আফতাবনগরে মনজিল হত্যার পর নিখোঁজ সত্ভাই

আপডেট : ২৯ এপ্রিল ২০১৮, ০২:৩০

রাজধানীর আফতাবনগরে মনজিল হক (২৮) হত্যার ঘটনার চার মাস পরও এর কোনো কূল-কিনারা করতে পারেনি পুলিশ। হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলাটি ইতোমধ্যে পুলিশ ও ডিবি’র হাত গড়িয়ে সর্বশেষ সিআইডির কাছে তদন্তভার ন্যস্ত হয়েছে। হত্যার ঘটনার দিন থেকেই মনজিলের সত্ভাই ইয়াসিন নিখোঁজ রয়েছেন। সিআইডি সন্দেহ করছে, মনজিল হত্যায় তার কোনো সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে। এমনও হতে পারে যে, এ ঘটনার বিষয়ে কোনো তথ্য ইয়াসিন জানতে পারেন।

গত ১১ ডিসেম্বর সকাল ১১টার দিকে বাড্ডার আফতাবনগরের জহিরুল ইসলাম সিটির বি-ব্লকের ৩ নম্বর সড়কের ৫ নম্বর বাড়ির ৬ তলায় নিজ ফ্ল্যাটে খুন হন মনজিল। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ দুটি ছুরি ও চার সেট কালো পোশাক উদ্ধার করে। এ ঘটনার পর ওই ফ্ল্যাটে বেড়াতে আসা শারমীন আক্তার ওরফে নিশি নামে এক তরুণীকে আটক করা হয়। তাকে ৩ দিনের রিমান্ডে নিয়ে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) জিজ্ঞাসাবাদ করে। এ ছাড়া এ ঘটনায় ওই ভবনের দারোয়ান আবুল কালামকেও পুলিশ আলাদাভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে।

পুলিশ জানায়, ঘটনার এক সপ্তাহ পর ইয়াসিন নিখোঁজ উল্লেখ করে রামপুরা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি নথিভুক্ত করেন ইয়াসিনের মামা আবু ইউসুফ নয়ন। জিডিতে বলা হয়েছে, ১১ ডিসেম্বর সকাল থেকে ইয়াসিনকে পাওয়া যাচ্ছে না।

পারিবারিক সূত্র জানায়, মনজিল বনশ্রীর এ ব্লকে তাদের আগের বাসার পাশেই একটি গাড়ির ওয়ার্কশপ দেন। সাত বছর আগে মনজিল বিয়ে করেছিলেন। এক মাস সংসার করার পর তাদের ডিভোর্স হয়। এর পর তিনি বিয়ে করেননি। মনজিল ছিলেন তার বাবা মৃত মইনুল হকের প্রথম সংসারের একমাত্র ছেলে। তার মায়ের মৃত্যুর পর বাবা মইনুল হক মনজিলের খালাকে বিয়ে করেন। দ্বিতীয় ঘরের সংসারে তার তিন বোন ও এক ভাই রয়েছে। গত বছরের জুন মাসে মইনুল মারা যান। মারা যাওয়ার আগেই তিনি দুই ছেলেকে দুটি ফ্ল্যাট কিনে দেন। সেই ফ্ল্যাট দুটির একটিতে চার মাস আগে ওঠেছিলেন মনজিল।

মামলার বাদী ও নিহত মনজিলের চাচা ফারুক মিয়া বলেন, মনজিলের মা ছিলেন ধনাঢ্য পরিবারের এক মেয়ে। সেই সুবাদে মনজিল তার নানার বাড়ি বেশকিছু জমি পেয়েছিল। সেই জমির কিছু অংশ বিক্রিও করে। সাজগোজ পছন্দ করতো মনজিল। এ কারণে প্রতি মাসে নিত্য নতুন মোটরসাইকেল কিনে ব্যবহার করতেন। ছিল ইয়াবার নেশাও। জমি বিক্রির টাকা দিয়ে মনজিল ইয়াবা সেবন করতো। পাশাপাশি নতুন নতুন গাড়ি ও দামি পোশাক কিনে টাকা খরচ করত। মনজিল কোনো এক সময় বনশ্রী এলাকায় নিশিদের বাসার পাশে থাকত। সেই সূত্রে মনজিলের সঙ্গে নিশির প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডি’র ইন্সপেক্টর শামসুদ্দিন হায়দার বলেন, এ মামলায় নিশি ও দারোয়ান কালামকে পৃথকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তাদের দুই জনের বক্তব্যের মধ্যে গরমিল রয়েছে। এ ছাড়া এই ঘটনার পর থেকে মনজিলের সত্ভাই ইয়াসিন নিখোঁজের বিষয়টিও ভাবিয়ে তুলেছে। কী কারণে ইয়াসিন নিখোঁজ তাও তদন্ত করা হচ্ছে। পারিবারিক সম্পদের ভাগ-বাটোয়ারাকে কেন্দ্র করে অথবা প্রেমের জের ধরে এ ঘটনা ঘটেছে কি না তা তদন্ত করা হচ্ছে।

ইত্তেফাক/নূহু