নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই বরিশালের বিভিন্ন নদ-নদীতে চলছে ইলিশ নিধন। দাম আকাশচুম্বী হওয়ায় এই অসত্ কাজে জড়িয়ে পড়েছেন এক শ্রেণির জেলে ও আড়তদাররা। ইলিশের মণ লাখ টাকা অতিক্রম করায় দালাল-ফড়িয়ারা মোকামগুলোতে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। ক্রেতারাও তাজা ইলিশের স্বাদ নিতে ছুটছেন আড়ত ও পাইকারি বাজারে।
নববর্ষের দিনক্ষণ যতই ঘনিয়ে আসছে ততই ইলিশের দাম ও চাহিদা বাড়ছে। অথচ বাংলা বর্ষবরণের সঙ্গে ইলিশের জোরালো কোনো সম্পর্ক খুঁজে পাননি ইতিহাসবিদরা। তবু নববর্ষ এলেই জাতীয় এই মাছটি নিয়ে দেশে এক অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তাই ইলিশ রক্ষায় আরো কঠোর নীতিমালা প্রণয়ন এবং নদী, বাজার ও আড়তে জোরদার অভিযান পরিচালনার দাবি উঠেছে।
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ অনুষদের ডিন প্রফেসর মোহাম্মদ আলী ইত্তেফাককে জানান, জাটকা নিধন বন্ধ না হলে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন তো দূরের কথা মৌসুমে ইলিশ সংকট দেখা দিবে। আর ইলিশ সম্পদ রক্ষায় বর্ষবরণকে কেন্দ্র করে জনগণকে ইলিশ-পান্তার উপর নির্ভরশীল না হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
জেলা মত্স্য কর্মকর্তা (ইলিশ) বিমল চন্দ্র দাস জানান, বর্তমানে এখানকার মেঘনা, কীর্তনখোলা, তেঁতুলিয়া, সুগন্ধা, বিষখালীসহ বিভিন্ন নদীতে প্রচুর পরিমাণে ছোট সাইজের ইলিশ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ফলে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে অসত্ জেলে ও পাচারকারীরা। নিষেধাজ্ঞার আগামী দিনগুলোতে এ মত্স্য সম্পদ রক্ষায় আইন-শৃংখলা বাহিনী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন তিনি।
গতকাল বৃহস্পতিবার জেলার মত্স্য আড়তগুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মাত্র পনের দিনের ব্যবধানে ইলিশের দাম বেড়েছে প্রায় তিনগুণ। পোর্ট রোডের মত্স্য আড়তে এক কেজি সাইজের ইলিশ প্রতিমণ বিক্রি হচ্ছে এক লাখ টাকার ওপরে। ৬শ’ থেকে ৯শ’ গ্রাম ওজনের ইলিশ প্রতিমণ ৮৫ থেকে ৯০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর দেড় কেজি ওজনের ইলিশ প্রতিমণ বিক্রি হচ্ছে দু’ লাখ টাকায়। এছাড়া ছোট সাইজের ইলিশ প্রতিমণ বিক্রি হচ্ছে ৭০ হাজার টাকা দরে। তবে বাজারে ছোট সাইজের ইলিশের উপস্থিতিই বেশি।
মত্স্য অধিদপ্তরের বিভাগীয় উপ-পরিচালক ড. ওয়াহিদুজ্জামান ইত্তেফাককে বলেন, মত্স্য বিভাগ ও প্রশাসন এখানকার নদীতে আসা ইলিশ রক্ষায় কঠোর অবস্থানে রয়েছে। নিষেধাজ্ঞার সময়ে নদীতে ও বাজারে কঠোর অভিযান পরিচালনা করার জন্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে মাছ ধরার ট্রলার মালিকরা জানান, মত্স্য বিভাগ, কোস্টাগার্ড ও নৌ-ফাঁড়ির পুলিশের সঙ্গে জেলেদের এক ধরনের সখ্য গড়ে উঠেছে। তাই মাঝে-মধ্যে বিপুল সংখ্যক জাটকা আটক করা হলেও জেলেরা তেমন একটা ধরা পড়ছে না। অভিযানকারীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পূর্বেই জেলেরা মাছ রেখে নিরাপদে পালিয়ে যাচ্ছে।
প্রসঙ্গত, ১ নভেম্বর থেকে ৮ মাসের জন্য জাটকা ইলিশ ধরা, পরিবহন এবং বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এসময় ইলিশ ধরলে সর্বোচ্চ দু’ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড অথবা ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। আগামী ৩০ জুন এ নিষেধাজ্ঞা শেষ হবে।
ইত্তেফাক/নূহু
