নগরবাড়ি নৌবন্দরে পন্টুন, ডকইয়ার্ড ও গুদাম না থাকায় ভোগান্তি

আপডেট : ৩০ মার্চ ২০১৮, ১৭:৩৯
নগরবাড়ি  উত্তরবঙ্গের অন্যতম  নৌবন্দর হলেও জাহাজ ভেড়ার পন্টুন, ডকইয়ার্ড, ক্রেন, রাসায়নিক সারসহ অন্যান্য পণ্যসামগ্রী রাখার গুদাম নেই। তবু প্রতিদিন প্রায় ৫-৬ হাজার টন পণ্যসামগ্রী নিয়ে ৭ থেকে ৮টি কার্গো জাহাজ নগরবাড়ি বন্দরে ভিড়ছে। 
 
প্রতি বছর শুস্ক মৌসুমে যমুনা নদীর নাব্য সঙ্কটে কার্গোজাহাজ পূর্ণলোড নিয়ে বাঘাবাড়ি বন্দরে যেতে পারে না। এ কারণে নগরবাড়ি বন্দরে পণ্যসামগ্রী লোড-আনলোড করা হয়। এতে নগরবাড়ির  শ্রমিকদের হাঁকডাকে বন্দর এলাকা মুখরিত হয়ে উঠেছে। 
 
সরেজমিন নগরবাড়ি ঘুরে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ১৯৬৪ সালে নগরবাড়ি-আরিচা রুটের ফেরিচলাচল শুরু হওয়ার পর থেকেই নগরবাড়ি বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠে। এ ছাড়া উত্তরবঙ্গের অন্যতম প্রবেশদ্বার হিসেবে খ্যাতি লাভ করে। সে সময়  প্রতিদিন নগরবাড়ি হয়ে দুই শতাধিক যাত্রবাহী কোচ ও তিন সহস্রাধিক পণ্যবাহী ট্রাকসহ অন্যান্য যানবাহন রাজধানী ঢাকাসহ পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় যাতায়াত করতো। নগরবাড়িতে ফেরির অপেক্ষায় শত শত যানবাহন ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতো। ফেরি সার্ভিসকে কেন্দ্র করে নগরবাড়িতে গড়ে ওঠে শতাধিক আবাসিক হোটেল, মোটেল, খাবার হোটেল, রেস্টুরেন্ট, পান-বিড়ির দোকান। ১৯৯৭ সালে যমুনা সেতু চালুর পর এই রুটে ফেরি সার্ভিস বন্ধ করে দেয়া হয়। এরপর শতাধিক আবাসিক হোটেল, মটেল, খাবার হোটেল, রেস্টুরেন্ট, পান-বিড়ির দোকান বন্ধ হয়ে যায়। নগরবাড়ির ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির হয়ে যায়। 
 
সূত্র জানায়, ২০০৩ সালে যমুনা নদীতে ভয়াবহ নাব্য সঙ্কট দেখা দেয়ায় বাঘাবাড়ি বন্দরের সঙ্গে সারা দেশের নৌযোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। ওই সময় অস্থায়ীভাবে নগরবাড়ির কাজীরহাট ঘাটে মালামাল লোড-আনলোড করা হয়। সেখান থেকে বিকল্প ব্যবস্থায় উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলায় জ্বালনি তেল সরবরাহ দেয়া হয়। এরপর থেকে প্রতি বছর শুস্ক মৌসুমে যমুনা নদীতে নাব্য সঙ্কট দেখা দেয়। পূর্ণলোড নিয়ে পণ্যবাহী কার্গোজাহাজ বাঘাবাড়ি বন্দরে যেতে পারে না। পথে পাটুরিয়ায় অর্ধেক মালামাল আনলোড করে জাহাজ বাঘাবাড়ি বন্দরে পৌঁছায়। এতে ব্যবসায়ীদের জাহাজ প্রতি ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হয়। এ কারণে অনেক ব্যবসায়ী বাঘাবাড়ি বন্দর ব্যবহারে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। তারা স্থায়ীভাবে নগরবাড়ি ফেরিঘাটকে বন্দর হিসেবে ব্যবহার করছেন। প্রতিদিন প্রায় ৫-৬ হাজার টন রাসায়নিক সার, ক্লিংকার, কয়লা, গমসহ বিভিন্ন পণ্যবাহী ৭ থেকে ৮টি কার্গোজাহাজ নগরবাড়ি বন্দরে ভিড়ছে।  
 
তবে নগরবাড়ি নৌবন্দরে নেই জাহাজ ভেড়ার পন্টুন, ডকইয়ার্ড, ক্রেন ও পণ্যসামগ্রী রাখার গুদাম। বিভিন্ন পণ্যবাহী জাহাজ এসে নগরবাড়িতে ঝুঁকি নিয়ে যমুনা নদী পাড়ে ভিড়ছে। প্রায় ৫শ’ থেকে ৬শ’ শ্রমিক প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জাহাজ থেকে মালামাল লোড-আনলোড করছে। পন্টুন না থাকায় ৮-৯ ফুট উঁচু থেকে বস্তা মাথায় নিয়ে সিঁড়ি বেয়ে তাদের নদীর পাড়ে নামতে হচ্ছে।  বিভিন্ন পণ্যসামগ্রী জাহাজ থেকে আনলোড করে খোলা আকাশের নিচে স্তুপ করে রাখা হচ্ছে। সেখানে বাফার গুদাম না থাকায় প্রায় এক কিলোমিটার এলাকা জুড়ে হাজার হাজার টন রাসায়নিক সার মাসের পর মাস খোলা আকাশের নিচে রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে জমাট বেধে যাচ্ছে। এতে ওই সারের গুণগতমান নষ্ট হয়ে হচ্ছে। সারের ঝাঁঝাঁলো গন্ধে আশপাশের এলাকার পরিবেশ দুষিত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নগরবাড়ির ব্যবসায়ীরা পণ্যবাহী জাহাজ ভেড়ার পন্টুন, ডকইয়ার্ড, ক্রেন ও বাফার গুদাম নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছেন দীর্ঘ দিন। কিন্তু তাদের সে দাবি পুরণ হয়নি।
 
 
ইত্তেফাক/ইউবি