দিনাজপুরের ফুলবাড়ির হোটেল ব্যবসায়ী সোহেল রানা মিলনের (৩৫) রহস্যজনক মৃত্যু ঘটনার জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে স্বামীর মৃত্যু কারণ নিশ্চিত করতে শেষ পর্যন্ত থানায় অভিযোগ দিয়েছেন স্ত্রী মৌসুমী আক্তার।
এ ঘটনায় পুলিশ উপজেলার পৌর এলাকার পুরাতন বন্দর (বুড়াবন্দর) গ্রামের আমজাদ আলীর ছেলে হযরত আলীকে (২৪) আটক করে আজ সোমবার আদালতে সোপর্দ করেছে।
গতকাল রবিবার সকাল ৯টা ৪০মিনিটে অজ্ঞাতনামা কয়েকজন সোহেল রানা মিলনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অসুস্থতার কথা বলে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরিবারের লোকজনের মধ্যে বিষয়টি জানাজানি হলে তারা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে মরদেহ বাড়িতে নিয়ে যান। মিলনের মৃত্যুটি রহস্যজনক হওয়ায় ওইদিনই তার স্ত্রী মৌসুমি আক্তার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ হযরত আলীকে (২৪) আটক করে।
থানায় স্ত্রী মৌসুমি আক্তারের দায়েরকৃত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার সকাল ১০টায় নিজ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বরকতিয়া হোটেলে যাওয়ার কথা বলে মিলন বাড়ি থেকে রেব হন। কিন্তু পরদিন রবিবার সকালেও বাড়িতে ফিরে না আসায় বাড়ির লোকজন তাকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। এক পর্যায়ে দক্ষিণ সুজাপুর গ্রামের ওমর আলীর ছেলে আব্দুল হাকিমের মাধ্যমে তার মৃত্যুর খবর পান।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগে রোগী গ্রহণকারী আবুজার বলেন, ওইদিন সকাল ৯টা ৪০মিনিটে কয়েকজন যুবক চার্জার রিকশাভ্যানে মিলনকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে। তারা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের রেজিস্টারে মিলনের নাম ও ঠিকানা লিপিবদ্ধ করলেও নিজেদের নাম পরিচয় না দিয়ে মিলনের আত্মীয়রা আসছে বলে কৌশলে সটকে পড়ে।
সোহেল রানা মিলনকে মৃত ঘোষণাকারী চিকিৎসক মাহতেরমা ফাতেমা বলেন, সোহেল রানা মিলনের শারীরিক অবস্থা দেখে মনে হয়েছে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসার অন্তত ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা আগেই তার মৃত্যু ঘটেছিল। তার হাত ও পাসহ শরীর ঠাণ্ডায় শক্ত হয়ে গিয়েছিল। বাম পায়ের আঙ্গুলে ব্যান্ডেজ করা ছিল।
মিলনের বাবা পৌর শহরের সুজাপুর গ্রামের বাসিন্দা ও শহরের বরকতিয়া হোটেলের সত্বাধিকারী মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছেন তার ছেলে পুরাতন বন্দরের (বুড়াবন্দর) হযরত আলীর সাথে জনৈক ব্যক্তির ভাড়াবাড়িতে গত শনিবার রাতে থাকা অবস্থায় রহস্যজনক মৃত্যু ঘটেছে। একমাত্র ছেলের কিভাবে মৃত্যু ঘটেছে তা কিছুই বুঝে উঠতে পারছেন না।
থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আব্দুর রহমান বলেন, নিহতের স্ত্রীর অভিযোগের ভিত্তিতে লাশের ময়নাতদন্তসহ নিহতের সঙ্গী হযরত আলীকে আটক করা হয়। যেহেতু ভিসেরা রিপোর্ট হাতে পাওয়া যায়নি তাই হযরত আলীকে ৫৪ ধারায় আজ সোমবার আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। ভিসেরা রিপোর্টে হত্যাকাণ্ডের কোন আলামত পাওয়া গেলে নিয়মিত হত্যা মামলা রেকর্ড করা হবে।
ইত্তেফাক/এসএস
