কোন্দলে উদ্বিগ্ন আওয়ামী লীগ সুষ্ঠু ভোট নিয়ে শঙ্কায় বিরোধীরা

আপডেট : ০৪ এপ্রিল ২০১৮, ০১:৪২

আসন্ন গাজীপুর ও খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বি পক্ষগুলোর মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন শঙ্কা দৃশ্যমান হচ্ছে। বিরোধী পক্ষের শঙ্কা নির্বাচন সুষ্ঠু হবে কি না তা নিয়ে। আর ক্ষমতাসীন বা সরকারি দলের শঙ্কা গৃহবিবাদ নিয়ে।

নির্বাচন কমিশন বলছে, নির্বাচন অবাধ সুষ্ঠু হবে কিন্তু সম্প্রতি শেষ হওয়া স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন স্তরের ১৩৩ টি নির্বাচনে সহিংসতায় আস্থা পাচ্ছেন না অনেকেই। পক্ষান্তরে ওই নির্বাচনেও বিদ্রোহী প্রার্থিতা ঠেকাতে ব্যর্থ ক্ষমতাসীন দলের মধ্যেও অস্বস্তি দেখা গেছে। এ নিয়ে কোথাও কোথাও গৃহবিবাদ প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে, দলের মধ্যে বিভাজনও তৈরি হয়েছে।

গত শুক্রবার অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের নির্বাহী কমিটির সভায় দলীয় প্রধান এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যারা দলের বিপক্ষে কাজ করবেন বা অতীতে করেছেন তাদের ছাড় দেয়া হবে না। এ ছাড়া দলটি অভ্যন্তরীণ বিবাদ নিরসনে ৫ সদস্যের কমিটিও করেছে যারা কোন্দলপূর্ণ এলাকার নেতাদের ডেকে কথা বলে তা নিরসনের চেষ্টা করবেন।

গাজীপুর ও খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচন হবে আগামী ১৫ মে। এরআগে প্রার্থিতা দাখিল ১২ এপ্রিল। অর্থাত্ প্রার্থিতা নির্ধারণ ও দাখিলের জন্য সময় আছে ৯ দিন।

এখন পর্যন্ত স্থানীয়ভাবে প্রাপ্ত খবরে জানা যায়, প্রতিটি দলেই একাধিক প্রার্থী মনোনয়নের জন্য দৌড়ঝাপ, লবিং শুরু করেছেন। গাজীপুরে গতবার তত্কালীন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলমকে এক প্রকার বলপ্রয়োগ করেই বসিয়ে দেয়া হলেও এবার তিনি প্রার্থী হচ্ছেন সে ঘোষণা দিয়েছেন। আবার গতবারের আওয়ামী লীগের প্রার্থী এবং মহানগরের সভাপতি অ্যাডভোকেট আজমত উল্লা খান নিজেকে দলীয় প্রার্থী হিসাবে দাবি করেছেন। তিনি মনোনয়ন পাবেন এমন প্রচারণাও চালাচ্ছে তার কর্মী-সমর্থকরা। অপরদিকে গাজীপুর মহানগর যুবলীগের আহবায়ক কামরুল আহসান সরকার রাসেলও দলের সমর্থন লাভের প্রত্যাশায় প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

বিএনপির পক্ষে মেয়র পদে দলের ভাইস-চেয়ারম্যান বর্তমান মেয়র এম এ মান্নান এবং দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য জাতীয় পার্টির সাবেক এমপি হাসান উদ্দিন সরকারও প্রার্থী হচ্ছেন এমনটাই শোনা যাচ্ছে। এমএ মান্নান জানান, এবারও তিনি মেয়র পদে দলীয় মনোনয়ন চাইবেন। দল তাকে মনোনয়ন দিলে নির্বাচনে অংশ নিবেন। বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক এমপি হাসান উদ্দিন সরকার মেয়র প্রার্থী হতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

