সাতক্ষীরায় পাখি প্রজাতি টার্কি মুরগী পালন করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন খামারিরা। পোল্ট্রি মুরগীর চেয়ে টার্কি মুরগীর রোগ-ব্যাধি কম, মাংস খেতে সুস্বাদু ও চাষ লাভ জনক হওয়ায় এই মুরগী পালন বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এ জেলায়। তাই সাতক্ষীরা জেলার বিভিন্ন স্থানে বাসা-বাড়ির আঙ্গিনায় ও বাড়ির ছাদে ছোট ছোট ঘর তৈরি করে গড়ে উঠছে টার্কি মুরগীর ফার্ম।
জানা গেছে, সাতক্ষীরা সদর, দেবহাটা, কলারোয়া ও তালা উপজেলাসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে বাসা-বাড়ির আঙিনায় ও বাড়ির ছাদে ছোট আকারের ঘর তৈরি করে গড়ে উঠেছে এই টার্কি মুরগীর ফার্ম। অনুকূল আবহাওয়া ও পরিবেশ গত কারণে সাতক্ষীরায় দিন দিন টার্কি পালন বৃদ্ধি পাছে। স্বল্প খরচে লাভ বেশি হওয়ায় টার্কির ফার্ম করে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়েছেন খামারিরা। এর ফলে জেলার অনেক বেকার যুবক-যুবতীরা এখন ঝুঁকছেন এ ব্যবসায়।
সাতক্ষীরা শহরের পুরাতন সাতক্ষীরা এলাকার গৃহিণী সাজিদা খাতুন। জীবনের অনেক কঠিন সময় পার করেছেন তিনি। পরিবারের অভাব অনটনের কারণে পোল্ট্রিফার্ম ও ধান ক্রয়সহ নানা ধরনের ক্ষুদ্র ব্যবসা করেও তার জীবনে আসেনি কোন সচ্ছলতা। এরপর তিনি গত তিন বছর আগে পাশের গ্রাম থেকে একজোড়া টার্কি মুরগি কিনে তার চাষ শুরু করেন। এই টার্কির বয়স ছয়-সাত মাস যেতে না যেতেই তা ডিম দেয়া শুরু হয়। এর পর তাকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। সেই এক জোড়া টার্কি মুরগি থেকে এখন তিনি কয়েকশ' টার্কি মুরগীর মালিক। এখন তিনি বাণিজ্যিকভাবে টার্কির খামার তৈরি করেছেন।
সাজিদা খাতুন বলেন, টার্কি মুরগি রোগবালাই প্রতিরোধ ক্ষমতা খুব বেশি। ছয় মাসের একটি পুরুষ টার্কির ওজন হয় পাঁচ থেকে ছয় কেজি এবং স্ত্রী টার্কির ওজন থাকে তিন থেকে চার কেজি। প্রতি কেজি টার্কি মুরগি বিক্রি হয় ৩শ' টাকায়। তিনি আরো জানান, ইনকিউবেটরের মাধ্যমে ২৮ দিনেই এর ডিম ফুটোনো যায় এছাড়া বর্তমানে দেশি মুরগির মাধ্যমে টার্কির ডিম ফোটানোর ব্যবস্থা রয়েছে। তিনি এক মাসের এক জোড়া বাচ্চা বিক্রি করেন আড়াই হাজার টাকায়। প্রতিটি ডিম বিক্রি করেন ২শ' টাকায়। তিনি আরো বলেন, ঢাকা, খুলনা, যশোর, বরিশাল, পিরোজ পুর, সহ দেশেরে বিভিন্ন জায়গা থেকে তার কাছে টার্কি মুরগি ক্রয় করতে আসেন ক্রেতারা।
তার ভাষ্যে, টার্কির মাংসের সুখ্যাতি বিশ্বজুড়ে। এর উৎপাদন খরচ তুলনামূলক অনেক কম। তাই টার্কি পালন বেশ লাভজনক। টার্কির প্রধান খাবার ঘাস। তবে পাতাকপি, কচুরিপানা এবং দানাদার খাবারও খেয়ে থাকে এরা। তিনি বলেন, যদি কোন ব্যাংক থেকে লোন পায় তবে ব্যবসা টি আরও বড় কারার ইচ্ছা আছে তার। তবে একটি প্রতারক চক্র ভারত থেকে নিম্নমানের টার্কির বাচ্চা দেশে নিয়ে আসছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এ ধরনের বাচ্চা মারা যাচ্ছে।
মাংসের উৎস হিসেবে হাঁস, মুরগী, কোয়েল পাখির বিকল্প হিসেবে টার্কি মুরগীর অবস্থান খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কোলেস্টেরল ও চর্বি কম এবং খেতে সুস্বাদু হওয়ায় তাই বিভিন্ন উৎসবে টার্কির মাংসের চাহিদা বেড়েছে। খামারিদের দাবী স্বল্প সুদে সরকার তাদের লোনের ব্যবস্থা করলে তাদের এই ব্যবসা আরো প্রসার ঘটবে।
IMG0
এ ব্যাপারে সাতক্ষীরা জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা সমরেশ চন্দ্র দাশ জানান, টার্কি আমাদের প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরের নতুন একটি নতুন প্রজাতি। অনেক দিন ধরে সাতক্ষীরাতে টার্কি মুরগী পালন শুরু হয়েছে। এটি একটি লাভজনক ব্যবসা। কম খরচে অত্যন্ত লাভ জনক একটি ব্যবসা হিসাবে প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে টার্কি মুরগী চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। আর এ কারণে খামারিরা এখন এ ব্যবসায় বেশি ঝুঁকছে। তিনি আরো জাজান, প্রাণী সম্পদ বিভাগ থেকে সকল টার্কি খামারিদেরকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ এবং সহযোগিতা করা হয়।
ইত্তেফাক/এসএস
