স্পোর্টস রিপোর্টার
টিভি ক্যামেরা তথা সাংবাদিকদের সামনে তাসকিন আহমেদ সবসময় প্রাণবন্ত চরিত্র। ক্যারিয়ারের ভালো সময়, খারাপ সময় কখনই আশাহত রূপে ধরা দেয় না এই তরুণের কণ্ঠ। কিন্তু গতকাল দুপুরে বিসিবি একাডেমির মূল ফটকে সেই তাসকিনই অবনত মস্তকে দাঁড়িয়ে। ঠিক যেন ২২ গজ থেকে আউট হয়ে সাজঘরে ফিরছেন।
গতকাল অবশ্য ঠিকই ‘আউট’ হয়েছেন তাসকিন। অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডে অনুষ্ঠিত গত আসরের সেরা বোলার হলেও আসন্ন বিশ্বকাপের দলে ঠাঁই হয়নি তাসকিনের। স্বপ্নসাধের বিশ্বকাপ দলে জায়গা হয়নি। জিম করতে মিরপুর স্টেডিয়ামে আসা তাসকিনের চোখে অশ্রু টলমল করছিল শুরু থেকেই। বাষ্পরুদ্ধ কণ্ঠ থেকে বের হচ্ছিল না কথা।
তাসকিনের মতোই বিশ্বকাপে দলে সুযোগ পাননি ইমরুল কায়েস। গতকাল বিশ্বকাপ দল ঘোষণার সংবাদ সম্মেলনে তাদেরকে নিয়েই অনেক প্রশ্নের অবতারণা হয়েছিল। দুজনই বলেছেন, তাদের কারো সঙ্গেই নির্বাচকদের কথা হয়নি।
বিপিএলের ইনজুরি কাটিয়ে প্রিমিয়ার লিগে ফিরেছিলেন তাসকিন। প্রধান নির্বাচকের মতে, ফিট না থাকায় দলে নেই তাসকিন। আর টপঅর্ডারে ডানহাতি-বাঁহাতি কম্বিনেশনের খড়গে পড়ে দলছুট অভিজ্ঞ ওপেনার ইমরুল।
নির্বাচকদের সঙ্গে কথা না হলেও অধিনায়ক মাশরাফির সঙ্গে কথা হয়েছে তাসকিনের। গতকাল বলছিলেন, ‘মাশরাফি ভাইরে ফোন দিছিলাম। বলছে পর্যাপ্ত ফিট না, তাই রাখে নাই।’ বিমর্ষ তরুণ আরও বলেছেন, ‘এখন দেশের জন্য যেটা ভালো হয়েছে সেটাই করেছে তারা। স্বপ্ন ছিল, স্বপ্নপূরণ হয়নি আর কি।’ বিপিএলে ২২ উইকেট নিয়ে নিউজিল্যান্ড সফরের টেস্ট ও ওয়ানডে দলে ডাক পেয়েছিলেন। কিন্তু টুর্নামেন্টের শেষ দিকে ইনজুরিতে পড়ে ছিটকে পড়েন দল থেকে। সেই ইনজুরির ধকল কাটিয়ে প্রিমিয়ার লিগে একটি ম্যাচ খেলেছেন। যেখানে তার ফিটনেস যথেষ্ট মনে হয়নি নির্বাচকদের।
অবশ্য নির্বাচকদের বিবেচনাকে সম্মান জানিয়ে দ্রুতগতির এই পেসার বলেছেন, ‘তারা অনেক অভিজ্ঞ, তারা যেটা ভালো মনে করছে সেটাই করেছে। আমার কাছে আমাকে ফিট মনে হয়। নিজের কাছে তো নিজেকে অনেক কিছু মনে হয়। আমার কাছে আমাকে অনেক ভালো বোলার মনে হয়, হয়তো আমি তা নই।’
তবে হাল ছাড়তে নারাজ তাসকিন। তিনি বলেছেন, ‘আসলে চেষ্টা করে যাব, বাকিটা আল্লাহর ইচ্ছা। এছাড়া আর কিছু তো করার নাই। আমি ক্রিকেট ভালোবাসি, ক্রিকেট খেলবো।’
সেই তুলনায় ইমরুল নিতান্তই দুর্ভাগা। দলের প্রয়োজনে যখনই ডাকা হয়, বাঁহাতি এই ওপেনার এসে পারফর্মও করেন। কিন্তু রান করলেও তাকে ছুঁড়ে ফেলা হয় যখন-তখন। এশিয়া কাপের মাঝপথে উড়িয়ে নেয়া হয় তাকে, আফগানদের বিরুদ্ধে ম্যাচ জয়ী ইনিংস খেলেছেন ইমরুল। জিম্বাবুয়ে সিরিজে তামিম-সাকিবদের অভাব বুঝতে দেয়নি তার ব্যাট। প্রায় সাড়ে তিনশ রান করেছেন তিন ম্যাচে। তারপরও দলে নেই ৩২ বছর বয়সী এই ওপেনার।
গতকাল হতাশাজড়িত কণ্ঠে ইমরুল বলছিলেন, ‘সবসময় চেষ্টা করছি ভালো খেলার। জাতীয় দলে যখনই সুযোগ পেয়েছি রান করার চেষ্টা করেছি। মাথায় এটা ছিল যে, ভালো না খেললে বিশ্বকাপে থাকবো না। আমি চেষ্টা করেছি। কিন্তু দলে নেয়নি। এটা কিছু করার নাই। এসব আমার নিয়ন্ত্রণে নাই।’
তবে সুযোগ পেলেই বাংলাদেশের জন্য খেলতে প্রস্তুত ইমরুল। তিনি বলেছেন, ‘আমি সবসময় প্রস্তুত। গত বিশ্বকাপেও পরে গিয়ে খেলেছি। আমি সুযোগের অপেক্ষায় আছি। নিজেকে প্রস্তুত রাখবো।’
