আলমডাঙ্গায় একের পর এক মোটরসাইকেল চুরির ঘটনা ঘটছে। মোটরসাইকেল চোর সিন্ডিকেটের হোতাদের চিহ্নিত করতে পেরেছে আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ। পুলিশ দু‘টি গাড়িও উদ্ধার করেছে। তবে শীর্ষ মহলের চাপাচাপিতে সিন্ডিকেটের সদস্যদের আটক করা সম্ভব হয়নি। ফলে এতদিনে চুরি যাওয়া মোটরসাইকেল উদ্ধার অনেকটা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
পুলিশ গত শনিবার রাতে অভিযান চালিয়ে মিরপুর উপজেলার মালিহাদ গ্রামের সড়ক থেকে একটি এবং গতকাল আলমডাঙ্গার কুমারী গ্রামের সড়কের ওপর থেকে একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করে।
জানা গেছে, গত এক মাসে ১০টির মত মোটরসাইকেল চুরি হয় আলমডাঙ্গা এলাকা থেকে। সক্রিয় চোরচক্রটি নিয়মিত বিরতিতে মোটরসাইকেল চুরি করে যাচ্ছে। এর মধ্যে পুলিশের এক দারোগার মোটরসাইকেলও চুরির কবলে পড়ে।
এরপর পুলিশ গাড়ি চোরচক্রের অনুসন্ধানে নামে। পুলিশের অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে চোরচক্ররা সব মিরপুর এলাকার বাসিন্দা। তারা আলমডাঙ্গায় বসবাসকারী মিরপুর এলাকার লাভলু নামের একজনকে দিয়ে গাড়ির অবস্থান চিহ্নিত করে। পরে পেশাদার চোরচক্র গাড়িটি অনায়াসে চুরি করে নিয়ে যায়।
পুলিশ ক্রেতা সেজে ওই চক্র ধরার চেষ্টা করে। চোরচক্রের একেবারে কাছে পৌঁছে যায় পুলিশ। তথ্যানুযায়ী আলমডাঙ্গা থানার এসআই একরামুল ও এএসআই মোস্তফা কামাল গত শনিবার রাতে মিরপুরের মল্লিকপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে আটক করে মামুনকে। মামুনের দেয়া তথ্য অনুযায়ী একই রাতে আটক করা হয় মালিহাদ গ্রামের নাজমুলকে।
নাজমুল জানিয়েছে সে জাসদ ছাত্রলীগের নেতা। তাকে পুলিশ আটক করতে পারে এটা ছিল নাজমুল ও তার পরিবারের কল্পনাতীত। তবুও পুলিশ নাজমুল ও মামুনকে আটক করে। তবে এরপর পুলিশকে থেমে যেতে হয়। আর এগিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। অনবরত ওপর মহলের চাপ আসতে থাকে। মামুন ও নাজমুলকে ছেড়ে দিতে হয়।
নাজমুল জানায়, মিরপুরের বিরামপুর গ্রামের আরজ আলীর ছেলে ফরজ, মালিহাদ গ্রামের ক্ষ্যাপা মেম্বর ও উজ্জলও গাড়ি চোরচক্রের সদস্য। পুলিশ এখন ক্ষ্যাপা মেম্বর ও উজ্জলকে খুঁজছে।
এ ব্যাপারে থানার এসআই একরামুল হোসেন ইত্তেফাককে জানান, মিরপুরের মোটরসাইকেল চোরচক্রের সদস্যরা সকলে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় রয়েছে। ওপর মহলের চাপে তাদেরকে আটক করা যাচ্ছে না।
থানার অফিসার ইনচার্জ আবু জিহাদ খান ইত্তেফাককে বলেন, আমরা ওপর মহলের সাথে যোগাযোগ করে এ ব্যাপারে পরবর্তী পদক্ষেপ নেব। তিনি জানান, মোটরসাইকেল উদ্ধারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
ইত্তেফাক/নূহু
