কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার সদরপুর ইউনিয়নের নিভৃত পল্লী কাকিলাদহ। এই গ্রামেই জীবনের গুরুত্বপুর্ণ সময় কেটেছে আন্তঃর্জাতিক আদালতের বিচারপতি ডক্টর রাধা বিনোদ পালের।
বিচারপতির স্মৃতিময় এই গ্রামটিতে এখনো তাঁর অনেক স্মৃতি রয়েছে। রয়েছে শতাধিক বিঘা জমিও। যদিও সেসব নানাজন বেহাত করে রেখেছে।
এই গ্রামের ওমর আলীর ছেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাষ্টার্স করা রফিকুল ইসলাম (৫৪) মহান ওই বিচারপতির স্মৃতি ধরে রাখার জন্য ৭ বছরের বেশি সময় ধরে কাজ করছেন। এ সময়ে তিনি এলাকার সর্বস্তরের মানুষের সহযোগীতায় ২০১১ সালে বিচারপতির পরিত্যাক্ত জমির ওপর বিচারপতি রাধা বিনোদ পাল মডেল স্কুল প্রতিষ্টা করেছেন। এ জন্য রফিকুল ইসলামের বন্ধুবর মিরপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব কামারুল আরেফিন প্রত্যক্ষ সহযোগীতা করছেন।
এ ছাড়াও ইতিমধ্যেই বিভিন্ন সময়ে প্রতিষ্ঠানটি উল্লেখযোগ্যদের মধ্যে পরিদর্শন করেছেন তথ্যমন্ত্রী হাসনুল হক ইনু, কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জাহিদ হোসেন জাফর, কুষ্টিয়ার সাবেক জেলা প্রশাসক সৈয়দ বেলাল হোসেন, বেসরকারী প্রাইম ইউনিভার্সিটির ভিসি আব্দুস সোবহান, সাবেক মিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আজাদ জাহানসহ শতাধিক দেশবরেণ্য ব্যক্তিত্ব।
অতিসম্প্রতি রফিকুল ইসলামের প্রচেষ্টায় সুফল দেখা দিয়েছে। কাকিলাদহ গ্রামের পাশ্ববর্তী আজমপুর গ্রামের কৃতি সন্তান বিমান বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত গ্রুপ ক্যাপ্টেন প্রয়াত এম এম খায়রুজ্জামান ওরফে জামানের স্ত্রী হাসনা জামান ছেলে হাসানুজ্জামান (কানাডা প্রবাসী), সেলিমুজ্জামান,মেয়ে মমতাজ জামান, এলানা জামান (আমেরিকা প্রবাসী) মিলে সর্বমোট ৮৮ শতক জমি বিচারপতি রাধা বিনোদ পাল মডেল স্কুলের নামে দান রেজিষ্ট্রি করে দিয়েছেন।
স্কুলের নামে দানসুত্রে পাওয়া জমি ইতিমধ্যেই যথাযথ নিয়মে খারিজ সম্পন্ন হয়েছে।
রফিকুল ইসলাম বলেন,দানে পাওয়া জমিতেই গড়ে উঠবে বিচারপতি রাধা বিনোদপাল মডেল স্কুলের নিজস্ব ভবন।
স্কুলের নিজস্ব ভবণ নির্মাণ করার পাশাপাশি মহান এই বিচারপতির বাস্তুভিটাকে ঘিরে কিভাবে কাকিলাদহে বাংলাদেশ, জাপান ও ভারতের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদের সমাবেশ ঘটানো যায়, সে ব্যাপারে মিরপুর উপজেলার নেতৃস্থানীয় ব্যাক্তিবর্গের এক কাতারে আনার উদ্যোগও নেবার পরিকল্পনা আছে।
উল্লেখ্য জাপানীদের কাছে সেকেণ্ড গড হিসাবে পরিচিত আন্তর্জাতিক আদালতের বিচারপতি ডক্টর রাধা বিনোদ পাল ২৭ জানুয়ারী ১৮৮৬ সালে বর্তমান বাংলাদেশের কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর উপজোর সিলিমপুরে তাঁর নানা বাড়ীতে জন্ম গ্রহন করেন। ১০ জানুয়ারী ১৯৬৭ সালে মহান এই বিচারপতি ভারতে পরলোক গমন করেন।
ইত্তেফাক/নূহু
