চরফ্যাশনে গলাকেটে হত্যার করা মা জাহানারা বেগমের লাশ দাফনের চার ঘণ্টা পর শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে নিখোঁজ শিশু আবিরের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ডোবা থেকে পুলিশ শিশুটির গলাকাটা ভাসমান লাশ উদ্ধার করেছে। এসময় ওই ডোবা থেকে ধারালো একটি দা উদ্ধার করা হয়। ওই দা মা ও ছেলের খুনের কাজে ব্যবহৃত হয়েছে বলে পুলিশের ধারণা।
বৃহস্পতিবার গভীর রাতে চর মাদ্রাজের চর আফজাল গ্রামে স্বামী মাহাবুবের ঘরেই জাহানারা বেগমকে জবাই করে হত্যা করা হয়। মাকে হত্যার পর খুনিরা নিহতের ৬ বছরের ছেলে আবিরকে নিয়ে যায়। নিখোঁজের দুইদিন পর ওই ঘরের কাছে পশ্চিম পাশের একটি ডোবায় আবিরের লাশ ভেসে উঠে বলে পুলিশ ও স্থানীয়রা জানিয়েছে।
জাহানারাকে হত্যার ঘটনায় চরফ্যাশন থানায় দায়ের করা হত্যা মামলায় তার বাবা সৈয়দ আহমদ চৌকিদার এজাহারে উল্লেখ করেছেন, নিকটাত্মীয় মিলন নফতীর সাথে ২৪শতাংশ জমি নিয়ে বিরোধ আছে জামাই মাহাবুবের। তাই মিলনকে ফাঁসাতে মাহাবুবের বাবা মান্নান মাঝি, মা মোর্শেদা এবং ভাই ইব্রাহিমসহ কয়েকজন পরিকল্পিতভাবে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে তার মেয়ে জাহানারাকে জবাই করে হত্যা করেছে। মামলা দায়েরের পর পুলিশ ওই চারজনকে গ্রেফতার দেখিয়ে শনিবার আদালতে সোপর্দ করেছে।
চরফ্যাশন থানার ওসি এনামূল হক জানান, শনিবার দুপুরে মা জাহানারা বেগমের লাশ দাফনের কয়েক ঘণ্টা পরই স্থানীয়রা ওই বাড়ির পাশের ডোবায় লাশ ভাসতে দেখে থানায় খবর দেয়। পুলিশ আবিরের গলাকাটা ভাসমান লাশ উদ্ধার করে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে-জমির বিরোধকে কেন্দ্র করে গৃহবধূ জাহানারাকে জবাই করে হত্যা করা হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের প্রত্যক্ষদর্শী ছিল শিশু সন্তান আবির। সত্য প্রকাশ পেয়ে যাবে এমন আশঙ্কা দূর করতে আবিরকেও হত্যা করা হয়। গ্রেফতারকৃত আসামিদের রিমান্ড চাওয়া হয়েছে। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই সব সত্য প্রকাশ পাবে।
ইত্তেফাক/আরকেজি
