মামলা প্রত্যাহারে দুই দিনের আল্টিমেটাম

আপডেট : ১৭ এপ্রিল ২০১৮, ০১:২৪

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও পুলিশের পক্ষ থেকে যে মামলাগুলো করা হয়েছে, আগামী দুই দিনের মধ্যে সেগুলো প্রত্যাহারের আল্টিমেটাম দিয়েছে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নেতারা। দুই দিনের মধ্যে এসব মামলা প্রত্যাহার না হলে আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দেন তারা। গতকাল সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেয়া হয়।

নেতারা অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় কমিটির বিরুদ্ধে একটি মহল জামায়াত-শিবির বলে পরিচয় করিয়ে দিতে উঠেপড়ে লেগেছে। এটি পুরোপুরি মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আন্দোলন ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য এটি করা হচ্ছে। প্রসঙ্গত: কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন চলাকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামানের বাসায় হামলাসহ বিভিন্ন বিষয়ে চারটি মামলা করেছে ঢাকা বিশ্ববদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ।

সংবাদ সম্মেলনে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরা বলেন, উপাচার্য স্যারের বাসায় যে হামলা হয়েছে, আমরাও চাই তার বিচার হোক। এ জন্য আমরা সহায়তা করতে প্রস্তুত।

‘তিন নেতাকে ধরে নিয়ে আবার ছেড়ে দেয়া হয়েছে’

কোটা সংস্কার আন্দোলনের তিন নেতাকে পুলিশ তুলে নিয়ে আবার ছেড়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গতকাল বেলা সোয়া তিনটায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের তিন যুগ্ম আহ্বায়ক এই অভিযোগ করেন। এই তিন যুগ্ম আহ্বায়ক হলেন—মো. রাশেদ খান, নুরুল হক নূর ও ফারুক হাসান। তিনজনই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্সের ছাত্র। সংবাদ সম্মেলনে তারা অভিযোগ করেন, সোমবার দুপুর পৌনে একটার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে প্রবেশ ফটকের সামনে রিকশা থেকে তাদের নামিয়ে মাইক্রোবাসে করে পুলিশ তুলে নিয়ে যায়। দুই ঘণ্টার মধ্যে তাদের ছেড়ে দেয় পুলিশ।

এই ঘটনার প্রতিবাদে আন্দোলনকারীরা বিকাল চারটার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রতিবাদ মিছিল বের করে। মিছিলটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে এসে শেষ হয়।

তিন নেতা বলেন, গামছা দিয়ে চোখ বেঁধে দুপুর পৌনে একটার দিকে তাদের একটি মাইক্রো বাসে করে নিয়ে যাওয়া হয়। চোখ খুলে দেওয়ার পর তারা নিজেদেরকে একটি কক্ষে আবিস্কার করেন। সেখানে তাদেরকে কিছু ভিডিও ফুটেজ দেখানো হবে বলে জানানো হয়। কিন্তু পরে তাদের কিছুই দেখানো হয়নি। তারা আরও বলেন, তাদের নাম-ঠিকানা নিয়ে পৌনে তিনটার দিকে ছেড়ে দেওয়া হয়। মিন্টো রোডে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কার্যালয়ে তাদের নেওয়া হয়েছিল। এ সময় তাদের কোনো নির্যাতন করা হয়নি।

সংবাদ সম্মেলনে নেতারা আরও জানান, বেলা ২টা ৫৫ মিনিটে তারা সিএনজি চালিত অটোরিকশায় করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরে আসেন। তাদের দেখে অন্যরা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে স্বাগত জানায়। রাশেদ খান বলেন, তার বাবাকে ঝিনাইদহ সদর থানায় হয়রানি করা হয়। তার বাবা একজন দিনমজুর।

জানা গেছে, রাশেদ খানের বাবা নবাই বিশ্বাসকে বিকালে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ। দুপুর আড়াইটার দিকে চরমুরাড়ীদহ গ্রাম থেকে নবাই বিশ্বাসকে আটক করেছিল সদর থানা পুলিশ। ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি এমদাদুল হক বলেন, তার কাছ থেকে কিছু তথ্য নেয়ার জন্য ডেকে আনা হয়েছিল।

আন্দোলনের নেতাদের ব্যাপারে তথ্য সংগ্রহের নির্দেশ

এদিকে, কোটা সংস্কারের আন্দোলনের নেতাদের ব্যক্তিগত সকল বিষয়ে খোঁজ নেয়ার জন্য মাঠ পর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার। যারা আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত তাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, আগে এবং বর্তমানে কোন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত সে ব্যাপারে তথ্য সংগ্রহ করতে বলা হয়েছে। তাদের গতিবিধি নজরদারি ছাড়াও তারা কাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছে—এ ব্যাপারেও খোঁজ নিতে বলা হয়েছে। তাদের গত এক মাসের কললিস্ট পর্যালোচনা করার তাগিদ দেয়া হয়েছে। এছাড়া ভিসির বাসভবনে হামলার ঘটনার ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দোষীদের খুঁজে বের করার জন্য তাগিদ দেয়া হয়েছে। গতকাল সকালে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি সদর দফতরে ঢাকা মহানগর পুলিশের মাসিক অপরাধ সভায় ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় শীর্ষ কর্মকর্তারা এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। সভায় কোটা আন্দোলনের পরিস্থিতি শক্ত হাতে মোকাবিলার জন্য পুলিশের সকল শাখাকে ডিএমপি কমিশনার ব্যক্তিগতভাবে ধন্যবাদ জানান।

সভায় ডিএমপির ৪৯ টি থানার ওসি, ৮ টি জোনের ডিসি, এডিসি, এসি এবং ডিবির চারটি বিভাগের ডিসি ছাড়াও ঊর্দ্ধতন পুলিশের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র জানায়, নতুন করে আন্দোলন শুরু হলে আন্দোলনকারীরা কোনভাবেই যাতে শাহবাগের মোড় অবরোধ করতে না পারে  সেই জন্য সেখানে প্লাস্টিকের ঢাল ও লাঠি হাতে সর্বক্ষণ পুলিশের পাবলিক অর্ডার ম্যানেজমেন্ট সদস্যদের প্রহরা দিতে বলা হয়েছে। আন্দোলনের প্রধানস্থল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাদা পোশাকে গোয়েন্দাদের নজরদারি বাড়াতে বলা হয়েছে। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লক্ষ্য রাখতে বলা হয়, যাতে কেউ কোন উস্কানিমূলক বক্তব্য প্রচার করতে না পারে।

তথ্য সহযোগিতার জন্য তাদের আনা হয়েছিল : ডিবি

কোটা সংস্কার আন্দোলনের তিন নেতাকে ছেড়ে দিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। সোমবার দুপুর আড়াইটার দিকে তাদের ডিবি কার্যালয় থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তিন নেতা হলেন ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খান, যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক নূর ও যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক আহমদ।

ডিবির যুগ্ম কমিশনার আব্দুল বাতেন বলেন, ‘তাদের কিছু তথ্য সহযোগিতার জন্য আনা হয়েছিল। তারা চলে গেছেন। তাদের কিছু ভিডিও ফুটেজ দেখানো হয়েছে। সেগুলোর বিষয়ে তাদের কাছ থেকে তথ্য নেওয়া হয়েছে। তাদের আটক বা গ্রেফতার করা হয়নি।’ সবার কাছ থেকেই তথ্য নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

ইত্তেফাক/নূহু