গৌরনদীতে ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ১৫

আপডেট : ০৯ এপ্রিল ২০১৮, ২৩:০৭

ছাত্রলীগের ২ গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনার পর বরিশালের গৌরনদীতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। গৌরনদী বাসস্ট্যান্ডে বাড়ানো হয়েছে পুলিশের টহল।

আধিপত্য বিস্তার ও দলীয় অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরধরে আজ সোমবার সকালে বরিশালের গৌরনদীতে ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলা ও পুলিশের লাঠিচার্জে ছাত্রলীগের ১৫ নেতাকর্মী আহত হয়েছে। গুরুতর আহত ছাত্রলীগ কর্মী এসএসসি পরীক্ষার্থী সাব্বির ভূইয়াকে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, সরকারি গৌরনদী কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক সদস্য হাসিব হোসেনের সাথে ওই কলেজের ক্রীড়া সম্পাদক আরিফ মিয়া গ্রুপের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। সোমবার বেলা ১১টার দিকে উভয় পক্ষ লাঠিসোটা নিয়ে স্কুল ক্যাম্পাসে ও স্কুল সংলগ্ন সরকারি গৌরনদী কলেজ মসজিদ প্রাঙ্গনে জড়ো হয়ে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে লাঠিচার্জ করে উভয় পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। হামলা ও সংঘর্ষে এবং পুলিশের লাঠিচার্জে কলেজ ছাত্রলীগের নেতা আরিফ মিয়া, সাব্বির সেরনিয়াবাত, হৃদয় সরদার, কাজী তুষার, নাঈম খলিফা, টিটু বেপারী, স্কুলছাত্র সাইফুল, আনান, রবিউলসহ ছাত্রলীগের উভয় গ্রুপের ১৫ নেতাকর্মী আহত হয়েছে।

অপরদিকে ইভটিজিং এর মিথ্যা অভিযোগ এনে গত ৫ এপ্রিল বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ছাত্রলীগ নেতা আরিফ মিয়া ও তার সহযোগীরা স্কোয়ার প্লাস্টিক কোম্পানীর সজিব নামের একজন বিক্রয় প্রতিনিধিকে গৌরনদী পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নিয়ে মারধর করে। খবর পেয়ে তাকে সহযোগিতায় গৌরনদী হোমিও কলেজের শিক্ষক ডাঃ হাফিজুর রহমান রিয়াদ ও তার ব্যবসায়ী পাটনার সাগর সেরনিয়াবাত এগিয়ে এলে তাদের ওপরও হামলা চালানো হয়। ডাঃ রিয়াদ ও তার সহযোগীরা আত্মরক্ষার জন্য স্কুলের প্রধান শিক্ষকের কক্ষে প্রবেশ করেও রেহাই পাননি।

শিক্ষকদের সন্মুখে আরিফ ও তার সহযোগীরা তাদের ৩ জনকে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। এ সময় তারা ডাঃ রিয়াদের ব্যবহৃত হোন্ডা ও মোবাইল সেট ও সাথে থাকা টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নেয় হামলাকারীরা। এ ঘটনায় এখনও কোন মামলা হয়নি।

জানা গেছে, গৌরনদী পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় ক্যাম্পাসে স্কুল চলাকলীন দুই গ্রুপের মধ্যে কয়েক দফা সংঘর্ষে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে আতংক বিরাজ করছে। হামলা-পাল্টা হামলার আশংকায় ঘটনার পর থেকে গৌরনদী বাসষ্ট্যান্ড এলাকায় পুলিশের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

ইত্তেফাক/নূহু