দৈনিক ইত্তেফাকের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক তাসমিমা হোসেন বলেছেন, গ্রামাঞ্চলের অভূতপূর্ব উন্নয়ন হওয়ায় এখন কাজের সন্ধানে কেউ আর শহরমুখী হচ্ছে না। গ্রামাঞ্চলের মানুষেরা গ্রামের সম্পদ কাজে লাগিয়ে স্বাবলম্বী হচ্ছেন। রাসূল (সা.) বলেছেন তোমরা ধনী হতে চাইলে কৃষি কাজে নেমে পড়, উর্বর মাটিতেই আল্লাহ রাব্বুল আলামিন সম্পদ দিয়েছেন। তাই আমাদেরকে গ্রামের উর্বর জমিতে ফসল ফলিয়ে স্বাবলম্বী হতে হবে।
গত রবিবার বিকালে পটুয়াখালীর সদর উপজেলার ইটবাড়িয়া ইউনিয়নে ভিক্ষুক পুনর্বাসন কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গেস্ট অব অনারের বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।
তাসমিমা হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। তাই এখানে পায়রা বন্দর, বিদ্যুত্ প্লান্ট, লেবুখালী ব্রিজ, সেনানিবাসসহ বড় বড় প্রকল্প হাতে নিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী সার্বক্ষণিক মানুষের উন্নয়নে চিন্তা করে থাকেন। তাই অবহেলিত এ দক্ষিণাঞ্চল এখন উন্নত অঞ্চলে রূপ নিচ্ছে।
তাসমিমা হোসেন আরো বলেন, পায়রা বন্দরকে কেন্দ্র করে চলমান উন্নয়নে এ এলাকার মানুষের ব্যাপক কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হচ্ছে। পটুয়াখালীতে যে উন্নয়ন হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে এ উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে যে ধরনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, তার সুফল এলাকাবাসী ভোগ করবেন।
তিনি স্থানীয়দের উদ্দেশে আরো বলেন, ব্যাপক এ কর্মযজ্ঞে যে জনবলের প্রয়োজন পড়বে তাতে করে আপনাদের মধ্যে যাদের সন্তানরা শহরে গিয়ে কাজ করছে তাদের গ্রামে ফিরিয়ে আনতে হবে। কেননা নিজ এলাকায় থেকে কাজ করতে পারলে কেউ আর শহরমুখী হবে না। এ অঞ্চল ভিক্ষুকমুক্ত হচ্ছে এটা অত্যন্ত খুশির খবর। এ অঞ্চলে যে সম্ভাবনা রয়েছে তাতে প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের যৌথ ভূমিকায় কর্মসংস্থানের মাধ্যমে সকলকে কাজে লাগিয়ে উন্নয়ন আরো ত্বরান্বিত করা সম্ভবপর হবে।
ভিক্ষুক পুনর্বাসন কর্মসূচি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক ড. মো. মাছুমুর রহমান বলেন, পটুয়াখালীকে কেন্দ্র করে সরকারের ব্যাপক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এসব প্রকল্পের চলমান কাজ শেষ হলে এ অঞ্চল সিঙ্গাপুরের ন্যায় উন্নত শহুরে জনপদে রূপ নেবে। পটুয়াখালী জেলাকে ভিক্ষুকমুক্ত করতে নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। সে লক্ষ্যে ইটবাড়িয়া ইউনিয়নের ২৪ জন ভিক্ষুককে কর্মসংস্থানের আওতায় আনা হয়েছে। এদেরকে রিকশা, ভ্যান, নগদ টাকাসহ নানাভাবে সহযোগিতার মাধ্যমে ভিক্ষাবৃত্তি থেকে মুক্ত করা হচ্ছে।
ইটবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক জোমাদ্দারের সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন— জেলা প্রশাসকের সহধর্মিণী সেলিনা মাছুম, উপজেলা চেয়ারম্যান তারিকুজ্জামান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) সাবেকুন নাহার প্রমুখ।
পুনর্বাসন কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে স্থানীয় শিল্পীদের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
ইত্তেফাক/নূহু
