ঝালকাঠির শেখেরহাট ইউনিয়নের মির্জাপুর গ্রামের বীরাঙ্গনা কমলা বিবির আজো ভয় কাটেনি। স্বাধীনতার ৪৭ বছর পার হলেও তিনি ভুলতে পারেননি পাকসেনা ও রাজাকারদের পৈশাচিক বর্বর নির্যাতন। এখনো তিনি আঁতকে ওঠেন সেই ভয়াল দিনে বিমান থেকে পাকিস্তানি সেনাদের বোমা হামলার কথা মনে করে।
তাই মৃত্যুপথযাত্রী সর্বস্ব হারানো এই বীরাঙ্গনা প্লেনের শব্দ শুনলে আতঙ্কিত হয়ে দৌড়ে পালিয়ে যান জঙ্গলে। মির্জাপুর গ্রামের মরহুম জেন্নাত আলীর তৃতীয় কন্যা পাগল প্রায় এই বীরাঙ্গনা কমলা বিবি বর্তমানে কীর্ত্তিপাশার গোবিন্দধবল গ্রামে একমাত্র ছেলে ট্রলার শ্রমিক জামাল মিয়ার কাছেই থাকেন। স্বাধীনতার ৪৭ বছর পার হলেও তিনি পাননি বীরাঙ্গনার সম্মান। পাননি কোনো মুক্তিযোদ্ধা বা বিধবা ভাতা।
জীবনের এই শেষ মুহূর্তে এসে চাওয়া-পাওয়ার কিছু না থাকলেও তার জীবদ্দশায় দেখে যেতে চান হতভাগা পুত্র জামালের একটু মাথা গোঁজার ঠাঁই। মা কমলাকে নিয়ে সে ঝালকাঠির কীর্ত্তিপাশা ইউনিয়নের গোবিন্দধবল গ্রামে শ্বশুরের আশ্রয়ে থাকেন। মাথার উপরে টিনের ছাউনি হোগল পাতার তৈরি মাটির ঘরটি বীরাঙ্গনা কমলার একমাত্র আশ্রয়স্থল। বীরাঙ্গনা কমলা বিবির সাথে আলাপে তার মুখ থেকে বেড়িয়ে আসে পাকসেনাদের বর্বরতা, রাজাকারদের দাপটসহ অনেক ঘটনা। এ ঘটনার বর্ণনা দেওয়ার সময় তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। ঘটনা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘যখন রাজাকাররা বাড়িতে আসে আমি তখন কোরআন শরিফ পড়তেছিলাম। কোরআন শরিফ পাশে সরাইয়া থুইয়া আমার ইজ্জত নষ্ট করছে।’ এরপর প্রায়ই ওরা আমারে ক্যাম্পে নিয়াও নির্যাতন করতো। এহোনো চক্ষু বন্ধ করলেই দেহি খাড়াইয়া রইছে। ‘হেই হইতে যে অসুস্থ, আর সুস্থ হইতে পারি নাই।’ মরণের আগে পোলাডার নিজের একটু থাকার জায়গা হইলে আমি শান্তি পাইতাম। পোলাডার নাই কিছু।
ইতিপূর্বে ২০১৫ সনে বীরাঙ্গনা কমলাকে নিয়ে ইত্তেফাকসহ বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের প্রেক্ষিতে তত্কালীন ঝালকাঠি জেলা প্রশাসক রবীন্দ্রশ্রী বড়ুয়া কমলাকে একটি সরকারি খাস জমি বন্দবস্ত দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিলেন।
কমলার বিষয়ে ঝালকাঠি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আতাহার মিয়া বলেন, ওনার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাসস্থানের জায়গা বরাদ্দসহ যা কিছু করা সম্ভব অতিদ্রুত তার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইত্তেফাক/নূহু
