বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা বলেছেন, বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক ঐতিহাসিক। ১৯৭১ সালে ভারতীয় সেনা ও বাংলাদেশি মুক্তিযোদ্ধারা একসঙ্গে যুদ্ধ করেছিলেন, রক্ত দিয়েছিলেন। এর ফলেই জন্ম হয় বাংলাদেশের। এটা ভারত আজও গর্বের সঙ্গে স্মরণ করে। দুঃসময়-সুসময় বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক অটুট থাকবে এটাই প্রত্যাশা। এসব কারণে দুই দেশের সম্পর্ক ঐতিহাসিক।
সোমবার সকাল থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত রাজশাহী মহানগরীতে ভারত সরকারের অর্থায়নে চলমান কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শন শেষে তিনি একথা বলেন।
হাইকমিশনার শ্রিংলা বলেন, বাংলাদেশ ভারতের প্রতিবেশী দেশ। তাই বাংলাদেশের উন্নয়ন কাজে ভারত অংশ নিচ্ছে। এছাড়া রাজশাহী ভারতের আরও কাছের একটি শহর হিসেবে এখানকার টেকসই উন্নয়নে ভারত কাজ করে যাচ্ছে। এ শহরের উন্নয়নে ভারত সরকার প্রকল্প দিয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে পেরে আমরা আনন্দিত। বাংলাদেশ-ভারতের এ সম্পর্ক চিরকাল অটুট থাকবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
উল্লেখ্য, রাজশাহী শহরের উন্নয়নে ভারত সরকার ২১ কোটি ৯৫ লাখ টাকা দিয়েছে রাজশাহী সিটি করপোরেশনকে (রাসিক)। সামাজিক, সাংস্কৃতিক, পরিবেশ ও প্রত্মতত্ত্ব, অবকাঠামো উন্নয়ন সাধন ও সংরক্ষণের মাধ্যমে রাজশাহী শহরের টেকসই উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় নগরীর ৬টি প্রাচীন মন্দির ও নগরীর তালাইমারী এলাকার প্রাচীন গ্রন্থাগার সংস্কার, ফুটপাত নির্মাণ ও ২টি জলাধার নির্মাণের কাজ করছে সিটি করপোরেশন।
এর মধ্যে ৫৩ লাখ টাকা ব্যয়ে সংস্কার হচ্ছে মহানগরীর ৬টি পুরনো ধর্মীয় মন্দির (মঠ), ৩.৮১ লাখ টাকা ব্যয়ে পদ্মা পারিজাত লেক এবং সপুরা সিল্ক ফ্যাক্টরি সংলগ্ন জলাশয়, ১৩ কোটি ৬৮ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে আধুনিক ফুটপাত এবং ২ কোটি ৭৮ লাখ টাকা ব্যয়ে তালাইমারী শহীদ মিনার সংলগ্ন পদ্মা সাধারণ গ্রন্থাগার ভবন। এসব কাজ পরিদর্শন করেন হর্ষবর্ধন শ্রিংলা।
এসময় রাজশাহী সদর আসনের সংসদ সদস্য ফজরে হোসেন বাদশা, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) মেয়র মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, রাজশাহীস্থ ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনার শ্রী অভিজিৎ চট্টোপাধ্যায় ও সেকেন্ড অফিসার একে মিশ্র ও রাসিকের প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল হক প্রমুখ তার সঙ্গে ছিলেন।
সকাল ১০টায় হর্ষবর্ধন শ্রিংলা হোটেল থেকে বের হয়ে প্রথমেই নগরীর পদ্মা আবাসিক এলাকায় চলমান পদ্মা পারিজাত লেক উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শনে যান। ৩ কোটি ৮১ লাখ টাকায় সংস্কার হচ্ছে লেকটি। এরপর তিনি নগরীর তালাইমারী শহীদ মিনার এলাকায় পদ্মা সাধারণ গ্রন্থাগার ভবন নির্মাণ কাজ দেখতে যান। ২ কোটি ৭৮ লাখ টাকায় নির্মিত হচ্ছে ছয়তলা বিশিষ্ট আধুনিক ভবনটি। পরে হর্ষবর্ধন শ্রিংলা নগরীর শ্রীরামপুর এলাকায় ফুটপাত নির্মাণ কাজ পরিদর্শন করেন। ১৩ কোটি ৬৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ওই এলাকার রাস্তার দুপাশে নির্মিত হচ্ছে দৃষ্টি নন্দন ফুটপাত। এরপর হর্ষবর্ধন শ্রিংলা নগরীর ‘টি-বাঁধ’ পরিদর্শনে যান। সেখানে তিনি কিছু সময় কাটান। ফেরার পথে হর্ষবর্ধন শ্রিংলা নগরীর বাবলাবন বধ্যভূমিতে পুষ্পার্ঘ অর্পণের মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর তিনি রাজশাহী পুলিশ লাইন রোডের দুই লেনের ফুটপাত এবং সপুরাস্থ প্রাচীন ধর্মীয় মন্দির সংস্কার প্রকল্প পরিদর্শন শেষে সেখানে সংক্ষিপ্ত প্রেস ব্রিফিং করেন।
এ সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে হর্ষবর্ধন শ্রিংলা বলেন, ‘রাজশাহী সদর আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশার অনুরোধে আমরা রাজশাহী থেকে মালদা হয়ে কলকাতা পর্যন্ত একটি মৈত্রী ট্রেন চালুর উদ্যোগ নিয়েছি। এ নিয়ে দুই দেশের রেলপথ মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাবনা গেছে। এটির প্রস্তুতি খুব ভালো। কারিগরি প্রস্তুতিগুলো শেষ হলেই ট্রেনটি চালু হবে। দুই দেশের পর্যটন ও ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। ভারত সর্বদা রাজশাহীর উন্নয়নে সহযোগিতা করবে বলে আশ্বাস প্রদান করেন তিনি। গ্রিন সিটি, ক্লিন সিটি, হেলদি সিটি ও এডুকেশন সিটি এবং শান্তির শহর হিসেবে আখ্যায়িত করেন তিনি।
রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল বলেন, পরিদর্শনকৃত প্রকল্পগুলোর মাধ্যমে রাজশাহীর সঙ্গে ভারতের বন্ধুত্বের একটি স্মারক তৈরি হয়েছে। ভারত যে টাকা দিয়েছে তা দিয়ে রাজশাহীকে একটি পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করছে রাসিক।
এরআগে রবিবার সন্ধ্যায় শ্রিংলা প্রধান অতিথি হিসেবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যিালয় ক্যাম্পাসে আয়োজিত সপ্তাহব্যাপী ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী নাট্যোৎসবের উদ্বোধন করেন।
ইত্তেফাক/আরকেজি
