বরিশালের গৌরনদী উপজেলার কয়েকটি সরকারি খাল দখল করে পাকা ভবন নির্মাণ কাজ করছে প্রভাবশালীরা। মাহিলাড়া এলাকায় ১টি খালের ভেতর নির্মাণাধীন পাকা ভবনের কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার খালেদা নাছরিন।
জানা গেছে, গত বছর বিএডিসির অর্থায়নে উপজেলার মাহিলাড়া-ভীমেরপাড় পর্যন্ত এক কিলোমিটার মরা খাল পূনঃখনন করা হয়। ওই খালের ওপর নির্ভরশীল মাহিলাড়া ও ভীমেরপাড় এলাকার সহস্রাধিক কৃষক। খাল খননের এক বছর না যেতেই এক সপ্তাহ পূর্বে মাহিলাড়া গ্রামের আলমগীর বয়াতী, বাঘার গ্রামের বাবুল আকন খালের বৃহৎ অংশ অবৈধভাবে দখল করে পাকা ভবন নির্মাণ কাজ শুরু করে।
খবর পেয়ে সোমবার দুপুরে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ মিজানুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ঘটনার সত্যতা পান। তার (মিজানুর রহমান) রিপোর্টের ভিত্তিতে ইউএনও খালেদা নাছরিন ঘটনাস্থলে গিয়ে নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেন।
স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, মাহিলাড়া-ছয়গ্রাম খালের মাহিলাড়া বাজার সংলগ্ন খাল দখল করে ইতিমধ্যে বিএনপি নেতা লোকমান আকন দ্বিতল ভবন নির্মাণ করেছেন। এরপর থেকেই স্থানীয়দের মধ্যে সরকারি খাল দখলের প্রতিযোগিতা চলছে।
অপরদিকে, বার্থী মৌজার এস.এ ১০৪৮নং খতিয়ানের এস.এ ১১০৬, ২৫৪২ নং দাগের ১৬ শতাংশ সরকারী খাল দখল করে পাকা ভবন নির্মাণ কাজ করছে স্থানীয় প্রভাবশালী সোহরাব কাজী, জাহাঙ্গীর কাজী।
এ ব্যাপারে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা জাবেদ ছালাম সম্প্রতি গৌরনদীর ইউএনও ও থানার ওসি’র বরাবর পৃথক ২টি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
গত বছর মাহিলাড়া বাজারের পশ্চিম পাশে মাহিলাড়া বাজার থেকে ভীমেরপাড় সড়কে সওজের জমি অবৈধ দখলদার মুক্ত করে রাস্তা নির্মাণ করে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সরকারী কোন নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে স্থানীয় প্রভাবশালী মঙ্গল সরদারসহ একাধিক ব্যক্তিরা সওজের জমি অবৈধভাবে দখল করে পাকা স্থাপনা নির্মাণ করছেন।
অপরদিকে নলচিড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ পিঙ্গলাকাঠী গ্রামের হাজীপাড়া বাজার সংলগ্ন খালের মধ্যে পাকা স্থাপনা নির্মাণ করেছেন স্থানীয় কতিপয় প্রভাবশালী।
এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম হাফিজ মৃধা জানান, বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে।
গৌরনদী নির্বাহী কর্মকর্তা খালেদা নাছরিন জানান, খালের ভেতর পাকা ভবন নির্মাণ কাজ বন্ধ করা হয়েছে। কিন্তু বার্থী গ্রামে খাল দখল করে পাকা ভবন নির্মাণের কোন লিখিত অভিযোগ তিনি পাননি।
ইত্তেফাক/নূহু
