চবির হলে তল্লাশিকালে ৩০ ছাত্রলীগ কর্মী আটক

আপডেট : ২৮ মার্চ ২০১৮, ২২:১৩
দুদিন ব্যাপী ছাত্রলীগের সংঘর্ষ ও দেশিয় অস্ত্রের মহড়া দেয়ায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) দুই আবাসিক হলে তল্লাশি চালিয়েছে পুলিশ। এসময় তল্লাশি চালিয়ে আনুমানিক ৩০ ছাত্রলীগ কর্মীকে আটক ও ৫টি মোটর সাইকেল জব্দ করা হয়েছে। এছাড়াও বিপুল পরিমান দেশিয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা থেকে রাত আটটা পযর্ন্ত এ অভিযান চালিয়েছে পুলিশ।
 
জানা যায়, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে মঙ্গলবার বিকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বগি ভিত্তিক সংগঠন ভিএক্স ও সিক্সিটি নাইন গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। এসময় দুগ্রুপের ৫জন নেতাকর্মী আহত হন। এ ঘটনার জের ধরে বুধবার সকাল থেকে এই দুটি গ্রুপ দেশিয় অস্ত্র নিয়ে মহড়া ও ইট পাটকেল মারতে থাকে। পরবর্তীতে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য এক পর্যায়ে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। এ সময় পুলিশ পাচঁজনকে আটক করে। পরবর্তীতে দুপুর থেকে আবার এই দুটি গ্রুপ ক্যাস্পাসে উত্তেজনা বিরাজ করলে এবং হলে অবস্থান করলে পুলিশের অবস্থানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি শান্ত করার জন্য প্রক্টরের অনুমতিতে সোহ্রাওয়ার্দী ও শাহ আমানত হলে তল্লাশি চালায় পুলিশ। এসময় বিপুল পরিমান দেশিয় অস্ত্রসহ ৫টি মোটর সাইকেল জব্দ এবং আনুমানিক ৩০ ছাত্রলীগ কর্মীকে আটক করে পুলিশ।
 
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মোহাম্মদ আলী আজগর চৌধুরী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে আমরা হলে তল্লাশি চালিয়েছি। তবে এসময় দুই হলে আনুমানিক ১০-১৫টি কক্ষ সিলগালা করা হয়েছে।
 
হলে তল্লাশি ও আটকের বিষয়ে চট্টগ্রাম উত্তর জেলার পুলিশ সুপার মশিউদৌল্লা রেজা বলেন, গত দুইদিন ধরে সামান্য কথাকাটা কাটি জের ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বগি ভিত্তিক সংগঠন ভিএক্স ও সিক্সিটি নাইন গ্রুপের কর্মীরা বার বার সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছে। সে কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে দুটি আবাসিক হলে তল্লাশি করা হয়েছে। এসময় আনুমানিক ২০জনকে আটক ও ৫টি মোটর সাইকেল জব্দসহ কিছু দেশিয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। মামলার বিষয়ে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যদি মামলা দায়ের করে তাহলে মামলা হবে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে যেহেতু ছাত্রলীগের কোন কমিটি নেই সেহেতু ছাত্রলীগের নাম করে কেউ অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করতে পারবে না। আমাদের এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
 
ইত্তেফাক/আরকেজি