জাতীয় পার্টি-জাপা থেকে মেয়র পদে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়নি। জাসদ থেকে দলের গাজীপুর মহানগর শাখার সভাপতি রাশেদুল হাসান রানাকে মনোনয়ন দিয়েছেন দলের সভাপতি তথ্য মন্ত্রী হাসানুল হক ইনু।

এদিকে খুলনা সিটি নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় পর্যায়ে ১০জন প্রার্থী মেয়র পদে নির্বাচন করতে আগ্রহী। মোট ১০জন প্রার্থীর নামের তালিকা গতকাল মঙ্গলবার কেন্দ্রে প্রেরণ করা হয়েছে । গত সোমবার রাতে খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের জরুরি বর্ধিত সভায় মেয়র পদে সাবেক মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি তালুকদার আব্দুল খালেক এমপিকে মনোয়ন দেয়ার বিষয়টি সর্বসম্মতিভাবে গৃহীত হয়।

খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক মাহবুবুল আলম সোহাগ জানান, সভায় মেয়র পদে সর্বমোট ১০ নেতার নাম প্রস্তাব করা হয়। এই সিদ্বান্ত অনুযায়ী প্রত্যাশিত আরও  ৯ জনের নামও পাঠানো হবে বলে সভায় সিদ্ধান্ত হয়।

মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি তালুকদার আব্দুল খালেক এমপি বলেন, মেয়র প্রার্থী হিসাবে অনেকেই দলের কাছে মনোনয়ন চাইতে পারেন, এটা স্বাভাবিক বিষয়। কিন্তু আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী মনোনয়ন দিবেন দলের সভাপতি শেখ হাসিনা। এছাড়া নির্বাচনে দলীয় প্রতীক থাকবে। এবার তাই কারো বিরোধিতা করার সুযোগ থাকবে না।

আজ বুধবার তৃণমূল পর্যায়ে বর্ধিত সভা ডেকেছে খুলনা মহানগর বিএনপি। গতকাল মঙ্গলবার মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান মেয়র মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মনির পক্ষে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। এ ছাড়া জেলা বিএনপি সভাপতি অ্যাডভোকেট এসএম শফিকুল আলম মনাও প্রার্থী হচ্ছেন। জাতীয় পার্টি (জাপা) মহানগর আহবায়ক এসএম মুশফিকুর রহমান, জাতীয় পার্টি (জেপি) মহানগর সাধারণ সম্পাদক কাজী মাসুদ আহম্মেদ এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মহানগর সভাপতি মাওলানা মুজ্জাম্মিল হককে দলীয় প্রার্থী হিসাবে ঘোষণা দেয়া হয়েছে।

সুষ্ঠু ভোট হওয়া নিয়ে শঙ্কা বিরোধীদের

দুই সিটির নির্বাচন নিয়ে বিরোধী শিবিরে শঙ্কা আর উত্কণ্ঠা বিরাজ করছে। তারা বলছেন, ভোট সুষ্ঠু হবে কিনা সন্দেহ রয়েছে। গাজীপুর সিটির বিএনপিসহ অন্যান্য দলের প্রার্থীরাও সুষ্ঠু ভোট নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। বর্তমান মেয়র এম এ মান্নান ও সাবেক এমপি হাসান উদ্দিন সরকার সুষ্ঠু ভোট গ্রহণের জন্য নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহবান জানিয়েছেন।

খুলনা সিটিতেও রয়েছে শঙ্কা। এ বিষয়ে মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান মেয়র মনিরুজ্জামান মনি বলেন,  ভোট সুষ্ঠু হওয়া নিয়ে আমরা সন্দিহান। কেননা বিগত সময়ে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন নির্বাচনে সহিংসতা ও কেন্দ্র দখল এবং জাল ভোট প্রদানের ঘটনা ঘটেছে। আমরা আশা করবো খুলনা সিটির ভোটে এ ধরনের কোন পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে না।

এই প্রতিবেদন তৈরিতে সহযোগিতা করেছেন আমাদের খুলনা অফিসের এনামুল হক এবং গাজীপুর প্রতিনিধি মুজিবুর রহমান।

ইত্তেফাক/নূহু