খুলনায় বিভাগীয় পর্যায়ে ট্যুরিজম সম্পর্কিত জনসচেতনতা-প্রশিক্ষণ কর্মশালা

আপডেট : ২৮ মার্চ ২০১৮, ১৫:৫৮
খুলনায় বিভাগীয় পর্যায়ে ট্যুরিজম সম্পর্কিত জনসচেতনতা ও প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার সকালে স্থানীয় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা বিভাগীয় কমিশনার লোকমান হোসেন মিয়া। খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
 
প্রধান অতিথির বক্তৃতায় বিভাগীয় কমিশনার লোকমান হোসেন মিয়া বলেন, ভ্রমণ করা শিক্ষার একটি অংশ। স্বচ্ছলতা এবং অর্থনৈতিক স্বাবলম্বীতা থাকলে জীবনকে উপভোগ করা যায়। প্রত্যেকের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশকে পর্যটনের জন্য সাজিয়ে তোলা সম্ভব। 
 
তিনি বলেন, একজন পর্যটক পাঁচজন ব্যক্তিকে স্বাবলম্বী করতে তথা জীবিকা উন্নয়নে সাহায্য করে। দেশীয় শিল্পের বিকাশে পর্যটনের ভূমিকা অপরিসীম।  তাই দেশের সংস্কৃতি, উল্লেখযোগ্য স্থাপনা এবং দর্শনীয় স্থানগুলোকে নান্দনিকভাবে উপস্থাপনা করতে হবে। এ জন্য পর্যটন সেবার মান বাড়াতে হবে। এক্ষেত্রে পারস্পরিক শ্রদ্ধার সম্পর্ক ও আন্তরিক ব্যবহার মানুষকে পর্যটনে আগ্রহী করে তুলবে। 
 
অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) মোহাম্মদ ফারুক হোসেন এতে সভাপতিত্ব করেন। কর্মশালায়  মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের পরিচালক ও অতিরিক্ত সচিব নিখিল রঞ্জন রায়। বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন অতিরিক্ত ডিআইজি মো. মাহাবুব হাকিম,  অতিরিক্ত ডিআইজি এ কে এম নাহিদুল ইসলাম, কেএমপি’র অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার সরদার রকিবুল ইসলাম এবং জেলা প্রশাসক মোঃ আমিন উল আহসান। স্বাগত বক্তৃতা করেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার নিশ্চিন্ত কুমার পোদ্দার। এতে খুলনা ও যশোরের জেলা প্রশাসকদ্বয় তাদের নিজ নিজ জেলা পর্যটনের বিভিন্ন স¤ভাবনাময় ও দর্শনীয় স্থাপনা ও স্থানগুলো পাওয়ার পয়েন্টে উপস্থাপন করেন। 
 
কর্মশালায় বক্তারা বলেন, এ অঞ্চলে সুন্দরবন আমাদের পর্যটনের অন্যতম আকর্ষণ। কক্সবাজার, সুন্দরবনসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের আর্কষণীয় স্থানগুলোকে বিশ্বের কাছে তুলে ধরতে ২০১০ সালে  ট্যুরিজম বোর্ড সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে গঠন করা হয়েছে ট্যুরিস্ট পুলিশ বিভাগ। সরকার পর্যটন শিল্পের বিকাশে সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনাতে দুই হাজার তিনশ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে।  এছাড়া ক্যাপাসিটি বিল্ডিং অর্থাৎ সক্ষমতা বাড়াতে দুইশ কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। 
 
কর্মশালায় বিভাগীয় পর্যায়ের সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, হোটেলের প্রতিনিধি, এভারগ্রীন ট্যুরস, সাংবাদিক, স্টেকহোল্ডার, এনজিও এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। 
 
ইত্তেফাক/এমআই