নিজের বাল্যবিয়ে বন্ধ করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে ফারজানা

আপডেট : ২৮ মার্চ ২০১৮, ১৭:২৩
নিজের বাল্যবিয়ে বন্ধ করে এলাকায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে মঠবাড়িয়া হাতেম আলী বালিকা বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী ফারজানা আক্তার (১৪)। কয়েকদিন আগে মা, খালা ও নানি বিয়ের জন্য ফারজানার কোন মতামত গ্রহণ না করে বিয়ের আয়োজন করছিলেন। বিয়ের দিনক্ষণ আড়াল থেকে শুনে ফেলে সে।
 
পরের দিন স্কুলের তিন সহপাঠীর পরামর্শে তাদের নিয়ে বাল্য বিবাহ বন্ধ করার জন্য লিখিত অভিযোগ করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে। অভিযোগ শুনে তিনি উভয় পক্ষকে ডেকে মুচলেকা নিয়ে বাল্য বিয়ে বন্ধ করেন। মঙ্গলবার দুপুরে ঘটনাটি ঘটেছে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ে।
 
জানা গেছে, জেলা শহরের সৌদি প্রবাসী ফারুক শিকদারের কিশোরী মেয়ে ফরাজানার (১৪) সাথে দক্ষিণ সাপলেজা গ্রামের মৃত. আ. আজিজ মুন্সির ছেলে সাপলেজা মডেল হাই স্কুলে অফিস সহায়ক ইয়াহিয়ার (২৮) বিয়ে ঠিক হয়। ওই শিক্ষার্থীর মতামত না নিয়ে মা রেকসনা বেগম, খালা ও নানি মিলে আগামী শুক্রবার বিয়ের দিন ধার্য করেন।
 
বিষয়টি জানতে পেরে ফারজানা তার স্কুলের সহপাঠি সুলতানা ইসলাম (১৪), রেজমি (১৪) এবং ১০ম শ্রেণির দ্বিপা চৌধুরী (১৫) মঙ্গলবার দুপুরে বিয়ে বন্ধের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করে। পরে তার নির্দেশ পেয়ে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মনিকা আক্তার ও সমাজ সেবা কর্মকর্তা আখলাকুর রহমান উভয় পক্ষকে ডেকে এনে মুচলেকা রেখে বিয়ে বন্ধ করেন।
 
ফারজানা আক্তার বলেছে, আমি বাল্য বিবাহের কুফল আগেই জেনেছি। ফলে আমার বিয়ের বয়স না হওয়ায় বান্ধবীদের নিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে নিজের বাল্য বিবাহ বন্ধ করেছি।
 
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার জি এম সরফরাজ জানান, নারীরাই আগামীতে বিশ্বকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। যার উদাহরণ ফারজনা। বাল্যবিয়ে বন্ধ করে এমন দৃষ্টান্ত স্থাপন করায় ফারজানা ও তার তিন সহপাঠীদের পুরস্কৃত করা হবে।
 
ইত্তেফাক/আরকেজি