কনস্যুলেটে হামলা

চীন-পাকিস্তান বন্ধুত্বে কী প্রভাব পড়বে!

আপডেট : ২৫ নভেম্বর ২০১৮, ১৮:৫৬

 

পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ মিত্র চীন। ভারতের সাথে চীন এবং পাকিস্তানের উভয়ের দূরত্বের থেকেই দুই দেশের মধ্যে গড়ে সুসম্পর্ক গোড়াপত্তন। গত কয়েক বছরে বিভিন্ন অবকাঠামোর উন্নয়নে পাকিস্তানে ব্যাপক অর্থনৈতিক বিনিয়োগ করেছে চীন। ইমরান খান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেয়ার পর সেই সম্পর্ক আরো গতি পায়। এরই মধ্যে চীন সফরে করে দুই দেশের মধ্যের বিরাজমান সর্বাত্মক কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আরো শক্তিশালী করার প্রুতিশ্রুতিও লাভ করেছেন ইমরান খান। কিন্তু সম্প্রতি পাকিস্তানের বন্দর নগরী করাচিতে চীনা কনস্যুলেটে হামলার ঘটনায় দুই দেশের মধ্যের সেই নিবিড় সম্পর্কে ফাটল তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যে করাচিতে চীনা কনস্যুলেটে সন্ত্রাসী হামলার নিন্দা জানিয়ে পাকিস্তানে অবস্থানরত চীনা নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বলেছে চীন। ইমরান খান এই হামলার নিন্দার পাশাপাশি অভিযোগ করেছেন, চীন সফরে চীনা বিনিয়োগ নিশ্চিত করার প্রতিক্রিয়ায় এই হামলা করা হয়েছে।

চীনা কনস্যুলেটের কাছে শুক্রবার বন্দুকধারীদের সঙ্গে গোলাগুলিতে দুই পুলিশসহ ৫ জন নিহত হওয়ার পরই মূলত দুই দেশের কূটনৈতিকরা নড়েচড়ে বসে। হামলার পর চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, চীন তাদের কূটনৈতিক মিশনের বিরুদ্ধে যে কোনো সহিংস হামলার তীব্র নিন্দা জানায়। একই সাথে পাকিস্তানকে তাদের দেশের চীনা নাগরিক এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা নেয়ারও অনুরোধ জানিয়েছে চীন। ইমরান খান এই হামলার তীব্র সমালোচনা করে পাকিস্তান থেকে সন্ত্রাসবাদ সমূলে উচ্ছেদ করার ঘোষণা দিয়েছেন। ইমরান খানের কার্যালয় থেকে শুক্রবার এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তিনি ঘটনার পূর্ণ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন এবং এর পেছনে জড়িতদের খুঁজে বের করার সংকল্প ব্যক্ত করেছেন। এ হামলা চীনের সঙ্গে পাকিস্তানের অর্থনৈতিক এবং কৌশলগত সহযোগিতা ক্ষুন্ন করারই ষড়যন্ত্র; তবে এমন ঘটনা চীন-পাকিস্তান সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারবে না বলেও ঐ বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

এ বছরের শুরুর থেকে আমেরিকা-পাকিস্তানের সম্পর্কে টানাপড়েন শুরু হওয়ার পর থেকেই ইসলামাবাদকে আরো কাছে টানার উদ্যোগ নিয়েছিল বেইজিং। এরই ধারাবাহিতায় সেপ্টেম্বরে পাকিস্তানে গিয়েছিলেন চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। ইসলামাবাদের পৌঁছে তিনি চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোরের গুরুত্বের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। ঐ সময়ে তিনি বলেন, এ প্রকল্প শেষ হলে তা পাকিস্তানের অর্থনীতিকে বদলে দেবে। তারই ধারাবাহিকতায় এ মাসের প্রথম দিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী

 

ইমরান খান চীন সফরে গেলে সেই সম্পর্ক আরো জোরদার হয়। দুই নেতার মধ্যে বৈঠক এবং বৈঠক পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনেও তার ইঙ্গিত মিলেছিল।   ঐ সময়ে ইমরান খান চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করলে চীনের পক্ষ থেকে পাকিস্তানের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য সমর্থন অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়। বৈঠকে শি জিনপিং বলেন, চীন ও পাকিস্তান সর্বাবস্থায় বন্ধু ছিল এবং তা চিরদিন অব্যাহত থাকবে। কিন্তু পাকিস্তানে চীনের কনস্যুলেট এই জঙ্গি হামলা যে সেই সম্পর্ক কতদিন অটুট রাখতে পারে সেই আশঙ্কাই ধীরে   ধীরে জোরালো হচ্ছে। ইমরান খানের কথায়ও সেই শঙ্কার সুর বেজেছে, পাকিস্তানকে অশান্ত করতেই   এটি করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে চীন-পাকিস্তান সম্পর্কে ফাটল ধরানোটাই হয়তো মূল লক্ষ্য ছিল সন্ত্রাসীদের।

এই মুহূর্তে পাকিস্তানের জন্য চীন এমন এক বন্ধু যারা কিনা তাদের অর্থনীতিকে খাদের কিনারা থেকে তুলে আনার অঙ্গীকারাবদ্ধ। তাই কোন কারণে চীন এই বন্ধন ছিন্ন করলে তা সদ্য দায়িত্ব নেয়া প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের জন্য বড় দুশ্চিন্তার কারণ হিসেবে প্রতীয়মান হবে।