রহমান বাদল। তারা ওই ৬ ছাত্র-ছাত্রীকে হাত-পা বেঁধে স্কুলে নিয়ে আসে। এরপর তোকছেরুল ইসলাম (১৩) ও এক ছাত্রীকে ছেড়ে দিয়ে বাকি চারজনকে বেধড়ক পিটায়। বেধড়ক পিটুনি দেয়ার পর প্রধান শিক্ষক ওই চার শিক্ষার্থীকে ছাড়পত্র দিয়ে তাদেরকে স্কুল থেকে বের করে দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় দুই ছাত্র সজিব মিয়া ও নুর মোহাম্মদকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে প্রধান শিক্ষক আব্দুল কুদ্দুস জানান, ‘অন্য জগতে’ ঘুরতে যাওয়া ৬ ছাত্র-ছাত্রীকে স্কুলে নিয়ে এসে দুইজনকে ছেড়ে দেই। বাকি চারজনকে উত্তম-মধ্যম দিয়ে কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক ছাড়পত্র দেয়া হয়।
কিন্তু তাদের অপরাধ কি জানতে চাইলে তিনি জানান, স্কুল ড্রেস পড়ে ঘুরতে যাওয়াই তাদের অপরাধ।
এ বিষয়ে ম্যানেজিং কমিটির অভিভাবক সদস্য হাফিজুল ইসলাম জানান, ঘটনাটির কিছুই আমি জানি না। তবে প্রধান শিক্ষক আমাকে বিদ্যালয়ে আসতে বলছিলেন। আমি আসতে পারিনি।
অপর অভিভাবক সদস্য গোলাম মোস্তাফা জানান, আমাকে বিদ্যালয়ে আসতে বলা হয়েছিল, কিন্তু বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখি আমি আসার আগে তারা সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে। এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেয়া সঠিক হয়নি।
মাগুড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি রশিদুল ইসলাম জানান, আমি সারাদিন কিশোরগঞ্জে ছিলাম। বিষয়টি সম্পর্কে আমি কিছুই জানি না। প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা সিদ্ধান্ত নিয়ে আমাকে জানিয়েছে মাত্র।
কিশোরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার এসএম মেহেদি হাসান জানান, বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ইত্তেফাক/ইউবি
