চরাঞ্চলে গড়ে উঠছে নতুন নতুন বাগান
নুরুজ্জামান, বাঘা (রাজশাহী) সংবাদদাতা
আমপ্রধান অঞ্চল হিসেবে খ্যাত রাজশাহীর চারঘাট ও বাঘা উপজেলায় এ বছর আমের উত্পাদন কম হওয়ার আশঙ্কা করছেন আমচাষিরা। তারা বলছেন, বিগত চার-পাঁচ বছরের তুলনায় এবার বাগানে যে পরিমাণ মুকুল এসেছিল সে তুলনায় আম ধরেনি। ফলে হতাশা ও উত্কণ্ঠায় রয়েছেন এ অঞ্চলের বাগান মালিকরা।
রাজশাহীকে আমের জন্য বিখ্যাত বলা হলেও আম প্রধান অঞ্চল মূলত জেলার চারঘাট-বাঘা ও চাপাইনবাবগঞ্জ। এর মধ্যে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বাঘার আমের সু-খ্যাতি সবচেয়ে বেশি বলে জানান আম ব্যবসায়ীরা। তারা বলেন, বিগত দুই বছর কতিপয় অসাধু ব্যবসায়ীর কারণে সরকারিভাবে সময় বেধে আম পাড়া শুরু এবং বাজার মূল্য ভালো না পাওয়ায় আমের সাথে সম্পৃক্তরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। এ বছরও যদি বাজার মূল্য ভালো না হয়-তাহলে আবারও আম চাষিদের মাথায় হাত পড়বে।
বাঘা উপজেলার আমোদপুর গ্রামের কৃষক আলী আকবর ও চারঘাট উপজেলার মুংলী গ্রামের কৃষক মাইনুল ইসলাম জানান, এ বছর অধিকাংশ গাছে মুকুল এলেও সব গাছে আম ধরেনি। এমনও লক্ষ্য করা গেছে, একটি বাগানে ৩০টি আম গাছ রয়েছে। এর মধ্যে ২৫টি গাছে এবার মুকুল এসেছিল। কিন্তু আম রয়েছে মাত্র ১৫ থেকে ১৬টি গাছে। এ নিয়ে তাদের অভিমত, পর-পর দুই বছর কৃষকরা আমে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এবার আম বাগানের প্রতি তারা যত্নশীল হননি। এ কারণে এই বিপর্যয় হয়েছে।
অপরদিকে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিউল্লা সুলতান জানান, আম এক বছর ভালো হলে অন্য বছর এমনি কম হয়। এ দিক থেকে পরপর দুই বছর দেশে প্রচুর পরিমাণ আম উত্পাদন হওয়ায় এবার আম কম হয়েছে। তিনি আরো বলেন, বিগত দুই বছর আম বেশি হওয়ার কারণে বাজার মূল্য কমে যাওয়ায় কৃষকরা বাগানে ঠিকমত আগাছা পরিষ্কার ও সার প্রয়োগ করেনি। এটিও আম কম ধরার আরেকটি প্রধান কারণ।
এ দুই উপজেলায় যেসব আম দেখা যায়, তার মধ্যে ফজলী, আশ্বিনী, ল্যাংড়া, গোপালভোগ, আড়াজম, খিরসাপাত, লকনা, মহনভোগ, আতা, সেনরী, ফনিয়া, কাঁচামিটি, বুড়িরশাউনি, চরুশা, রানী পছন্দ, মহন ঠাকুর, তোতাপরী ইত্যাদি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। সম্প্রতি আম্রপালিসহ কিছু বিদেশি প্রজাতির আম লক্ষ্য করা যাচ্ছে এ অঞ্চলে। এর মধ্যে আশ্চর্য হলেও সত্যি যে, বাঘার দুর্গম পদ্মার চরাঞ্চল এলাকায় গড়ে উঠছে নতুন নতুন আম বাগান। চরের লোকজন জানান, তাদের এলাকার আম আবহাওয়া গুণে সুস্বাদু এবং টেকসই।
উপজেলা কৃষি বিভাগের দেওয়া তথ্য মতে, বাঘায় আম বাগান রয়েছে প্রায় সাড়ে চার হাজার হেক্টর জমিতে। খাদ্য শস্যের পাশা-পাশি অর্থকরী ফসল হিসেবে এখানে আমই প্রধান। প্রতিবছর বাঘা উপজেলার কৃষকরা শুধু আম বিক্রি করে অর্থ উপার্জন করেন ৬ থেকে ৭ শ’ কোটি টাকা। অনুরূপ অর্থ উপার্জন করেন পার্শ্ববর্তী চারঘাট উপজেলার আম চাষিরা।
প্রবাদ আছে ‘আমের আনা, মাছের পাই’ অর্থাত্ আম যে পরিমাণ গাছে আসে শেষ পর্যন্ত তার এক আনা থাকলেই ব্যবসায়ীদের লাভ। বাকি ১৫ আনা ঝরে গেলেও কিছু আসে-যায় না। এখন এই প্রবাদকে লালন করে প্রতিদিন নিরলসভাবে আম পরিচর্যা করছেন আমচাষি ও ব্যবসায়ীরা।
