প্রাণঘাতী হূদরোগের জন্য দায়ী জিন শনাক্ত

আপডেট : ১৬ এপ্রিল ২০১৮, ০০:৩৮

প্রাণঘাতী এমন এক ধরনের হূদরোগের জন্য দায়ী কিছু জিন বিজ্ঞানীরা চিহ্নিত করতে পেরেছেন যে ধরণের হূদরোগে হদযন্ত্র বা ফুসফুস প্রতিস্থাপনই একমাত্র চিকিত্সা। ‘পালমোনারি আর্টারিয়াল হাইপারটেনশন’ নামে পরিচিত এই হূদরোগে আক্রান্তদের শতকরা পঞ্চাশ ভাগই সাধারণত পাঁচ বছরের মধ্যেই মারা যান। কিন্তু কিছু মানুষ কেন এই রোগটিতে আক্রান্ত হন সে সম্পর্কে এতদিন খুব কমই জানা ছিল। কিন্তু এখন বিজ্ঞানীরা দাবি করছেন, তারা এই হূদরোগের জন্য দায়ী পাঁচটি জিন চিহ্নিত করতে পেরেছেন। এর ফলে এ ধরণের রোগ এখন অনেক আগে শনাক্ত করা যাবে এবং এর চিকিত্সাও সম্ভব হবে বলে আশা করছেন তারা।

গবেষকরা বলেছেন, শুধু ব্রিটেনেই প্রায় সাড়ে ছয় হাজার মানুষ পালমোনারি আর্টারিয়াল হাইপারটেনশনে (পিএএইচ) আক্রান্ত। যারা এই রোগে আক্রান্ত হন তাদের হূদযন্ত্র থেকে যে ধমনী বা রক্তনালী দিয়ে রক্ত ফুসফুসে যায়, সেই ধমনী মোটা ও শক্ত হয়ে যায়। এর ফলে হূদযন্ত্র বিকল হওয়ার আশংকা থাকে। সাধারণত যাদের হূদযন্ত্র বা ফুসফুসে অন্য সমস্যা আছে, তাদের ক্ষেত্রেই এই রোগটা বেশি দেখা যায়। তবে যে কোন লোকেরই এই রোগ হতে পারে এবং তা কোন সুস্পষ্ট কারণ ছাড়াই।

গবেষকরা আরো বলেছেন, এ ধরণের রোগে আক্রান্তদের একমাত্র চিকিত্সা হচ্ছে হূদযন্ত্র এবং ফুসফুস প্রতিস্থাপন করা। কিন্তু ব্রিটেনের মতো দেশে হূদযন্ত্র বা ফুসফুস প্রতিস্থাপনের জন্য বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হয়, কারণ প্রতিস্থাপন করার মতো অঙ্গের সংকট আছে। আর অনেক সময়েই প্রতিস্থাপন করা হূদযন্ত্র বা ফুসফুস কারও শরীর প্রত্যাখ্যানও করতে পারে। এই গবেষণায় যুক্ত বিজ্ঞানীদের একজন এবং ব্রিটিশ হার্ট ফাউন্ডেশনের অধ্যাপক নিক মোরেল বলেন, এই জিনগুলোর বৈশিষ্ট্য চিহিত করার মাধ্যমে এখন বোঝা যাবে কিভাবে এই রোগটি হয়। ফলে এর চিকিত্সার উপায় খুঁজে পাওয়া যাবে।
বিবিসি
ইত্তেফাক/নূহু