রাজবাড়ীর পাংশায় কৃষকদের মাঝে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে পেঁয়াজ বীজের চাষ। যার ফলে প্রতি বছরই বাড়ছে পেঁয়াজ বীজের আবাদ। এবছর পেঁয়াজ বীজের ভালো ফলন হবে বলে আশা করছেন চাষিরা। তবে চাষিদের অভিযোগ, পেঁয়াজ বীজ উৎপাদনে কৃষি বিভাগ থেকে তাদের দেওয়া হচ্ছে না কোন পরামর্শ। আর কৃষি বিভাগ অভিযোগ অস্বীকার করে বলছে তারা নিয়মিত পেঁয়াজ বীজ চাষে উদ্বুদ্ধ করতে বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন।
দেখতে কদম ফুলের মত পেঁয়াজ ফুল। এই ফুল থেকেই বের হয় কালো রঙ্গের দানা। যাকে কৃষকেরা বলে কালো সোনা। উপজেলার অনেক কৃষকই এখন পেঁয়াজ বীজের আবাদ করছে। অন্য ফসল থেকে পেঁয়াজের বীজের চাষ অধিক লাভজনক হওয়ায় প্রতি বছরই চাষ বাড়ছে। মাটি ও আবহাওয়া পেঁয়াজ বীজ চাষের উপযোগী হওয়ায় এবং বাইরের বীজের ওপর নির্ভরতা কমাতে চাষিরা এই পেঁয়াজ বীজ উৎপাদন করছে। গুণ ও মানের দিক দিয়ে এই বীজ উন্নত হওয়ায় স্থানীয় চাহিদা পূরণ করতে পারছে তারা। এবছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে পেঁয়াজ বীজের ভালো ফলন হবে বলে আশা চাষিদের।
চাষিরা জানায়, জমি চাষ থেকে শুরু করে বীজ, সার, কীটনাশক, সেচ, দিনমজুর, ফসল উত্তোলনসহ বিঘাপ্রতি ব্যয় হয় ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা। আর প্রতি বিঘা (ফসলি জমি) থেকে বীজ পেয়ে থাকেন দুই থেকে আড়াই মণ। বর্তমানে প্রতি কেজি বীজের বাজার দর দেড় থেকে দুই হাজার টাকা। সেই হিসাবে বিঘা প্রতি উৎপাদিত পেঁয়াজ বীজ পেয়ে থাকেন দুই থেকে আড়াই মণ। প্রতি মণ বীজ ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকায় তারা বিক্রি করেন। এই পেঁয়াজ বীজের আবাদে অধিক লাভবান হওয়ায় অনেক কৃষকই এই চাষ করছে। তবে কৃষি বিভাগ থেকে পেঁয়াজ বীজ উৎপাদনে পরামর্শ পেলে আরও বেশি পেঁয়াজ বীজ উৎপাদন করা সম্ভব বলে কৃষকেরা মনে করছে।
IMG0
উপজেলা কৃষি অফিসার জেসমিন আক্তার জানান, এবছর পাংশা উপজেলায় ৬০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ বীজের আবাদ করা হয়েছে। পেঁয়াজ বীজ উৎপাদনে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে চাষিদের বিভিন্ন পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
ইত্তেফাক/এসএস
