খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি) নির্বাচনে কাউন্সিলর প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে বড় দু'দলেই অভ্যন্তরীণ ক্ষোভ মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। একদিকে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে বিএনপি বর্তমান চারজন কাউন্সিলরকে দলীয় মনোনয়ন দেয়নি। অন্যদিকে, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় বোর্ড মনোনয়ন দেওয়ার পরও ২৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ নেতার মনোনয়ন বাতিল করেছে স্থানীয় নেতারা। এ কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে ঐক্য পরিষদ আগামী সোমবার নগরীতে প্রতিবাদ মানববন্ধন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ৯ এপ্রিল কেন্দ্র থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ড ২৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী হিসেবে মহানগর হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি বীরেন্দ্রনাথ ঘোষের নাম ঘোষণা করে। তিনি ওই ওয়ার্ডে আগেও দু'বার দলীয় ব্যানারে নির্বাচন করেছেন। কিন্তু ১১ এপ্রিল রাতে প্রার্থিতা পরিবর্তন করে এই ওয়ার্ডে ফয়েজুল ইসলাম টিটোকে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে সংরক্ষিত ৮ আসনে হালিমা ইসলামকে পরিবর্তন করে কনিকা সাহাকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়। এর আগে ১০ নম্বর ওয়ার্ডে মহানগর যুবলীগ নেতা কাজী তালাত হোসেন, ১৮নম্বর ওয়ার্ডে রাজুল হাসান রাজু, ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে জিয়াউল ইসলাম মনোনয়ন চেয়ে পাননি। এরা প্রত্যেকে দলীয় প্রার্থীর বাইরে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
এদিকে, ২৩ নম্বর ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের কাউন্সিলর প্রার্থী পরিবর্তনে ক্ষোভ জানিয়ে মহানগর হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ নেতারা গত শুক্রবার রাতে নগরীর এপিসি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সমাবেশ করেছে। ওই সমাবেশে আগামী সোমবার নগরীর পিকচার প্যালেস মোড়ে মানববন্ধন কর্মসূচি আহ্বান করা হয়েছে।
সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি বিজয় কুমার ঘোষ। পরিচালনা করেন মহানগর সাধারণ সম্পাদক গোপাল চন্দ্র সাহা। সভায় বক্তারা বলেন, ২৩ নম্বর ওয়ার্ডে বীরেন্দ্রনাথ ঘোষকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। কিন্তু দুই দিন পর তাকে বাদ দিয়ে অন্য প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়। যা অত্যন্ত লজ্জা ও দুঃখজনক। সংখ্যালঘুদের প্রতিনিধি বীরেন্দ্রনাথ ঘোষের সাথে এ ধরণের ন্যক্কারজনক সিদ্ধান্তের জন্য নেতৃবৃন্দ সংক্ষুব্ধ ও মর্মাহত হয়েছে। সভায় কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতামতের ভিত্তিতে পরবর্তী কর্মসূচির সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানানো হয়। বক্তৃতা করেন সরোজ মল্লিক, শ্যামল রায়, সমর কুণ্ডু, অ্যাডভোকেট পরিমল কুমার রায় প্রমুখ।
মহানগর হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি বীরেন্দ্রনাথ ঘোষ বলেন, ‘ঢাকা থেকে আমাকে মনোনয়ন দেওয়া হলেও খুলনার নেতারা তাদের পকেটের লোককে প্রার্থী করতে আমাকে বাদ দিয়েছেন। এতে আমার সংগঠনের নেতাকর্মীরা অপমানিত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। খুলনায় আমাদের সংগঠনের ৭০ থেকে ৮০ হাজার ভোট রয়েছে। এই অপমানের প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হবে।' এমনকি তিনি প্রার্থিতাও প্রত্যাহার করবেন না বলে জানান।
তবে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজান এমপি বলেছেন, 'দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে কেউ নির্বাচন করলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'
অপরদিকে, বিএনপির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে কাউন্সিলর পদে একাধিকবার নির্বাচিত ১২ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর মো. মুনিরুজ্জামান, ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের মো. আনিছুর রহমান বিশ্বাস (প্যানেল মেয়র), ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের কেএম হুমায়ুর কবির ও ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের মুহা. আমানউল্লা আমানকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। এতে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন স্থানীয় বিএনপির নেতারা। এরই মধ্যে ২৫ নম্বর সাধারণ ও ৫ নম্বর সংরক্ষিত ওয়ার্ডে জেলা বিএনপির পাল্টা কাউন্সিলর প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছে।
বিএনপির দলীয় মনোনয়ন থেকে বাদ পড়া নগর বিএনপির সহ-প্রচার সম্পাদক কেএম হুমায়ুন কবির বলেন, 'বিএনপির নির্বাচিত সকল কাউন্সিলরকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত রয়েছে। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে নেতাদের কাছের লোককে প্রার্থী করে আমাকে বাদ দেওয়া হয়েছে। খুলনায় সরকারবিরোধী আন্দোলনে আমি সব থেকে বেশি নির্যাতিত হয়েছি, সব চেয়ে বেশি মামলার আসামি হয়েছি। তার প্রতিদানে আমাকে বাদ দেওয়া হলো।'
তবে দলের এ সব ক্ষোভ সম্পর্কে মহানগর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক অধ্যক্ষ তারিকুল ইসলাম বলেন, 'পৃথিবীর কোন সিদ্ধান্তেই সকল পক্ষকে সন্তুষ্ট করা যায়নি। এ ক্ষোভ থাকবে না।'
ইত্তেফাক/এসএস
