টাইগার উডসের স্বপ্নীল প্রত্যাবর্তন

আপডেট : ১৬ এপ্রিল ২০১৯, ২২:০৩

স্পোর্টস রিপোর্টার

এক জীবনের অনেক উত্থান পতনের মধ্যেও পুনরায় পাদপ্রদীপের আলোয় উঠে আসা চাট্টিখানি কথা নয়। তারপরও সেটাই করে দেখালেন টাইগার উডস। গত রবিবার অগাস্টা মাস্টার্স এর শিরোপা জিতে। তারপর থেকে ক্রীড়া বিশ্ব ভাসছে টাইগার বন্দনায়। বিশ্বের সাবেক এক নম্বর গলফারটিও উঠে এলেন শীর্ষের কাছাকাছি, ছয়ে।

গলফ আম জনতার কাছে তেমন জনপ্রিয় না হলেও দুনিয়ার দেশে দেশে আছে এর চর্চা। তাই টাইগার উডসের ১১ বছর পর আবার মাস্টার্স শিরোপা জয়, চারদিকে যখন অনেক বোদ্ধাই তাকে বাতিলের খাতায় ফেলে দিয়েছিলেন, সেই সময়ে এ সাফল্য বিস্ময়কর বৈকি।

তাই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলতে পারেন, চাপের মধ্যেও যারা স্থির থাকতে পারেন, তাদের আমি ভালবাসি। প্রেসিডেন্ট তো বলেই দিয়েছেন উডসকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার প্রেসিডেন্সিয়াল মেডাল অব ফ্রিডম দেবেন।

সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা লিখেছেন, এত উত্থান পতন সামলে মাস্টার্স জয় তোমার দক্ষতা, জেদ ও দৃঢ়চরিত্রকেই তুলে এনেছে। টেনিস তারকা সেরেনা উইলিয়ামস জানান টাইগারের এ সাফল্যে তার চোখে পানি এসে গিয়েছিল। কারণ তার বিস্ময়কর ঘুরে দাঁড়ানো।

ক্রীড়া বিশ্বে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের অনেক ঘটনা আছে। কিন্তু ছাপিয়ে গেছেন টাইগার উডস যার নিজের কাছেও অবিশ্বাস্য লাগছিল এ জয়। যদিও নিজের উপর আস্থা ছিল বলেই এক দশকের বেশি সময় গলফ কোর্সগুলোয় লড়ে গেছেন তিনি। তাও স্ত্রীর সাথে ছাড়াছাড়ি, ব্যক্তিগত জীবনের টানাপোড়েনের পাশাপাশি চারবার পিঠে অস্ত্রোপচারের পরও। এমনকি স্পন্সররাও ছেড়ে গিয়েছিলেন তাকে।

কিন্তু তিনি নিজে বিশ্বাস হারাননি। তাই টাইগার উডস বলতে পারেন, জানতাম এই দিনটা একদিন আসবে। সেই ক্ষমতা আমার আছে। আমার পারফরমেন্সে যেভাবে উন্নতি হচ্ছিল, তা দেখেই মনে হচ্ছিল আমি আবার পারবো।’

এখন তার প্রত্যাবর্তনে আবার উল্লসিত স্পন্সররা। নাইকি তো তাদের নতুন বিজ্ঞাপনে এই গলফার সম্পর্কে বলেছে ৪৩ বছরের টাইগার উডস ৩ বছর বয়সের মতোই একই স্বপ্নের তাড়ায় আছেন। এ নিয়ে ১৫টি মেজর জিতলেন টাইগার। গত রবিবারের সাফল্যটির সুবাদে বিশ্বের সাবেক এক নম্বর গলফারটি দ্বিতীয় বয়স্কতম হিসেবে মাস্টার্স জিতলেন। সবচেয়ে বয়সী হিসেবে এক নম্বরে আছেন জ্যাক নিকলাস যার মেজর শিরোপা ১৮টি।

নিকোলাস এ জয়ের পর গলফ চ্যানেলকে বলেন, ‘আমার দীর্ঘদিন ধরেই মনে হচ্ছিল সে আবার জিততে যাচ্ছে।’ অপরদিকে নাইকির নতুন বিজ্ঞাপনে টাইগার উডসকে খুবই তরুণ বয়সের ছবিতে বলতে শোনা যায়, ‘আমি জ্যাক নিকলসকে হারাতে যাচ্ছি।’

এ জয়ে টাইগারের পাশাপাশি তার ছেলে ১০ বছরের চার্লি উডসেরও স্বপ্ন পূরণ হলো। কারণ স্কুলে এ বছরই নিজের লক্ষ্য হিসেবে ‘বাবাকে আবার চ্যাম্পিয়ন’ হিসেবে দেখতে চেয়েছিলেন চার্লি। গলফ কোর্সটিতে জয়ের সময় হাজির ছিলেন চার্লিও। জয়ের পর তাই ছেলেকে জড়িয়ে ধরেছিলেন বাবা। এই একই জায়গায় ২২ বছর আগে নিজের প্রথম মাস্টার্স জিতে টাইগার তার বাবাকে জড়িয়ে ধরেছিলেন। এবার অবশ্য সেখানে ছিলেন টাইগারের মেয়ে এবং মাও।

টাইগারের মা অবশ্য ২২ বছর আগের সাফল্যের সময়ও উপস্থিত ছিলেন। ছিলেন ছেলের কঠিন সময়ের দিনেও।

এক জীবনে এত সব স্বপ্নপূরণ কজনের কপালেই জোটে?