ইত্তেফাক রিপোর্ট
মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে আরও ছয় ভাতা পাওয়া যাবে। এতে তাত্ক্ষণিকভাবেই সুবিধাভোগীরা তাদের মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে টাকা পেয়ে যাবেন। এখন ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে টাকা পান সুবিধাভোগীরা। সুবিধাভোগীরা যাতে দ্রুত ও আরও সহজে মাসিক ভাতা নিতে পারেন, সে জন্য এ সেবা চালু করা হচ্ছে। ভাতাগুলো হচ্ছে- মুক্তিযোদ্ধা সম্মানি ভাতা, বিধবা, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ভাতা, অতিদরিদ্রের জন্য দুস্থ ভাতা ও মাতৃত্বকালীন ভাতা।
জানা গেছে, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি শক্তিশালীকরণ প্রকল্পের আওতায় ভাতাগুলো দেওয়ার পদ্ধতি ডিজিটালাইজড করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে সুবিধাভোগীদের এর আওতায় নিয়ে আসা হবে। বর্তমানে শুধু মাতৃত্বকালীন ভাতা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে দেওয়া হয়। গত বছরের মে মাসে এর আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। তখন আট উপজেলার ১০ হাজার সুবিধাভোগীকে তাত্ক্ষণিকভাবে অর্থ পাঠানো হয়। গত এক বছরে তিন লাখ উপকারভোগী মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে মাতৃত্বকালীন ভাতা পান।
মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে মাতৃত্বকালীন ভাতা চালু আছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে সফল হওয়ায় অন্যান্য মন্ত্রণালয়ে এ প্রযুক্তিতে ভাতা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বর্তমানে সম্মানি ভাতা চালু রয়েছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে। এ ছাড়া বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতা চালু আছে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে। এসব সামাজিক কর্মসূচির আওতায় ভাতাভোগীর সংখ্যা প্রায় এক কোটি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, ২০১১ সালের মার্চে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক প্রথমবারের মতো দেশে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা চালু করে। এ পর্যন্ত ৫৯টি ব্যাংকের মধ্যে ২৮টি ব্যাংককে এই সেবা চালুর অনুমোদন দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মধ্যে ২০টি ব্যাংক সেবাটি চালু করতে পারলেও পরবর্তী সময় ৪টি ব্যাংক সেবাটি বন্ধ করে দেওয়ায় এখন ১৬টি ব্যাংক এ সেবা দিচ্ছে। ২০১৩ সালের নভেম্বরে প্রথম এ সেবার নিবন্ধিত গ্রাহকসংখ্যা এক কোটি ছাড়ায়।
