আশুগঞ্জে বাল্য বিবাহ থেকে রক্ষা পেল ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থী

আপডেট : ০৯ এপ্রিল ২০১৮, ১৮:০০
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জের তারুয়ায় বাল্য বিবাহ থেকে রক্ষা পেল ৮ম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী। রবিবার রাতে উপজেলার তারুয়া গ্রামের মেয়েটির বাড়িতে উপস্থিত হয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মৌসুমী বাইন হিরা বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা বন্ধ করেন।
 
এসময় বর ও কনের পরিবারের সদস্যদের আটক করা হয়। পরে পরিবারের সদস্যরা মুচলেকা দিয়ে বিয়ে না দেয়ার অঙ্গীকার করায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের জিম্মায় তাদের ছেড়ে দেয়া হয়। মেয়েটি উপজেলার তারুয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণির ছাত্রী।
 
জানা যায়, গায়ে হলুদের প্রস্তুতি চলছিল। আপ্যায়নের জন্য আনা হয় খাবার-দাবার। কিন্তু বিয়ের এ প্রস্তুতি কোন ভাবেই মেনে নিতে পারছিল না মুর্শিদার সহপাঠীরা। নিজের এ অসহায়ত্বের কথা জানালেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাছে সহপাঠীরা। খবর পেয়ে রাতেই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পুলিশ নিয়ে হাজির হন মেয়েটির বাড়িতে। তখন চলছিল মেয়েটির হলুদের প্রস্তুতি। ঘরে প্রবেশ করতেই চোখে পড়ে হলুদের ডালায় সাজানো হয়েছে সরঞ্জাম। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার উপস্থিতি টের পেয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায় মেয়েটির বাবা। পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা প্রথমে বিয়ের কথা বলতে রাজি হয়নি।
 
বিয়ের কথা স্বীকার করে মেয়েটির মা শিরিনা বেগম। কনের বাড়িতে অভিযান চলছে খবর শুনে একই গ্রামে বরের বাড়িতে থেকে পালিয়ে যায় বরসহ পরিবারের সদস্যরা। বরের বাড়িতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে বরের চাচা হাবিবুল্লাকে আটক করে। মেয়ের মা ও কনের চাচাকে আটক করে উপজেলা পরিষদের নিয়ে আসেন মৌসুমী বাইন হিরা। পরে কনে ও বরের পরিবারের সদস্যরা বাল্য বিবাহ না দেয়ার অঙ্গীকার করেন। কনের দায়িত্ব দেন তারুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইদ্রিস হাসান আর বরের পবিবারের দায়িত্ব নেন তারুয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান বাদল সাদির। তাদের জিম্মায় দুই পরিবারের সদস্যদের ছেড়ে দেয়া হয়।
 
আশুগঞ্জ উপজেলার তারুয়া গ্রামের মিয়াজী বাড়ির ফারুক মিয়া মেয়ে মুর্শিদার সাথে একই গ্রামের বাউল বাড়ির ছফিউল্লাহ মিয়ার ছেলে আব্দুল্লাহর সাথে বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। রবিবার রাতে ছিল মেয়েটির গায়ে হলুদ। সোমবার দুপুরে মেয়েটির বিয়ে হওয়ার কথা ছিল।
 
বরের চাচা হাবিবুল্লাহ মিয়া জানান, বাল্য বিবাহ অপরাধ আমরা না জেনে বিয়ে আনুষ্ঠানিকতা করেছিলাম। কিন্তু এখন আমার বুঝতে পেরেছি। এখন থেকে বাল্য বিবাহ করাব না এবং কাউকে বাল্য বিবাহ দিব না।
 
কনের মা শিরিনা বেগম জানান, আমি আমার ভুল বুঝতে পেরেছি। আগামীতে আমার মেয়ের প্রাপ্ত বয়স্ক না হলে বিয়ে দেব না। মৌসুমী বাইন হিরা জানান, যেখানেই বাল্য বিবাহের খবর পাওয়া যাবে আমাদের অভিযান অব্যহত থাকবে এবং কঠোর ব্যবস্থা নেয়া নেয়া হবে।
 
ইত্তেফাক/আরকেজি