মিঠাপুকুরে গাছ কাটতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ২ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও একজন শ্রমিক। এ ঘটনায় পল্লী বিদ্যুতের নতুন লাইন নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের ২জনকে আটক করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার পায়রাবন্দ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- ওই গ্রামের লুৎফর রহমানের ছেলে আজগার আলী (৩০) ও মনছুর আলীর ছেলে আলমগীর হোসেন (২৮)।
পুলিশ, এলাকাবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার পায়রাবন্দ ইউনিয়নের জয়রামপুর আনোয়ার নয়াপাড়া গ্রামে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ নেন ফজলুর রহমান। তার বাড়ির পাশে মুকুল মিয়া নামে এক ব্যক্তির ইউক্লিপ্টাস গাছ রয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে ওই গ্রামের দিনমজুর আজগর ও আলমগীর হোসেনসহ অন্য শ্রমিকরা মুকুল মিয়ার গাছ কাটতে যান। এসময় অবৈধ বৈদ্যুতিক সংযোগের তারে জড়িয়ে গাছটি বিদ্যুতায়িত হয়। শ্রমিকরা গাছটি সরানোর চেষ্টা করলে বিদ্যুতায়িত হয়ে আজগর ও আলমগীর ঘটনাস্থলেই মারা যান। গুরুতর আহত হন লিটন নামে অপর আরেকজন শ্রমিক। তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় লাইন নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের ২ শ্রমিককে আটক করে পুলিশে দিয়েছে এলাকাবাসী।
তারা হলেন- মিঠাপুকুর উপজেলার চিথলী পশ্চিমপাড়া গ্রামের গোলজার হোসেনের ছেলে সজিব মিয়া (২৪) ও পীরগাছা উপজেলার শীবদেব গ্রামের আবদুল বারীর ছেলে রিপন মিয়া (২০)। স্থানীয় গ্রামবাসী বেলাল হোসেন, আনারুল ইসলাম ও আবদুর রউফ জানান, ওই গ্রামে নতুন লাইন নির্মাণ হচ্ছে। ফজলুর রহমানের বাড়িতে পল্লী বিদ্যুতের মালামাল রাখা হয়। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের লোকজন সম্প্রতি তার বাড়িতে অবৈধভাবে বিদ্যুতের সংযোগ দেয়। এই অবৈধ সংযোগের কারণেই ২জনের মৃত্যু হয়েছে।
ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান রুবেল কনস্ট্রাকশনের কর্ণধার রুবেল মিয়ার সাথে মোবাইল ফোনে একাধীকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেন নি। মিঠাপুকুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক বলেন, নিহত শ্রমিকদের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত পোস্ট মর্টেমে জন্য পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় ২জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। রংপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ (শঠিবাড়ী) এর সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার নূরুর রহমান বলেন, এ ঘটনার সাথে সরাসরি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান জড়িত। ইতোমধ্যে একজন সহকারী জেনারেল ম্যানেজারকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ৩ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবেন তারা। এরপর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ইত্তেফাক/আরকেজি
