নরসিংদী প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি মোর্শেদ শাহরিয়ার ও সাধারণ সম্পাদক সফিকুল মোহাম্মদ মানিক-এর বিরুদ্ধে ক্লাবের সাড়ে ১২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আজ বুধবার সকালে নরসিংদীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ মামলা দায়ের করা হয়। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে নরসিংদী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলা বিবরণে জানা গেছে, নরসিংদী প্রেস ক্লাবের ২০১৬-২০১৮ মেয়াদের নির্বাচনে মোর্শেদ শাহরিয়ার সভাপতি ও সফিকুল মোহাম্মদ মানিক সাধারণ সম্পাদক, ফারুক মিয়া কোষাধ্যক্ষসহ ১১ সদস্যের কমিটি নির্বাচিত হয়েছিলেন। কমিটির দায়িত্বভার গ্রহণের পর থেকে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক অন্যায়ভাবে কোষাধ্যক্ষকে বাদ দিয়ে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা শুরু করে। এছাড়াও গঠনতন্ত্র বিরোধী কার্যকলাপ, অর্থনৈতিক লেনদেন, ক্ষমতার অপব্যবহারের কারণ উল্লেখ্য করে কোষাধ্যক্ষসহ ৪ জন কর্মকর্তা ক্লাবের প্রধান উপদেষ্টা জেলা প্রশাসকের নিকট অভিযোগ দায়ের করেন। এরই মাঝে কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি মোশাররফ হোসেন মজনু মৃত্যুবরণ করেন।
তৎকালীন জেলা প্রশাসক তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে, কমিটির ৬ কর্মকর্তা সভাপতি/সম্পাদকের প্রতি অনাস্থা এনে কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেন। ফলে গঠনতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়। উক্ত আহ্বায়ক কমিটি সাবেক সভাপতি মোর্শেদ শাহরিয়ার ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক সফিকুল মোহাম্মদ মানিককে বার বার অনুরোধ করলেও ক্লাবের দাপ্তরিক কাগজপত্র ও হিসাব নিকাশ বুঝিয়ে দেয়নি। পরে আহ্বায়ক কমিটি ব্যাংক হিসাব বিবরণী সংগ্রহ করে জানতে পারেন তাদের মেয়াদে প্রেস ক্লাবের ভবনের ভাড়া থেকে আয় ৮ লাখ ১৪ হাজার টাকা, ভাড়াটিয়ার নিকট থেকে নেয়া জামানত ১ লাখ টাকা, সরকারী তহবিল থেকে প্রাপ্ত অনুদানের ৫৮ হাজার টাকা, ভবনের তৃতীয় তলা সংস্কারের জন্য এ.কে. খান গ্রুপ থেকে প্রাপ্ত অনুদানের ১ লাখ টাকাসহ সর্বমোট ১২ লাখ ৬২ হাজার ৫০০ টাকা দুর্নীতির মাধ্যমে আত্মসাৎ করে। এরই প্রেক্ষিতে আহ্বায়ক কমিটি ক্লাবের সিনিয়র সদস্যের সঙ্গে আলোচনা করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। তারা গঠনতান্ত্রিক নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে ব্যাংক লেনদেনে কোষাধ্যক্ষকে সম্পৃক্ত না করে বিভিন্ন সময়ে বিধি বহির্ভূত অংকের অর্থ উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছে। যা কার্য নির্বাহী পরিষদের অধিকাংশ সদস্যের গোচরীভূত নয়।
ইত্তেফাক/এসএস
