সখীপুরে কর্মক্ষেত্রে মজুরি বৈষম্য মেনে নিয়েই পুরুষের সঙ্গে লড়তে হচ্ছে নারী শ্রমিকদের। পুরুষ শ্রমিকের সমান বা কখনও বেশি কাজ করেও কম মজুরি পাচ্ছেন তারা।
রবিবার টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে নারী শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য পাওয়া গিয়েছে। নারী শ্রমিকরা জানান, কর্মক্ষেত্রে মজুরির বৈষম্য জেনেও জীবিকার তাগিদে তারা কাজ করে যাচ্ছেন। তবে, পুরুষ শ্রমিকদের সঙ্গে সমান তালে কাজ করলেও কখনও পুরুষ সহকর্মী, কখনও ঠিকাদারের হাতে নিগৃহীত হতে হয় তাদের। এমনকি অনেক সময় নারী বলে কাজে নিতেও আপত্তি জানান ঠিকাদাররা।
কাজের ধরণ, সময় অনুসারে মুজরি নির্ধারণ করা হলেও নারীরা প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে পুরুষ শ্রমিকের অর্ধেক কিংবা তার চেয়েও কম মজুরি পান। পুরুষ শ্রমিক দৈনিক ৫-৬শত টাকা মজুরি পেলেও নারী শ্রমিককে দেওয়া হয় ৩০০ টাকা থেকে ৩৫০ টাকা। শুধু কর্মক্ষেত্রে নয়, অনেক ক্ষেত্রে ঘরেও নিগৃহীত হন তারা।
সরেজমিন সখীপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায় গ্রাম্য নারীরা শ্রমিকের কাজ করছেন। কেউ ধান কাটা, কেউ ইট-বালি ঝুড়িতে করে বহন করছেন।
উপজেলার আড়াইপাড়া এলাকায় ধান কাটার কাজ করছিলেন কয়েকজন নারী। তাদের নিজের জীবনযুদ্ধ বিষয়ে বললেন, সকালে ভোরে ঘুম থেকে উঠে ঘর গুছিয়ে, রান্না সেরে বের হতে হয়। কিন্তু একদিন কাজ না করলে তো সংসার চলবে না। ক্লান্তিহীনভাবে সন্ধ্যা পর্যন্ত কাজ করে ঘরে ফিরেও আবার সংসার সামলাতে হয় তাদের। তারা ধান কাটার জন্য দৈনিক মজুরি পাচ্ছেন ৩০০ থেকে সাড়ে ৩’শ টাকা। যেখানে পুরুষ শ্রমিকেরা পাচ্ছেন সাড়ে পাঁচশ থেকে ছয়শ টাকা। প্রতিবাদ করলে কেউ কাজ দেবে না।
সখিনার সঙ্গেই ধান কাটার কাজ করছেন রাবেয়া আক্তার। ঘামে ভেজা ক্লান্ত মুখে বললেন, কথা বলার সময় নেই। ক্ষেত মালিক কাজ ছেড়ে কথা বলতে দেখলে বকবেন। অনুরোধের পর রাবেয়া আক্তার বললেন, দিন মুজুরের কথা আর কে শোনে? আমরা তো আর আন্দোলন করতে পারব না। ছবি তুলে কি করবেন! তবে, সরকার যদি সব মালিককে বলে দিতেন, তাহলে আমরা সমান মজুরি পেতাম।
ইত্তেফাক/নূহু
