বকেয়া বেতন, জাতীয় মজুরি কমিশন বাস্তবায়নসহ ৯ দফা দাবি আদায়ে টানা ৯৬ ঘণ্টার সড়ক ও রেলপথ অবরোধ স্থগিত করেছে বাংলাদেশ পাটকল কর্পোরেশনের (বিজেএমসি) আওতাধীন সবকটি জুট মিলের শ্রমিকেরা। গত সোমবার রাতে শ্রম প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ানের সঙ্গে পাটকল শ্রমিক লীগ ও রাষ্ট্রায়াত্ব পাটকল সমূহের সিবিএ-ননসিবিএ নেতাদের বৈঠকে কর্মসূচি স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
শ্রম অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চার শর্তে অবরোধ স্থগিত করেছে পাটকল শ্রমিকরা। এরমধ্যে রয়েছে আজ বুধবারের মধ্যে কোন শ্রমিক কত মজুরি পাবে তা নির্ধারণ এবং আগামীকালের মধ্যে শ্রমিকদের অনুকূলে মজুরি স্লিপ প্রদান করা হবে। ২৫ মে’র মধ্যে ১০ সপ্তাহের বকেয়া মজুরী পূর্বের হারে এবং তিন মাসের বকেয়া বেতন পরিশোধ করা হবে। পবিত্র শবে বরাত উপলক্ষে মিল থেকে শ্রমিকদের ১ সপ্তাহের মজুরী পরিশোধের জন্য বিজেএমসি কর্তৃক মিল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেওয়া হবে। এছাড়া ৮ মে বিজেএমসি কর্তৃপক্ষ ও পাটকল শ্রমিক লীগ ও সিবিএ নেতৃবতৃন্দর সঙ্গে অন্যান্য দাবি নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।
সোমবার শ্রম প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে পাটকল শ্রমিকদের বৈঠকে বিজেএমসি চেয়ারম্যান শাহ মোহাম্মদ নাসিম, শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ কে এম মিজানুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে গত ২ এপ্রিল ৯ দফা দাবিতে দ্বিতীয় দফায় পাটকল শ্রমিকরা সারাদেশে অবরোধ শুরু করলে সবগুলো মিল কর্তৃপক্ষকে জাতীয় মজুরি স্কেল-২০১৫ অনুযায়ী মজুরি নির্ধারণের প্রক্রিয়া শুরু করতে নির্দেশ দিয়েছিল বিজেএমসি। কিন্তু পরে সে প্রক্রিয়া শুরু হয়নি। ফলে গত ১৫ এপ্রিল ফের পাটকল শ্রমিকরা সারাদেশে অবরোধ শুরু করে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সারা বিশ্বে বাংলাদেশের পাটজাত পণ্যের চাহিদা বাড়লেও দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনায় পাট খাত ঘুরে দাঁড়াতে পারছে না। দুর্নীতির ফলে এ খাতে সরকারের প্রণোদনাও কাজে লাগছে না। পাটকল শ্রমিকদের মজুরি বাড়ালে মিলগুলো বন্ধ হয়ে যাবে এমন অজুহাতে শ্রমিকদের জন্য ঘোষিত মজুরিও এতদিন বাস্তবায়ন হয়নি। অথচ ২০১৫ সালের জুলাই থেকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য পে স্কেল অনেক আগেই মধ্যে কার্যকর হয়েছে। ফলে দেশের বিজেএমসির ২৬টি পাটকলের প্রায় ৬০ হাজার শ্রমিক বকেয়া বেতন, মজুরি কমিশন বাস্তবায়নসহ ৯ দফা দাবিতে মাঠে নেমেছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশে ৭৮টি বেসরকারি পাটকল মুনাফা করলেও সরকারি পাটকলগুলো কেন লোকসান দিচ্ছে। জুলাই মাসে পাট কেনার মৌসুম হলেও বিজেএমসি পাট কেনে অক্টেবরে-ডিসেম্বরে। ১ হাজার টাকা মণের পাট তারা কেনে ২ হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকা মণে।
বাংলাদেশ পাটকল শ্রমিক লীগের খুলনা-যশোর অঞ্চলের আহ্বায়ক ও ক্রিসেন্ট জুট মিলের সিবিএ সভাপতি মুরাদ হোসেন বলেন, বিজেএমসি এর আগে ২৮ মার্চের মধ্যে মজুরি কমিশন বাস্তবায়ন করার আশ্বাস দিয়েছিল কিন্তু তা বাস্তবায়ন হয়নি। আশা করছি, এবার বৈঠকে যেসব সিদ্ধান্ত হয়েছে তা বাস্তবায়িত হবে।
