জেলায় বেতাগী উপজেলার ৪৪নং দক্ষিণ বড় মোকামিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবস্থা বেহাল। বর্তমানে এ বিদ্যালয়ের ভবনে জোড়াতালি দিয়ে পাঠদান চললেও শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এ অবস্থা সমাধানে কেউ এগিয়ে আসছে না।
সরেজমিনে জানা যায়, বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় ২০১৭ সালে বালু-সিমেন্ট দিয়ে মোকামিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনের ফাটল ডেকে দেওয়া হয়েছে। চুনকাম করে ভবনের উপরিভাগের শ্রীবৃদ্ধি করা হয়। স্থানীয় ইউপি সদস্য মোঃ জালাল আহম্মেদ অভিযোগ করে বলেন, সম্প্রতি মেরামত করায় এ প্রতিষ্ঠানটির বাইরের অংশ দেখলে মনে হবে ‘ফিট-ফাট কিন্তু ভেতরে সদরঘাট’। এর আগে ছাদ ও দেয়ালের পলেস্তার খসে পরে বালুতে সয়লাব হতো শ্রেণিকক্ষ। চোখে- মুখেও ঢুকে পড়তো। আপাতত তা বন্ধ হলেও বর্ষায় ছাদ ও পাশের দেয়াল চুয়ে পানি পড়ে। ফলে শ্রেণিকক্ষ পানিতে তলিয়ে যায়। ভারি বর্ষায় ঝুঁকির কারণে ক্লাস ছুটি দিতে হয়। উপজেলার দক্ষিণ বড় মোকামিয়া গ্রামটি বিষখালী নদীর তীরবর্তী হওয়ায় স্কুলটি আরো ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। সিডর ও আইলায় এটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্তও হয়।
১৯৬৯ সালে এক শতাংশ জমিতে মোকামিয়া ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডে এ সরকারি প্রাথমিক স্কুলটি প্রতিষ্ঠার পর স্থানীয় সরকার বিভাগের অর্থায়নে ১৯৯৫ সালে চারকক্ষ বিশিষ্ট একটি ভবন নির্মাণ করা হয়। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নির্মাণের কিছু দিন যেতে না যেতেই ১২ বছর ধরে ভবনটির করুণ অবস্থা। বর্তমানে এ প্রতিষ্ঠানে পাঁচজন শিক্ষক-শিক্ষিকা, ১২০ জন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা দুর্ঘটনার আংশকায় চরম আতঙ্কে ভুগছেন। বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র মোঃ খালিদ অভিযোগ করে এ সংবাদদাতাকে বলে, ঝুঁকি নিয়ে ভয়ের মধ্যে ক্লাস করি। একই বক্তব্য শিক্ষার্থী তানজিলা, লামিয়া ও মারিয়া আক্তারেরও।
দক্ষিণ বড় মোকামিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রেখা পারভীন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ভবনের নাজুক পরিস্থিতির পরেও নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেই। একাধিকবার লিখিতভাবে সংশ্লিষ্টদের জানানো হয়েছে। কিন্তু এখনো প্রতিকার মেলেনি। প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আব্দুর রব সিকদার সংশ্লিষ্টদের প্রতি নতুন স্কুল ভবন নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন। উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এখানে একটি নতুন ভবন নির্মাণ প্রয়োজনের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। উপজেলা শিক্ষা কমিটি সুপরিশ সাপেক্ষে ভবনের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট তালিকা পাঠানো হয়েছে।
ইত্তেফাক/নূহু
