আট বছরের রুপা বাসা থেকে খেলতে বের হয়।সমবয়সীদের সঙ্গে সড়কের পাশে খেলতে থাকে। হঠাৎ দানবের মতো ছুটে আসে বেপরোয়া গতির একটি পিকআপ ভ্যান। রুপাকে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায়। মুহূর্তেই চিৎকার, হাসপাতালে ছোটাছুটি। কিন্তু ততোক্ষণে নিভে গেছে ছোট্ট রুপার প্রাণের আলো। খেলতে গিয়ে লাশ হয়ে ঘরে ফেরে রুপা। গতকাল দুপুরে মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে রাজধানীর চকবাজার থানার ছোটকাটরা এলাকায়।
প্রায় একই ধরনের আরেক দুর্ঘটনায় প্রাণ প্রদীপ নিভে গেছে মো. ইব্রাহিম (৪) নামে আরেক শিশুর। দুই শিশুর পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। তাদের বাবা-মায়েরা শোকে স্তব্ধ হয়ে গেছেন।
রুপার বাবার নাম মো. জাহাঙ্গীর হোসেন। পেশায় তিনি দিন মজুর। এক ভাই, এক বোনের মধ্যে রুপা বড়। পরিবারের সঙ্গে চকবাজারের ছোটকাটরা এলাকায় থাকত সে। দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ত চম্পাতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।
রুপার মামা মো. হান্নান মিয়া জানান, দুপুর ১২টার দিকে বাসার সামনে সড়কের পাশে খেলতে যায় রুপা। কিছুক্ষণ পরই একটি দ্রুতগতির পিকআপ ভ্যান তাকে ধাক্কা দেয়। রুপার চিত্কার শুনে তার আশপাশের লোকজন ছুটে আসে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে বেলা ২টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে রাখা হয়েছে। রুপার লাশ তাদের গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীর রামগঞ্জের শেফালী পাড়ায় দাফন করা হবে বলে জানিয়েছেন তার মামা।
অপরদিকে নিহত ইব্রাহিমের বাবা ওমর ফারুক জানান, তাদের বাসা ডেমরার ডগাইর আবাসিক এলাকায়। দুপুর ১টার দিকে বাসার সামনের সড়কের একপাশে খেলতে যায়। এসময় ব্যাটারিচালিত একটি অটোরিকশার ধাক্কায় সে গুরুতর আহত হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল নিয়ে গেলে বেলা ৩টার দিকে কর্তব্যরত চিকিত্সক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত ইব্রাহিমের বাড়ি চাঁদপুরের মতলব থানায়।
