পাবনা থেকে এবার ১৬ দৃষ্টি প্রতিবন্ধী এইচএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে

আপডেট : ১৩ এপ্রিল ২০১৮, ১৪:৪৭
পাবনার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে এবার ১৬ জন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছে। এসব অন্ধ শিক্ষার্থীরা শিক্ষার আলোয় আলোকিত হবার জন্য শ্রুতি লেখকের সহায়তায় পাবনা শহীদ বুলবুল কলেজ, শহীদ এম মনসুর আলী কলেজ ও জাগির হোসেন একাডেমি কেন্দ্র থেকে এবার এইচএসসি  পরীক্ষা দিচ্ছে।
 
নরসিংদী জেলার শিহাবুদ্দিন ভুঁইয়া, টাঙ্গাইল জেলের আবদুল্লাহ আল আমিন, গোপালগঞ্জের ইখতেয়ার মৃধা, জামালপুরের গোলাপ মল্লিক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার শাহাদত হোসেন, পঞ্চগড় জেলার রোকনুজ্জামান, দিনাজপুরের আব্দুল আজিজ, কুড়িগ্রামের ইমরান হোসেন, টাঙ্গাইল জেলের আবুল কালাম আজাদ, রাজশাহীর মনিরুজ্জামান, ময়মনসিংহ জেলার মোজাম্মেল, নরসিন্দীর মো. আব্দুল্লাহ, জয়পুর হাটের মোহাম্মদ আলী, বরিশালের হুমায়ুন কবির এবং পাবনার মনিরুল ইসলাম এই ১৬ জন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী পাবনার মানব কল্যাণ ট্রাস্টের আশ্রয়ে থেকে এইচএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে।
 
দৃষ্টি প্রতিবন্ধী এ পরীক্ষার্থীরা প্রশ্নপত্রের উত্তর মুখে বলে শ্রুতি লেখকদের শোনান এবং শ্রুতি লেখকরা সেটি লিখে আবার তাদের পড়ে শোনান। একারণে তাদের জন্য তিন ঘণ্টার অতিরিক্ত মাত্র ২৫ মিনিট বেশি সময় বরাদ্দ করা হয়েছে। এসময় যথেষ্ট নয় বলে তারা দাবী করেন তারা। তাদের অভিযোগ, শিক্ষা বোর্ড থেকে শ্রুতি লেখকদের অনুমোদন, রেজিস্ট্রেশন জটিলতা এবং বিভিন্ন বোর্ডের ভিন্ন ভিন্ন নীতিমালার কারণে পদে পদে তাদের হয়রানীর শিকার হতে হয়।
 
অন্ধদের লেখাপড়ার জন্য প্রয়োজন ব্রেইল পদ্ধতি। অথচ দেশের অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ সুযোগ নেই। পরীক্ষার জন্য প্রয়োজন শ্রুতি লেখকের। দরিদ্র এসব অন্ধদের শ্রুতি লেখক সম্মানী তো দূরের কথা লেখাপড়ার করার নুন্যতম আর্থিক ব্যয় নির্বাহ করারও সক্ষমতা নেই। তার পরেও থেমে থাকেনি এসব সংগ্রামী দৃষ্টি প্রতিবন্ধীর শিক্ষা জীবন। দরিদ্র এসব অন্ধ তাদের এ সংগ্রামে শারীরিক প্রতিবন্ধকতার পাশাপাশি যোগ হয়েছে নানা ধরণের আর্থ-সামাজিক প্রতিকূলতা। সব বাধা ও প্রতিকূলতাকে জয় করে তারা সোনালি ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখছেন এসব দৃষ্টি প্রতিবন্ধীরা।
 
এ ১৬ জন পরীক্ষার্থীর মতো আরো প্রায় ৭২ জন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী পাবনার মানব কল্যাণ ট্রাস্টের আশ্রয়ে থেকে ব্রেইল পদ্ধতিতে লেখা পড়া করছেন। এছাড়া এ প্রতিষ্ঠান থেকে ১২জন পথশিশুকে প্রাথমিক শিক্ষা, ৮জন ৯ম শ্রেণীতে, ১০ম শ্রেণীতে ৭জন, একাদশে ৯ জন, ২ জন এমএ সহ বিভিন্ন শ্রেণীতে তাদের শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। অধ্যাপক আবুল হোসেন-চেয়ারম্যান, মানব কল্যাণ ট্রাস্ট পাবনা, তিনি এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, এ প্রতিষ্ঠানকে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা দেয়া হলে সারা দেশের দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের সর্বোৎকৃষ্ট শিক্ষালয় হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।
 
ইত্তেফাক/এসএস